শিরোনাম
◈ সৌদি আরবের সংকটে শাহজালালে সরাসরি ও ট্রানজিটের ৮২ ফ্লাইটযাত্রায় বিঘ্ন, ভোগান্তিতে ১৩ হাজারের বেশি যাত্রী ◈ ২ দিন বন্ধের ঘোষণায় সংকট, বেশি দামেও মিলছে না এলপিজি সিলিন্ডার ◈ ৩৫ বছরের পর আইনজীবী হওয়ার সুযোগ থাকছে না, জানালেন আইনমন্ত্রী ◈ ডিসি-এসপির সহায়তায় ৩০ ঘণ্টা পর মুক্ত হলেন চুয়েট উপাচার্য, ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান (ভিডিও) ◈ দুর্দান্ত লড়াই করে বাংলা‌দে‌শের বিরু‌দ্ধে ম্যাচ ড্র করলো আফগানিস্তান ◈ ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টকে কামড়, বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার হলিউড অভিনেত্রী ◈ বাংলাদেশে নতুন জঙ্গি সংগঠন ‘ইতেহাদুলউম্মাহ’, বিদেশি যোগসূত্র খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা (ভিডিও) ◈ নিউইয়র্কে অপ্রীতিকর ঘটনার পর এখন কেমন আছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস, যা জানালেন লামিয়া মোর্শেদ ◈ সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি নীতিমালা প্রকাশ: প্রথম শ্রেণিতে লটারি, দ্বিতীয়-নবম শ্রেণিতে লিখিত পরীক্ষা ◈ সংবিধান সংশোধনে বিরোধী দলকে আবারও আলোচনায় আসার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

প্রকাশিত : ২০ আগস্ট, ২০২৬, ০৮:১১ রাত
আপডেট : ২২ আগস্ট, ২০২৬, ০৮:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

হারিয়ে যাওয়া দেশি মাছ ফিরছে রংপুরের জলাশয়ে, বাড়ছে উৎপাদন

রংপুর অঞ্চলের নদী-নালা, খাল-বিল একসময় প্রায় ২০০ প্রজাতির মাছের নিরাপদ আশ্রয়স্থল ছিল। জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশগত নানা কারণে এসব মাছের অনেক প্রজাতি বিলুপ্তির পথে চলে যায়। তবে মৎস্য চাষি ও মৎস্য বিভাগের মাঠপর্যায়ের উদ্যোগে গত পাঁচ বছরে দেশি কৈ, শিং, মাগুর, টেংরা, পাবদা ও মলা জাতীয় মাছের চাষে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

রংপুর মৎস্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বিভাগের পাঁচ জেলায় গত বছরের জুন থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত এক হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে প্রায় ৬ হাজার মেট্রিক টন দেশি প্রজাতির মাছ উৎপাদিত হয়েছে। এসব মাছ চাষের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন প্রায় ১০ হাজার চাষি।

মৎস্য বিভাগের হিসাবে, প্রতি কেজি মাছের দাম গড়ে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা ধরে ৬ হাজার মেট্রিক টন মাছের বাজারমূল্য ২৫০ কোটি টাকার বেশি। ফলে বিলুপ্তপ্রায় দেশি মাছ চাষ করে উল্লেখযোগ্য আয় করছেন চাষিরা।

রংপুর অঞ্চলে মাছের ঘাটতি থাকলেও দেশের রাজশাহী, ময়মনসিংহ, খুলনা ও চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন অঞ্চলে মাছের উদ্বৃত্ত উৎপাদন রয়েছে। মৎস্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, রংপুর বিভাগে এখনো প্রায় ৭ হাজার মেট্রিক টন মাছের ঘাটতি রয়েছে। এই ঘাটতি পূরণে বিলুপ্তপ্রায় দেশি মাছের চাষকে সম্ভাবনাময় হিসেবে দেখছে মৎস্য বিভাগ।

Advertisement

মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে, মাছের উৎপাদন বাড়াতে রংপুর অঞ্চলের বিভিন্ন উপজেলায় একাধিক মাছের অভয়াশ্রম গড়ে তোলা হয়েছে। পাশাপাশি দেশি মাছ চাষে চাষিদের উৎসাহিত করা হচ্ছে। বিশেষ করে কৈ, পাবদা, টেংরা, শিং ও মাগুরের উৎপাদন বাড়াতে নেওয়া হয়েছে সরকারি উদ্যোগ।

মাছ বিক্রেতা সোনা চন্দ্র বলেন, কয়েক বছর আগেও বাজারে দেশি মাছ পাওয়া কঠিন ছিল। এখন নদী-নালা ও জলাশয়ের পাশাপাশি বদ্ধ পুকুরেও এসব মাছের চাষ হচ্ছে। ফলে বাজারে দেশি মাছের সরবরাহও বেড়েছে।

মৎস্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানুষের নানা কর্মকাণ্ডে পরিবেশের পরিবর্তন এবং জলাশয়ের ওপর বিরূপ প্রভাবের কারণে দেশি অনেক মাছ হারিয়ে যেতে বসেছিল। দাড়ি, টিলা, কালাবাটা, ঘোড়া, পুঁটি, বোয়াল, চিতল, গজার, রিটা, বটশিং, ঘাউড়া, শালবাইম, কাচকি, ফলি ও শিলবাইলা–সহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ একসময় কমে গিয়েছিল। তবে উপযুক্ত পরিবেশ ও পরিকল্পিত চাষের কারণে বিলুপ্তির পথে থাকা অনেক প্রজাতিই আবার পাওয়া যাচ্ছে।

রংপুর মৎস্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, এ অঞ্চলের মাছের ঘাটতি পূরণে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশি কৈ, পাবদা, টেংরা, শিং ও মাগুরের উৎপাদন বাড়াতে সরকারি পর্যায়ে বিভিন্ন কার্যক্রম চলছে। এসব উদ্যোগের ফলে আগামী দুই-এক বছরের মধ্যে রংপুর অঞ্চলে মাছের ঘাটতি থাকবে না বলে আশা করছে মৎস্য বিভাগ।

  • সর্বশেষ