শিরোনাম
◈ ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক নিয়ে ত্রিবেদীর দৌড়ঝাঁপ ◈ চসিক মেয়রের হস্তক্ষেপে গ্রেফতার এড়ালেন শীর্ষ সন্ত্রাসী বগা, পুলিশের অভিযান ব্যর্থ ◈ ৭৫ কোটি টাকায় বদলে যাবে ধানমন্ডি লেক, হবে ‘নজরুল সরোবর’ ◈ ৩০ গ্রামের ৫ লাখ নারী বদলে দিচ্ছেন গ্রামীণ অর্থনীতি, বছরে আসে ৫০ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা ◈ তালাকের আগেই দেনমোহর চাইতে পারবেন স্ত্রী: হাইকোর্ট ◈ ৫ বছরে ১ কোটি কর্মী পাঠাতে কতটা প্রস্তুত বাংলাদেশ ◈ প্রবাসীদের জন্য বড় সুখবর, নতুন ভিসা সুবিধা চালু করল সৌদি আরব ◈ রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিভাজনের কারণে গৃহযুদ্ধের ঝুঁকি, যেকোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে ইসরায়েল: সিআইএ ◈ বিশ্বের সেরা ৫০০ শহরের তালিকা থেকে বাদ ঢাকা, পিছিয়েছে বাংলাদেশের সব বড় শহর! ◈ সেন্টমার্টিনে বিনামূল্যে খতনা করিয়ে অর্ধশতাধিক শিশুর ইনফেকশন ও রক্তক্ষরণ

প্রকাশিত : ০৭ অক্টোবর, ২০২৬, ০৬:০২ বিকাল
আপডেট : ০৭ অক্টোবর, ২০২৬, ০৭:০৩ বিকাল

প্রতিবেদক : এল আর বাদল

অনেকেই চাননি আমরা জিতি, বিদায়ী ম্যাচ শেষে মে‌সির বিতর্কিত মন্তব্য  

স্পোর্টস ডেস্ক : বিদায়ী ম্যাচের পর যখন কিছু বলার জন্য তাঁর হাতে মাইক্রোফোন তুলে দেওয়া হল, তখন বেশ আবেগপ্রবণ শোনাচ্ছিল তাঁর গলা। কী বলবেন সেটা ভাবছিলেন। তার পর একে একে অনেক কথাই উঠে এল লিয়োনেল মেসির মুখে। সেখানে যেমন ছিল সমালোচকদের কথা, তেমনই ছিল বিশ্বকাপে খেলা ইংল্যান্ড ম্যাচের কথা। সতীর্থদের যেমন ধন্যবাদ জানিয়েছেন, তেমনই নিজের জীবনের সেরা মুহূর্তগুলি তুলে ধরেছেন। মেসির পুরো বক্তব্য তুলে ধরা হল:

এই জার্সিটাকে ধন্যবাদ জানানো ছাড়া আর কোনও ভাষা নেই। তবে এই জার্সিকে দেওয়ার মতো আর কিছু পড়ে নেই আমার কাছে। ২০ বছর ধরে, কঠিনতম মুহূর্তেও কখনও লড়াই ছাড়িনি। এগিয়ে গিয়েছি এবং নিজের সেরাটা দিয়েছি আজ এখানে থাকার জন্য।

আর এখানে আসব না এবং আর্জেন্টিনা দলের সঙ্গে থাকব না, এটা ভেবে খুবই ব্যথা লাগছে। যদি নিজের ইচ্ছায় সব হত, তা হলে সারা জীবন এখানে থাকতাম। আর্জেন্টিনার হয়ে খেলা সবচেয়ে সুন্দর ব্যাপার। আজ অনেক কথা বলছি কারণ, এই মুহূর্তটা শেষ হোক এটা চাই না।

তবে অবসরের সময় এসে গিয়েছে। আগের বিশ্বকাপে আমরা সকলে নিজেদের নিংড়ে দিয়েছি। ফাইনালও খেলতে নেমেছিলাম অনেক শক্তি নিয়ে। বরাবরের মতো শেষ পর্যন্ত লড়ে গিয়েছি। বিশ্বকাপ জিতে নিজের এবং গোটা দেশের স্বপ্ন পূরণ করার খুব কাছে চলে গিয়েছিলাম। প্রায় জিতেই গিয়েছিলাম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পারিনি।

