ঝিনাইদহে এক সাংবাদিক ও ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টার মিথ্যা মামলা দায়েরের অভিযোগে বাদী বিউটি খাতুনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাতে আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
অভিযুক্ত বিউটি খাতুন শৈলকুপা উপজেলার বারইহুদা গ্রামের বাবর আলীর মেয়ে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ঝিনাইদহের পাগলাকানাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু সাঈদ বিশ্বাসের রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্মের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন বিউটি খাতুন। বিউটির বিরুদ্ধে জমি দখল, মাদক ব্যবসা, মামলা বাণিজ্য, বিয়ের প্রলোভনে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়াসহ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন এই প্রতিবেদককে জানান, বর্তমানে বিউটি যেখানে বাড়ি করে আছেন, সেই জায়গাটিও আওয়ামী লীগের সময়ে তিনি চেয়ারম্যান সাঈদের সন্ত্রাসী বাহিনীর সহযোগিতায় দখল করার অভিযোগ রয়েছে।
মামলার বিবাদী সাংবাদিক মিরাজ জামান রাজের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে বিউটি খাতুন আমার মায়ের জমি অবৈধভাবে দখল করে রেখেছেন। সেই জমি উদ্ধারে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। আমার মামলায় আদালত থেকে কমিশন চলাকালীন বিউটি ও সাঈদ চেয়ারম্যানের বাহিনী আমার ওপর হামলা চালায়। জমির মালিকানা যেন বুঝে নিতে না পারি এবং আমাকে সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে পরবর্তীতে সাঈদ চেয়ারম্যানের নির্দেশে বিউটি বাদী হয়ে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ধর্ষণচেষ্টার মামলা করেন।
পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) দীর্ঘ তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে প্রমাণিত হয় যে, শুধু জমিজমার বিরোধের জের ধরে মামলাটিতে আমাকে ফাঁসানো হয়েছিল।
আদালত ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অপরাধে আদালত আইনের ১৭(১) ধারায় বিউটি খাতুনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। সেই গ্রেপ্তারি পরোয়ানার প্রেক্ষিতে ঝিনাইদহ সদর থানার পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করলে আদালত জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। উৎস: কালবেলা।