ডেস্ক রিপোর্ট : ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনী সৌদি আরবের আরামকো তেল স্থাপনাগুলোর আশপাশের সব বেসামরিক নাগরিক ও কর্মীকে দ্রুত সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোকে বৈধ সামরিক লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ঘোষণা করেছে তারা। মঙ্গলবার একাধিক বিবৃতিতে ইয়েমেনের সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি সৌদি আরবের হামলার জবাবে পাল্টা হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দেন।
সারি বলেন, সৌদি আরামকোর যেকোনো স্থাপনার কাছাকাছি অবস্থানরত সব কর্মী ও নাগরিককে ওই এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার এবং সেখান থেকে দূরে থাকার সতর্কবার্তা দিচ্ছে ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনী। এসব স্থাপনা আমাদের বাহিনীর জন্য বৈধ লক্ষ্যবস্তু। --- পার্সটুডে
বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি এড়াতে দ্রুত এলাকা ছেড়ে যাওয়ার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। ইয়েমেনের এই জরুরি সতর্কবার্তার আগে যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের একজন মুখপাত্র সানার একটি এলাকা খালি করার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি মানচিত্র সংযুক্ত করে লেখেন, “বেসামরিক নাগরিকদের নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে সানায় ইয়েমেন পেট্রোলিয়াম কোম্পানির আল-সাবাহা কেন্দ্রীয় স্টেশনের এলাকা ছেড়ে যাওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছে জোটের যৌথ বাহিনী কমান্ড।
এর জবাবে ইয়াহিয়া সারি সৌদি শাসকগোষ্ঠীর প্রতি কঠোর সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, ইয়েমেনের রাজধানী সানায় যেকোনো ধরনের আগ্রাসনের পরিণতি সৌদি রাজধানী রিয়াদকে ভোগ করতে হবে। তিনি ঘোষণা করেন, “সৌদি শত্রুকে সতর্ক করে দিচ্ছে ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনী—রাজধানী সানায় যেকোনো হামলার জবাব সৌদি শত্রুর রাজধানী রিয়াদে কঠোর ও যন্ত্রণাদায়কভাবে দেওয়া হবে।
সারি আরও একবার সৌদি আরবের সব তেল অবকাঠামো থেকে কর্মীদের দূরে থাকার আহ্বান জানান। এর মধ্যে আগে হামলার লক্ষ্যবস্তু হওয়া স্থাপনাগুলোর পাশাপাশি নতুন স্থানগুলোও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এ ছাড়া ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনী আগে যেসব এলাকাকে সম্ভাব্য সামরিক লক্ষ্যবস্তু হিসেবে চিহ্নিত করেছে, সেসব এলাকার বিমান সংস্থা, বিমানবন্দর, যাত্রী ও কর্মীদের প্রতিও পূর্ববর্তী সতর্কবার্তা পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
অন্য এক ঘোষণায় জেনারেল সারি সতর্ক করে বলেন, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট সানায় কোনো হামলা চালালে ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনী দাম্মামে অবস্থিত আরামকোর সদর দপ্তর, রিয়াদের কিং খালিদ বিমানবন্দর এবং রিয়াদের আরামকো শোধনাগারকে লক্ষ্যবস্তু করবে।
সাম্প্রতিক এই সতর্কবার্তাগুলো চলমান সংঘাতে বড় ধরনের উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কার ইঙ্গিত দিচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কৌশলগত প্রতিরোধের নীতি প্রয়োগে প্রস্তুত সানা।