ইরানের সঙ্গে সমঝোতা না হলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্র নিতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে সুইজারল্যান্ডে আলোচনায় অংশ নেওয়া ইরানি প্রতিনিধিদলকেও সতর্ক করেছেন তিনি।
আজ রোববার ফক্স নিউজকে দেওয়া প্রায় ২০ মিনিটের এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।
সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ‘প্রয়োজনে আমরা হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেব। তারা যদি সমঝোতা না করে, তাহলে সেখানে চলাচলকারী জাহাজ থেকে টোল আদায় করব।’
এর আগে গতকাল শনিবার ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের জন্য ইসরায়েলকে দায়ী করে হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা দেয়।
এ প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি বন্ধ করলে ইরানের জন্য এর পরিণতি হবে ভয়াবহ।’ তিনি দাবি করেন, ইরানি কর্মকর্তাদের তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ‘তোমরা যদি এটি বন্ধ করো, তাহলে তোমাদের দেশই থাকবে না।’
ট্রাম্প আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালির ‘অভিভাবক’ হিসেবে দায়িত্ব নিতে পারে এবং ওই নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত তেলের ২০ শতাংশ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেবে।
হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার বিষয়ে ট্রাম্পের বক্তব্যের অর্থ কী—এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে সিএনএন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
এদিকে, লেবাননে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোকেও নতুন করে সতর্ক করেছেন ট্রাম্প। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লেখেন, ‘ইরানকে অবিলম্বে লেবাননে তাদের অর্থায়নে চলা প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোকে উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে হবে। তা না হলে ইরানে গত সপ্তাহের চেয়ে আরও কঠোর হামলা চালাব।’
উল্লেখ্য, সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে সুইজারল্যান্ডে আজ রোববার শুরু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যকার বহুল প্রতীক্ষিত উচ্চপর্যায়ের শান্তি আলোচনা। মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতারের পক্ষ থেকে বৈঠকটি শুরু হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। চলমান আলোচনার মধ্যেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এমন হুমকি দিলেন।