Advertisement

ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচ আমাদের কাছে খুব কঠিন গিয়েছিল। বিশ্বকাপের পর অনেকেই সেই ম্যাচ নিয়ে অনেক কথা বলেছেন। মানসিক এবং শারীরিক ভাবে আমরা নিজেদের শেষ সীমায় চলে গিয়েছিলাম। সমস্ত শক্তি দিয়ে সতীর্থদের সঙ্গে নিয়ে প্রচুর লড়াই করেছি।

২০২২-এ আমরা শুধু নিজেদের নয়, গোটা দেশের স্বপ্ন পূরণ করেছিলাম। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হতে পেরেছিলাম। বিশ্বকাপ জিতেছি, কোপা আমেরিকা, ফাইনালিসিমা জিতেছি। জাতীয় দলের হয়ে এই সব মুহূর্ত কাটাতে পেরে আমি আপ্লুত।

তবে এই যাত্রাটা কেবল ২০২২ বা গত বারের বিশ্বকাপ নিয়ে নয়। আমার সঙ্গে অনেক সতীর্থ লড়াই করেছে বলেই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হতে পেরেছি। ওরা আর্জেন্টিনার হয়ে কতটা লড়াই করেছে তা নিয়ে কারও কোনও সন্দেহ থাকার কথা নয়।

মাঠে এবং মাঠের বাইরে সতীর্থদের সঙ্গে সময় কাটাতে পেরে আমি আপ্লুত এবং সম্মানিত। যত বার মাঠে নেমেছি, জানতাম যে কোনও দলের বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারব। কারণ আমার দলে সকলেই যোদ্ধা যার মাঠে নিজেদের সেরাটা নিংড়ে দিতে পারে।

বড় কিছু অর্জন করতে হলে ভাল দল চাই। সবচেয়ে কঠিন মুহূর্তেই আপনি বুঝতে পারেন কেমন দল রয়েছে। যা অর্জন করেছি তার নেপথ্যে এই দলটাই রয়েছে। বিশেষ করে এখনকার দলকে বলতে চাই, ধন্যবাদ। ছোটবেলা থেকে যে স্বপ্ন দেখে এসেছিলাম তা পূরণ করতে ওরা সাহায্য করেছে। আমাকে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন করেছে।

সব সমর্থককে ধন্যবাদ জানাতে চাই। আর্জেন্টিনার প্রচুর শহরে খেলেছি। যেখানেই গিয়েছি প্রচুর ভালবাসা পেয়েছি। এত বছর ধরে বিশ্বের যত স্টেডিয়ামে খেলেছি, সব জায়গায় প্রচুর আর্জেন্টিনীয় খেলা দেখেছেন। যতই দূরে খেলা হোক, অনেক কষ্ট করে সমর্থকেরা খেলা দেখতে গিয়েছেন। আমরা জানি কতটা কঠিন সেটা। বিশ্বের যেখানেই খেলতে যা-ই না কেন, মনে হত নিজের দেশে খেলেছি। এতটাই সমর্থন করেছেন আপনারা।

এই সমর্থন চালিয়ে যেতে হবে। কঠিন মুহূর্ত আসবে। তখন আগের চেয়েও বেশি সমর্থন করতে হবে। শক্তিশালী, ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। কারণ অনেকেই চান জাতীয় দল ব্যর্থ হোক। তাঁদের সেই সন্তুষ্টি আমরা দেব না।

এই স্টেডিয়ামে জীবনের অন্যতম সেরা সুখের মুহূর্ত কাটিয়েছি। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর এখানেই প্রথম ম্যাচ খেলেছিলাম। দারুণ ছিল দিনটা। আজ হয়তো এখানে অনেকেই দুঃখী আমি বিদায় নিচ্ছি বলে।

আপনাদের সকলকে মিস্ করব। কিন্তু সব সময় পাশে থাকব। এই ছেলেদের পাশে থাকব সব সময়। আপাতত অনেকটা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছি। যা বলতে চেয়েছিলাম তার অনেক কিছুই ভুলে যাচ্ছি। কথা বলাটা এই মুহূর্তে কঠিন হয়ে যাচ্ছে। সবার আগে বাবার কথা মনে পড়ছে। এখানে খেলতে আসা মিস্ করব। আমি গর্বিত আর্জেন্টিনীয়।

আপ্লুত, গর্বিত এবং শান্তিতে বিদায় নিচ্ছি। সব কিছুর জন্য ধন্যবাদ।

  • সর্বশেষ