শিরোনাম
◈ ঢাকায় যাত্রাবিরতিতে ভুটানের রাজা, স্বাগত জানালেন রাষ্ট্রপতি ◈ গ্যাস সংকট মোকাবিলায় রেশনিংয়ের সিদ্ধান্ত, উদ্যোক্তারা আনতে পারবেন ভোলার গ্যাস ◈ বাংলা‌দে‌শের বিরু‌দ্ধে দ্বিতীয় টে‌স্টে ইচ্ছে করেই এমন পিচ বানিয়েছে অস্ট্রেলিয়া : সু‌নীল গাভাস্কার ◈ চেন্নাই সুপার কিং‌সের ২৫ শতাংশ মালিকানা চেয়ে বসলেন ধোনি: না বলে দিলো সিএসকে, সম্পর্ক তলানিতে   ◈ সায়দাবাদে এসি বাসের জন্য আলাদা টার্মিনাল তৈরির সিদ্ধান্ত ◈ খুচরা বিক্রেতাদের সার বিক্রি অব্যাহত রাখতে নির্দেশ সরকারের ◈ আজ পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.), দেশজুড়ে নানা আয়োজন ◈ মিয়ানমারে সহিংসতা-নির্যাতনে বিপর্যস্ত মানুষ, রোহিঙ্গাদের অবস্থা আরও ভয়াবহ: জাতিসংঘ ◈ ‘উপহার’ হিসেবে বিনা খরচে ১০ হাজার কর্মী নেবে মালয়েশিয়া: প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী ◈ রংপুরে চার হত্যা: ‘ধর্ষণের আলামত’ নিয়ে ডোম-চিকিৎসকের বক্তব্যে ভিন্নতা

প্রকাশিত : ১৩ জুন, ২০২৬, ০৭:৫০ বিকাল
আপডেট : ২২ আগস্ট, ২০২৬, ০৮:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

জমির বদলে ফ্ল্যাট পেলেও দিতে হবে ১৫% ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স

নতুন অর্থবিলে প্রস্তাবিত পরিবর্তন অনুযায়ী, জমির মালিকদের এখন থেকে প্রাথমিক সাইনিং মানির পাশাপাশি ডেভেলপারদের কাছ থেকে পাওয়া ফ্ল্যাট বা অন্য যেকোনো আর্থিক সুবিধার মূল্যের ওপর ১৫ শতাংশ ক্যাপিটাল গেইনস ট্যাক্স দিতে হবে।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর প্রস্তাবিত উপস্থাপিত বিলের আয়কর বিধিতে এই পদক্ষেপ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য ডেভেলপারদের কাছ থেকে পাওয়া ফ্ল্যাট ও অন্যান্য অ-নগদ (নন-ক্যাশ) সুবিধাকে করযোগ্য লাভ হিসেবে বিবেচনা করে ক্যাপিটাল গেইনস ট্যাক্সের পরিধি আরও বাড়ানো।

বর্তমানে কোনো জমি মালিক ডেভেলপারের সঙ্গে চুক্তি করার সময় যে নগদ অর্থ পান, তা সাইনিং মানি হিসেবে পরিচিত এবং এর ওপর ১৫ শতাংশ ক্যাপিটাল গেইনস ট্যাক্স রয়েছে। তবে চুক্তির অংশ হিসেবে মালিকরা যে ফ্ল্যাট পান, তার ওপর কোনো কর দিতে হয় না। 

নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী এ নিয়মে পরিবর্তন আসবে। জমির পরিবর্তে যে অ্যাপার্টমেন্ট পাওয়া যাবে, তার মূল্য নির্ধারণ (ভ্যালুয়েশন) করা হবে সংশ্লিষ্ট এলাকার সরকারিভাবে নির্ধারিত বর্তমান মূল্য বা মৌজামূল্যের ভিত্তিতে। এরপর সেখান থেকে ওই সম্পদের অর্জনকালীন মূল্য বাদ দেওয়া হবে। বাকি টাকাকে ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স ধরে তার ওপর ১৫ শতাংশ কর আরোপ করা হবে।

যেভাবে কাজ করবে এই প্রক্রিয়া

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা টিবিএস-কে বলেন, দুই দশক আগে ৫০ লাখ টাকায় ১০ কাঠার একটি প্লট কিনে পরে তা ডেভলপারের কাছে হস্তান্তর করা জমির মালিকের ওপর বড় অঙ্কের করারোপ হতে পারে।

ওই কর্মকর্তা বলেন, ধরা যাক, কোনো ব্যক্তি ২০ বছর আগে ৫০ লাখ টাকায় ১০ কাঠা জমি কেনার পর এখন জমিটি ডেভেলপারকে দিয়ে ডেভেলপ করার সময় সাইনিং মানি হিসেবে পেয়েছেন ৫০ লাখ টাকা। তিনি ২০ অ্যাপার্টমেন্টের একটি প্রকল্প থেকে ১০টি অ্যাপার্টমেন্ট পেলে এবং মৌজামূল্য হিসেবে প্রতি অ্যাপার্টমেন্টের দাম ৫০ লাখ করে হলে ১০টির দাম হবে ৫ কোটি টাকা।

