স্পোর্টস ডেস্ক : ৪৭৯ রানের লক্ষ্য, জয়ের জন্য শেষ দিনে বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ৭ উইকেট। কিন্তু আবুধাবিতে শেষ ঘণ্টার রোমাঞ্চ জমিয়ে দিলেন আফগানিস্তানের ব্যাটসম্যানরা। সেদিকউল্লাহ আতালের ১০৫ রানের ইনিংস থামিয়ে তাইজুল ইসলাম যখন বাংলাদেশকে জয়ের আরও কাছে নিয়ে গেলেন, তখনো আফগানিস্তানের হাতে ছিল ৩ উইকেট।
শেষ বিকেলে উইকেটের জন্য মরিয়া বাংলাদেশের বোলাররা, আর ক্রিজে টিকে থেকে ম্যাচ বাঁচানোর লড়াইয়ে আফগানরা। শেষ পর্যন্ত সেই লড়াইয়ে জয় হলো আফগানদের প্রতিরোধের, আক্ষেপ বাড়ল বাংলাদেশের—আবুধাবি টেস্ট শেষ হলো ড্রয়ে। চতুর্থ ইনিংসে রেকর্ড ১৪২ ওভার ব্যাট করে ড্র উপহার দিয়ে টেস্টের রোমাঞ্চ আরও একবার জানান দিলো আফগানরা।--- ডেইলি ক্রিকেট
৩ উইকেটে ১৩২ রান নিয়ে পঞ্চম দিনের খেলা শুরু করেছিল আফগানিস্তান। বড় লক্ষ্য তাড়া করার চেয়ে ড্র নিশ্চিত করাই ছিল তাদের মূল পরিকল্পনা। দিনের শুরুতে সতর্ক ব্যাটিংয়ে সময় পার করেন সেদিকুল্লাহ আতাল ও হাশমতউল্লাহ শহীদি। পরে প্রচণ্ড গরমে ক্র্যাম্পের কারণে মাঠ ছাড়তে হয় হাশমতউল্লাহকে। পরে অবশ্য আবার ব্যাটিংয়ে ফেরেন তিনি।
শুরু থেকে উইকেটের দেখা না পেলেও লাঞ্চের আগে উইকেটের দেখা পায় বাংলাদেশ। এবাদত হোসেনের বলে পুল করতে গিয়ে উইকেটকিপার লিটন দাসের দুর্দান্ত ক্যাচে ফেরেন ইকরাম আলিখিল। ৩৩ রান করে থামে তার ইনিংস। এরপর ইসমত আলমকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন মেহেদী হাসান মিরাজ। পরে শহীদিকে সাজঘরে ফেরান তিনিই। ৩৬ রান করে বিদায় নেন আফগান অধিনায়ক।
অন্য প্রান্তে অবিচল ছিলেন আটাল। দীর্ঘ ৩৩২ বলের ইনিংসে ৯টি চার ও ৩টি ছক্কায় ১১১ রান করে টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নেন এই ওপেনার। শেষ পর্যন্ত তাইজুল ইসলামের ঘূর্ণিতে থামে তার লড়াই। তখন মনে হচ্ছিল বাংলাদেশের জয় কেবল সময়ের অপেক্ষা।
কিন্তু সেই আশা ভেঙে দিয়ে শেষদিকে আফগানদের লেজের সারির ব্যাটাররা দেখান দৃঢ়তা। একের পর এক বল ফিরিয়ে বদলে দেন পুরো ম্যাচের চিত্র। ইয়ামিন আহমাদজাই ও কায়েস আহমেদ উইকেট আগলে রেখে বন্ধ করে দেন বাংলাদেশের জয়ের পথ।
শেষদিকে, মিরাজ ৮৫ বল খেলে ১৯ রান করা ইয়ামিনকে সাজঘরে ফেরালে আবারও আশার আলো দেখতে পায় বাংলাদেশ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জিয়া আকবরকে নিয়ে দৃঢ়তা দেখিয়ে ম্যাচকে ড্রয়ের বন্দরে নিয়ে যান কায়েস। এদিকে, একের পর এক সুযোগ হাতছাড়া করে শেষ পর্যন্ত ড্র মেনে নিতে হয় বাংলাদেশকে। বাংলাদেশের হয়ে এবাদত হোসেন ও মেহেদী হাসান মিরাজ তিনটি করে উইকেট নেন। হাসান মাহমুদ ও নাঈম হাসান পান একটি করে উইকেট।