শিরোনাম
◈ জ্বালানি খাতের বাড়তি ব্যয় সামলাতে বিশ্বব্যাংকের সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ ◈ রুপির পতন ঠেকাতে যেভাবে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে ভারত! ◈ কিংবদন্তি অভিনেত্রী নাসিমা খান মারা গেছেন ◈ চুয়েটে তালা ভেঙে প্রশাসনিক ভবনে প্রবেশ করলেন নতুন উপাচার্য ◈ ১০ জনের লিভারপুলকে ৩-০ গো‌লে ম‌্যান‌চেস্টার সিটি ◈ রিকশা ভাড়া থেকে ভিক্ষা সবই হবে ডিজিটাল বাংলা কিউআর পেমেন্টে, মিলবে না ভাংতির ঝামেলা ◈ ১০০ টাকায় বিক্রি জিদানের সাবেক ক্লাব, ষষ্ঠ ডিভিশনে বোর্দো ◈ রাজধানীতে সাবেক ২ সেনা কর্মকর্তা গ্রেপ্তার, জানা গেল কারণ ◈ সৌদির প্রধান বিমানবন্দর ব্যবহারে মার্কিন নাগরিকদের সতর্ক করল ওয়াশিংটন ◈ দ্বিতীয় প্রান্তিকে নিট বিদেশি বিনিয়োগ বেড়েছে ১২.৭৮%

প্রকাশিত : ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৪৯ দুপুর
আপডেট : ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০৯ দুপুর

প্রতিবেদক : এল আর বাদল

যুক্তরাষ্ট্রে বসে অনলাইনে ‌ফি‌লিপাইনের শিশুদের যৌন নির্যাতন: সিএনএনের অনুসন্ধানী প্রতি‌বেদন

আন্তর্জা‌তিক ডেস্ক: মার্কিন টিভি চ্যানেল সিএনএনের এক নতুন অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ফিলিপাইনের শিশুদের অনলাইনে যৌন নির্যাতনের ঘটনায় মার্কিন ক্রেতাদের ভূমিকা উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে যুক্তরাষ্ট্রে বসেই কিছু ক্রেতা অর্থের বিনিময়ে শিশুদের ওপর নির্যাতনের নির্দেশ দিতেন এবং ক্যামেরার সামনে কী ঘটবে, তা নিয়ন্ত্রণ করতেন।

২০২৬ সালের ১১ অক্টোবর প্রকাশিত অনুসন্ধানের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৫ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ফিলিপাইনের শিশুদের যৌন নির্যাতনসংক্রান্ত কনটেন্ট কেনার সবচেয়ে বড় বাজার ছিল যুক্তরাষ্ট্র। ফিলিপাইনের অ্যান্টি-মানি লন্ডারিং কাউন্সিলের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে মার্কিন ক্রেতারা এ ধরনের কনটেন্টের জন্য ৭০ লাখ ডলারেরও বেশি অর্থ পরিশোধ করেন।-- পার্সটু‌ডে

 ইন্টারন্যাশনাল জাস্টিস মিশনের ২০২৩ সালের একটি হিসাব অনুযায়ী, ফিলিপাইনে প্রায় পাঁচ লাখ শিশু এ ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছে—যা দেশটির প্রতি ১০০ শিশুর মধ্যে প্রায় একজন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিষয়টি শুধু অপরাধমূলক ছবি বা ভিডিও কেনার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। কয়েকটি মামলায় মার্কিন ক্রেতারা ভিডিও কলের মাধ্যমে শিশুদের ওপর যৌন নির্যাতন কীভাবে চালানো হবে, সে বিষয়ে সরাসরি নির্দেশনা দিতেন। অর্থাৎ, নিজ দেশ ছেড়ে না গিয়েই তারা দূর থেকে এসব অপরাধে যুক্ত থাকতেন।

Advertisement

অনুসন্ধানে আলোচিত একটি মামলায় রেমন্ড লি শ্যাভেজ নামে আশির কোঠায় বয়সী এক মার্কিন নাগরিকের কাছে শিশুদের যৌন নির্যাতনসংক্রান্ত পাঁচ হাজারেরও বেশি ছবি ও ভিডিও ছিল। তিনি অন্তত ১৫টি সরাসরি সম্প্রচারও কিনেছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মেরিল্যান্ডের আরেক মার্কিন নাগরিক ফিলিপ অ্যান্ড্রু টার্নার এ ধরনের নেটওয়ার্কে ২৯ হাজার ডলারেরও বেশি অর্থ দিয়েছিলেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, ভিডিও কলে তিনি নির্যাতনের ধরন সম্পর্কে নির্দেশনা দিতেন।