সাইনিং মানির অর্থসহ জমির মালিকের মোট অর্জন হবে ৫.৫ কোটি টাকা। সেখান থেকে তার অর্জনকালীন মূল্য হিসেবে আগের ৫০ লাখ টাকা বাদ যাবে। সেক্ষেত্রে তাকে ৫ কোটি টাকার উপর ১৫ শতাংশ হিসেবে ৭৫ লাখ টাকা বাড়তি ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স দিতে হবে। 

এই করের পরিমাণ এলাকাভেদে ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে। বিশেষত কেউ যদি পৈত্রিক সূত্রে জমি পান এবং ওই জমি বেশ আগে অর্জন হয়ে থাকে, সেক্ষেত্রে তার অর্জন মূল্য কম হবে। ফলে বর্তমান মৌজামূল্য হিসেবে বেশি কর আসতে পারে।

বর্তমানে এলাকাভেদে জমির পাশাপাশি অ্যাপার্টমেন্টের মৌজামূল্য নির্ধারিত রয়েছে। মৌজামূল্য নির্ধারণ কমিটি এই দর হালনাগাদ করে থাকে। 

খাত সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশে বছরে ১০ হাজারের বেশি ফ্ল্যাট বিক্রি হয়, যার বাজারমূল্য ১০ হাজার কোটি টাকার বেশি।

খাতসংশ্লিষ্টদের উদ্বেগ

ডেভেলপার ও কর বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এ ট্যাক্স বাস্তবায়ন করতে গেলে সম্পত্তির প্রকৃত মূল্য কম দেখানোর প্রবণতা তৈরি হতে পারে এবং করফাঁকির প্রবণতা বাড়তে পারে। 

আর ফাঁকির সুযোগ না থাকলে তখন এপার্টমেন্ট এর দাম বেড়ে যাবে, যা বিক্রেতার বদলে ক্রেতার উপরই পড়তে পারে।

রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) সাবেক সহসভাপতি এম এ আউয়াল টিবিএসকে বলেন, 'যদি ট্যাক্সের আওতায় আনে, সেক্ষেত্রে প্রকৃত মূল্য গোপন করে করফাঁকির প্রবণতা বাড়বে। সেজন্য এক্ষেত্রে ট্যাক্স না বাড়ানোই যৌক্তিক হবে।'

কর বিশেষজ্ঞ এবং স্নেহাশীহ মাহমুদ অ্যান্ড কোম্পানির ম্যানেজিং পার্টনার স্নেহাশীহ বড়ুয়া বলেন, করদাতাদের মধ্যে ইতিমধ্যেই সম্পত্তির প্রকৃত মূল্য কম দেখানোর প্রবণতা রয়েছে।

'এমনিতেই মানুষ প্রকৃত মূল্য দেখায় না। জমির মালিকদের ওপর যদি বাড়তি কর আসে, তাহলে আরো গোপন করার প্রবণতা বাড়বে। কারণ বেশি আয় দেখালে বেশি কর দিতে হবে,' বলেন তিনি।

আবাসন খাতের ব্যবসায়ীরা সতর্ক করে বলেন, এই কর যদি বাস্তবায়ন করা হয় এবং মূল্য গোপনের সুযোগ কমে আসে, তাহলে এই অতিরিক্ত করের বোঝায় অ্যাপার্টমেন্টের দাম বেড়ে যাবে। এতে বিক্রেতার বদলে ক্রেতারাই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

'বিপুল রাজস্ব আদায়ের সম্ভাবনা'

তবে এনবিআর কর্মকর্তারা বলছেন, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আদায় সম্ভব। এনবিআরের সাবেক সদস্য সৈয়দ মো. আমিনুল করিম বলেন, 'সরকারি ভ্যালুয়েশনের ভিত্তিতে হিসাব করা হলেও এই পদক্ষেপের মাধ্যমে বড় অঙ্কের রাজস্ব আদায়ের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।'

তিনি মনে করেন, প্রকৃত বাজারমূল্যের ওপর ভিত্তি করে কর নির্ধারণ করা গেলে আরও অনেক বেশি রাজস্ব পাওয়া যেত। 'তারপরও রাষ্ট্রীয় রাজস্ব বাড়ানোর ক্ষেত্রে এটি প্রশংসনীয় পদক্ষেপ।'

আমিনুল করিম আরও বলেন, এই নীতি সাধারণ বা স্বল্প আয়ের মানুষের ওপর কোনো অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা চাপাবে না। কারণ এ কর মূলত পরোক্ষভাবে বড় ধরনের সম্পদ ও সম্পত্তির ওপরই আরোপ করা হচ্ছে।

সূত্র: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড

  • সর্বশেষ