শিরোনাম
◈ সৌদি আরবের সংকটে শাহজালালে সরাসরি ও ট্রানজিটের ৮২ ফ্লাইটযাত্রায় বিঘ্ন, ভোগান্তিতে ১৩ হাজারের বেশি যাত্রী ◈ ২ দিন বন্ধের ঘোষণায় সংকট, বেশি দামেও মিলছে না এলপিজি সিলিন্ডার ◈ ৩৫ বছরের পর আইনজীবী হওয়ার সুযোগ থাকছে না, জানালেন আইনমন্ত্রী ◈ ডিসি-এসপির সহায়তায় ৩০ ঘণ্টা পর মুক্ত হলেন চুয়েট উপাচার্য, ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান (ভিডিও) ◈ দুর্দান্ত লড়াই করে বাংলা‌দে‌শের বিরু‌দ্ধে ম্যাচ ড্র করলো আফগানিস্তান ◈ ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টকে কামড়, বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার হলিউড অভিনেত্রী ◈ বাংলাদেশে নতুন জঙ্গি সংগঠন ‘ইতেহাদুলউম্মাহ’, বিদেশি যোগসূত্র খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা (ভিডিও) ◈ নিউইয়র্কে অপ্রীতিকর ঘটনার পর এখন কেমন আছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস, যা জানালেন লামিয়া মোর্শেদ ◈ সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি নীতিমালা প্রকাশ: প্রথম শ্রেণিতে লটারি, দ্বিতীয়-নবম শ্রেণিতে লিখিত পরীক্ষা ◈ সংবিধান সংশোধনে বিরোধী দলকে আবারও আলোচনায় আসার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

প্রকাশিত : ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ০১:৪৭ রাত
আপডেট : ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ০১:৫১ রাত

প্রতিবেদক : মনজুর এ আজিজ

২ দিন বন্ধের ঘোষণায় সংকট, বেশি দামেও মিলছে না এলপিজি সিলিন্ডার

মনজুর এ আজিজ: এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির ২দিন সারাদেশে দোকান বন্ধ রাখার ঘোষণার পর বেড়েছে সংকট। চাহিদা অনুযায়ী মিলছে না এলপিজি সিলিন্ডার। কোনো বিক্রেতার কাছে দিনে ২০০টির অর্ডার থাকলেও সরবরাহ পাচ্ছেন মাত্র ৫০টি। কোথাও ৭০ থেকে ৮০টি সিলিন্ডারের চাহিদার বিপরীতে মিলছে মাত্র ২০টি। এর মধ্যে দুই দিন সারাদেশে এলপিজি বিক্রি বন্ধ রাখার ঘোষণায় ক্রেতাদের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ১২ কেজির একটি সিলিন্ডার কিনতে সরকারি নির্ধারিত দামের চেয়ে ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা বেশি দামে গুনতে হচ্ছে ক্রেতাদের।

মঙ্গলবার রাজধানীর মোহাম্মদপুর, আদাবর, ধানমন্ডি, ফার্মগেট ও কারওয়ান বাজার এলাকার এলপিজি বিক্রির দোকানগুলো ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। বিক্রেতারা বলছেন, কয়েক দিন ধরেই সরবরাহে ঘাটতি চলছে। তবে সোমবার থেকে চাহিদা আরও বেড়েছে। ক্রেতারা একের পর এক ফোন করলেও অনেককে সিলিন্ডার দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকার এক বিক্রেতা জানান, মঙ্গলবার তার কাছে ২০০টি সিলিন্ডারের অর্ডার ছিল। কিন্তু কোম্পানি থেকে সরবরাহ পেয়েছেন মাত্র ৫০টি। ফলে ক্রেতাদের চাহিদা পূরণ করতে পারছেন না তিনি। একের পর এক ফোন এলেও সরবরাহের ঘাটতির কারণে ক্রেতাদের পরিস্থিতি বোঝানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

ধানমন্ডির শংকর এলাকার আরেক বিক্রেতা জানান, প্রতিদিন তার ৭০ থেকে ৮০টি সিলিন্ডারের চাহিদা থাকে। অথচ মঙ্গলবার পেয়েছেন মাত্র ২০টি। সরবরাহ কম থাকায় নতুন করে অনেক ক্রেতার অর্ডারও নিতে পারছেন না তিনি।
ফার্মগেট এলাকার এক বিক্রেতা বলেন, আগে অর্ডার দেওয়া ক্রেতাদের অগ্রাধিকার দিয়ে সিলিন্ডার সরবরাহ করছেন। নতুন অর্ডার নিয়ে রাখছেন। সরবরাহ এলে সেগুলো দেওয়ার চেষ্টা করবেন।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার বিক্রেতাদের ভাষ্য, সিলিন্ডার পেতে ক্রেতারা ফোন করছেন, আবার অনেকে সরাসরি দোকানে এসেও খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন। কোথাও অল্পসংখ্যক সিলিন্ডার থাকায় কয়েকজন ক্রেতাকে দেওয়া সম্ভব হলেও বাকিদের অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

Advertisement

এলপিজির সরবরাহ সংকটের মধ্যে বাড়তি দামে বিক্রির অভিযোগও পাওয়া গেছে। গত ৪ অক্টোবর বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করে। তবে মঙ্গলবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় একই সিলিন্ডার বিক্রি হতে দেখা গেছে ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ২৫০ টাকায়। অর্থাৎ নির্ধারিত দামের চেয়ে ক্রেতাদের ৩৬৩ থেকে ৪১৩ টাকা বেশি দিতে হচ্ছে।

মোহাম্মদপুরের একটি দোকানে ৪৫ কেজির সিলিন্ডারের দাম চাওয়া হচ্ছে ৬ হাজার ৩০০ টাকা। সেখানে ১২ কেজির সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ২০০ টাকায়। আর ৫ কেজির সিলিন্ডার বোতলসহ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৮০০ টাকায়।
ওই দোকানের এক কর্মচারী জানান, মঙ্গলবার ১২ কেজির ৪০টি সিলিন্ডারের অর্ডার থাকলেও সরবরাহ এসেছে মাত্র ২০টি। ক্রেতাদের ফোনের চাপ এত বেশি যে, অনেকের চাহিদা পূরণ করা যাচ্ছে না।

এলপিজি ব্যবসায়ীদের হয়রানি বন্ধসহ কয়েক দফা দাবিতে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার সারা দেশে দোকান বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে। এ দুই দিন এলপিজি বিক্রি বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি। দাবি পূরণ না হলে পরবর্তী সময়ে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা।

এই ঘোষণার পর বাজারে সিলিন্ডারের চাহিদা বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। দুই দিন বিক্রি বন্ধ থাকলে প্রয়োজনের সময় গ্যাস পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন ক্রেতারা। ফলে অনেকে আগেভাগেই সিলিন্ডার কিনতে দোকানে ভিড় করছেন।

ধানমন্ডির শংকর এলাকার এক ক্রেতা জানান, তার বাসায় থাকা সিলিন্ডারের গ্যাস দিয়ে আরও দুই থেকে তিন দিন চলবে। কিন্তু দুই দিন বিক্রি বন্ধ থাকার খবর শুনে আগেই নতুন সিলিন্ডার কিনতে এসেছেন। গ্যাস না পেলে তার ফুটপাতের চায়ের দোকান বন্ধ রাখতে হবে।

সব মিলিয়ে সরবরাহ ঘাটতি, বাড়তি দাম এবং বিক্রি বন্ধের ঘোষণায় রাজধানীর এলপিজি বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে। দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে সাধারণ ক্রেতাদের ভোগান্তি আরও বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

  • সর্বশেষ