ভুক্তভোগীদের বর্ণনা আরও মর্মান্তিক। সিএনএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এক নারী জানান, মাত্র আট বছর বয়স থেকে আত্মীয়দের মাধ্যমে তিনি নির্যাতনের শিকার হন। কখনো কখনো মাঝরাতে তাকে ঘুম থেকে তুলে মার্কিন ক্রেতাদের জন্য ক্যামেরার সামনে হাজির করা হতো। একই পরিবারের আরেক শিশুর ওপর নির্যাতন শুরু হয়েছিল মাত্র পাঁচ বছর বয়সে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফিলিপাইনে বিদেশি ক্রেতাদের যৌন শোষণসংক্রান্ত বিষয়টি নতুন নয়। কয়েক দশক ধরে সুবিক বে-তে মার্কিন নৌঘাঁটির আশপাশের ওলংগাপোর মতো শহরে যৌনসেবাকেন্দ্রিক শিল্প গড়ে উঠেছিল। এ শিল্পের সঙ্গে নারীদের শোষণ ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির সম্পর্ক নিয়ে বিভিন্ন গবেষণাও হয়েছে। তবে অতীতের সামরিক ঘাঁটিকেন্দ্রিক যৌন শিল্পের সঙ্গে বর্তমান অনলাইন শিশু নির্যাতন নেটওয়ার্কের কোনো সাংগঠনিক যোগসূত্র প্রমাণিত হয়নি। প্রতিবেদনে অবশ্য বিদেশি চাহিদা এবং ফিলিপাইনের অসহায় জনগোষ্ঠীর ওপর তার মানবিক মূল্য চাপিয়ে দেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদনটি জেফরি এপস্টিনের মামলার কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছে। এপস্টিনের ঘটনায়ও অর্থ, মধ্যস্থতাকারী এবং ভুক্তভোগীদের অসহায়ত্ব যৌন অপরাধ সংঘটনে ভূমিকা রেখেছিল। তবে এই দুই মামলার মধ্যে কোনো প্রমাণিত যোগসূত্র নেই। প্রতিবেদনের মূল বক্তব্য হলো, শিশুদের যৌন নির্যাতন বন্ধ করতে হলে শুধু স্থানীয় মধ্যস্থতাকারীদের গ্রেপ্তার করাই যথেষ্ট নয়; অর্থদাতা ও অপরাধের সংগঠকদেরও জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।

প্রতিবেদনের আরেকটি আলোচিত দিক হলো, একই ধরনের অপরাধের ঘটনায় বিভিন্ন দেশে সাজায় বড় পার্থক্য। অনলাইনে শিশু নির্যাতনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মার্কিন ক্রেতা ক্রিস লি সেকম্যানকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। অন্যদিকে, অপরাধে অংশ নেওয়া এক ভুক্তভোগীর বোন ফিলিপাইনে ৩৩ বছরের কারাদণ্ড পান বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অনুসন্ধানে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা সংস্থার অগ্রাধিকার নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। প্রতিবেদনে উদ্ধৃত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে ফেরার পর যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনসের প্রায় ৯০ শতাংশ কর্মকর্তা অভিবাসন আইন প্রয়োগসংক্রান্ত দায়িত্বে স্থানান্তরিত হন। তাদের মধ্যে কতজন আগে শিশু নির্যাতনের মামলা তদন্ত করতেন, তা স্পষ্ট নয়। তবে কিছু তদন্তকারী বলেছেন, এই রদবদলে চলমান তদন্ত ব্যাহত হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র যখন ফিলিপাইনের শিশুদের যৌন নির্যাতনসংক্রান্ত কনটেন্টের সবচেয়ে বড় বাজার হিসেবে চিহ্নিত, তখন মার্কিন বিচারিক, নিরাপত্তা ও তদারকি সংস্থাগুলোর দায়িত্ব কতটা? হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে বসে ক্রেতারা যখন অর্থ দিয়ে নির্যাতনের নির্দেশ দেন, তখন শুধু ফিলিপাইনের স্থানীয় মধ্যস্থতাকারীদের গ্রেপ্তার করে কি এই অপরাধ বন্ধ করা সম্ভব?

  • সর্বশেষ