স্পোর্টস ডেস্ক : এবারের বিশ্বকাপে বিতর্কের শেষ নেই। শুক্রবার কানাডা এবং কাতার ম্যাচকে কেন্দ্র করে চূড়ান্ত বিশৃঙ্খলা। ভ্যাঙ্কুভারে আগাগোড়া ম্যাচের আধিপত্য ছিল কানাডার হাতে। ৬-০ তে ম্যাচ জেতে। কিন্তু খেলা শেষে যা হল, তাতে জয়ের উচ্ছ্বাস ফিকে। নব্বই মিনিটের শেষে বাঁশি বাজা মাত্র হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে দুই দলের ফুটবলাররা। ম্যাচে কাতারের আসিম মাদিবোর কড়া ট্যাকেলে গুরুতর আহত হন ইসমাইল কোনে। মিডফিল্ডারকে স্ট্রেচারে করে মাঠের বাইরে নিয়ে যেতে হয়। হোমাম আহমেদ লালকার্ড দেখে মাঠ ছাড়ার পর এটা দ্বিতীয় লালকার্ড। গোটা ম্যাচে একের পর এক কড়া ট্যাকেল করে কাতার। তাতে প্রচণ্ড চটে যায় কানাডা। খেলা শেষ হওয়ার পর মেজাজ হারায় দুই দলের ফুটবলাররা। এমনকী বচসায় জড়িয়ে পড়ে দুই দলের হেড কোচও। কানাডার হেড কোচ জেসে মার্চকে কাতারের জুলেন লেপেতেগুইকে কিছু বলতে শোনা যায়। মাঠের ঝামেলা নিয়ে অখুশি ছিল দুই কোচই। মাঠে কানাডার কাছে আত্মসমর্পণ করে কাতার। জোনাথন ডেভিডের হ্যাটট্রিকে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ জেতে কানাডা।
বৃহস্পতিবার কাতারকে ৬-০ গোলে হারিয়ে নকআউট পর্বে জায়গা করে নেয়। লাল কার্ডের জন্য ন'জনে নেমে যায় মধ্যপ্রাচ্যের দেশ। ইসমাইল কোনেকে কড়া চ্যালেঞ্জের জন্য লালকার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন আসিম মাদিবো। বাঁ পায়ে গুরুতর চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন কানাডার মিডিও। তার আগে তাজন বুকাননকে ফাউল করে মাঠ ছাড়েন হোমান আহমেদ।
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি ম্যাচে উপস্থিত ছিলেন। ফ্রান্সে জি ৭ সামিটের জন্য টরেন্টোতে কানাডায় প্রথম ম্যাচ মিস করেন। ফিফা সভাপতি গিয়ান্নি ইনফ্যান্টিনোর সঙ্গে বসে খেলা দেখেন।
ম্যাচের ১৬ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় এবং কানাডার প্রথম গোল করেন কাইলে লারিন। কাতার গোলকিপার মাহমুদ আবুনাডা ডেভিডের ভলি পাঞ্চ করে বিপদমুক্ত করেন। লারিনের সামনে পড়ে বল। কোনও ভুল করেননি। ২৯ মিনিটে ডান পায়ের ভলিতে ২-০ করেন ডেভিড। এক বছরের বেশি সময়ের পর গোল পান তিনি। ৩৩ মিনিটে লালকার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন আহমেদ। প্রথমে পেনাল্টি দেওয়া হলেও, VAR এ দেখে পরে বক্সের মুখে ফ্রিকিক দেওয়া হয়।
প্রথমার্ধের স্টপেজ টাইমে ৩-০ করে কানাডা। গোল করেন ডেভিড। ম্যাচের ৬৪ মিনিটে ৪-০ করে কানাডা। গোল করেন কোনের পরিবর্তে নামা নাথান সালিবা। ম্যাচের ৭৬ মিনিটে মহম্মদ মানাইয়ের আত্মঘাতী গোল। ম্যাচের স্টপেজ টাইমে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন ডেভিড। চলতি বিশ্বকাপের দ্বিতীয় হ্যাটট্রিক। প্রথমটি করেন লিওনেল মেসি।