স্পোর্টস ডেস্ক : অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ের পর স্বাভাবিকভাবেই বাংলাদেশ দলকে নিয়ে সাড়া পড়েছে ক্রিকেট বিশ্বে। এই সাফল্যের ধারাবাহিকতা নিজেদের পরবর্তী সফরেও ধরে রাখবে বাংলাদেশ, এমনটাই বিশ্বাস করছেন এবি ডি ভিলিয়ার্স।
আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের সিরিজ খেলতে আগামী নভেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরেই যাবে বাংলাদেশ। সেখানে জোহানেসবার্গ ও সেঞ্চুরিয়নে দুটি টেস্ট খেলবে তারা। অস্ট্রেলিয়ায় ভালো করার কারণে এবার বাংলাদেশকে নিয়ে তাই বড় আশাই দেখছেন সাবেক প্রোটিয়া অধিনায়ক।
শুধু অস্ট্রেলিয়ার সফরই নয়, সাম্প্রতিক সময়ে টেস্ট ক্রিকেটে ভালো ছন্দেই আছে বাংলাদেশ। সবশেষ ১২ টেস্টের ৭টিই জিতেছে তারা। যার সৌজন্যে নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবার উঠেছে আইসিসি র্যাঙ্কিংয়ের ছয় নম্বরে।
এছাড়া ছয় ম্যাচে ৪০ পয়েন্ট (৫৫.৫৬ শতাংশ) নিয়ে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকাতেও তাদের অবস্থান চার নম্বরে। আর এমন সাফল্যের বড় কারিগর বাংলাদেশের পেসাররা। হাসান মাহমুদ, শরিফুল ইসলাম, নাহিদ রানাদের তোপেই মূলত একের পর এক টেস্ট জয় করছে তারা।
আর দক্ষিণ আফ্রিকার কন্ডিশনে পেসারদের জন্যই থাকে বাড়তি সুবিধা। তাই এক পডকাস্টে এবি ডি ভিলিয়ার্স বলেছেন, সামনের সফরে ভালো লড়াই করতে পারে বাংলাদেশ দল।
“আমার মনে হয়, দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশ ভালো লড়াই করবে। বিশেষ করে ব্যাটারদের জন্য দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বের অন্যতম কঠিন জায়গা। এখানে বল পিচে পড়ার পর শুধু সুইং-ই করে না, একইসঙ্গে সিম মুভমেন্ট থাকে। খুব বেশি ব্যাটার এমন কন্ডিশনে অভ্যস্ত নয়। তাই সামলানো সত্যিই কঠিন।
প্রায় ১৪ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে দেশের মাঠেই ৯ হাজার ৪০০ রান করেছেন ডি ভিলিয়ার্স। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ৪৭টি সেঞ্চুরির মধ্যে ২২টিই তিনি করেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে। তাই ঘরের মাঠের ব্যাটিংয়ের ধরন ভালোভাবেই জানা তার।
তাই নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই ব্যাটারদের পরামর্শও দিলেন ডি ভিলিয়ার্স।
আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, এমন পরিস্থিতি সামলাতে আমার কয়েকটি কৌশল ছিল। কখনও ক্রিজ ছেড়ে একটু এগিয়ে আসতাম, কখনও পুরোপুরি স্টাম্প ঢেকে খেলতাম, আবার কখনও স্টাম্প উন্মুক্ত রাখতাম। পরিস্থিতি কী চাইছে, সেটার ওপর নির্ভর করেই সিদ্ধান্ত নিতাম।
এই ধরনের সিমিং কন্ডিশনে এভাবেই খেলতে হয়। শুধু স্টাম্প ঢেকে রেখে সারা দিন টিকে থাকার চেষ্টা করলে হবে না। আপনাকে ইতিবাচক ও সক্রিয় থাকতে হবে। জোহানেসবার্গে আগামী ১৫ নভেম্বর শুরু হবে দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্ট। পরে সেঞ্চুরিয়নে দ্বিতীয় টেস্ট মাঠে গড়াবে ২৩ নভেম্বর থেকে।