আজিজুল ইসলাম : যশোরের বাঘারপাড়ায় ফেসবুকে বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর হোসেনকে জড়িয়ে ‘চাঁদাবাজি’সহ বিভিন্ন অভিযোগ সংবলিত পোস্ট দেওয়ার ঘটনায় মো. তুহিন নামে এক ব্যক্তিকে আইনি নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তুহিন বহরমপুর গ্রামের হামিদ সরদারের ছেলে। দোহাকুলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও বাঘারপাড়া থানা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেনের পক্ষে যশোর জজকোর্টের অ্যাডভোকেট আমিনুর রহমান এ নোটিশ পাঠান।
আইনি নোটিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ সেপ্টেম্বর ‘Md. Tuhin’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে জাহাঙ্গীর হোসেনের নাম, রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিচয় এবং ব্যক্তিগত সুনাম ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও মানহানিকর বক্তব্য প্রকাশ ও প্রচার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
নোটিশে দাবি করা হয়, ওই ফেসবুক পোস্টে জাহাঙ্গীর হোসেনকে উদ্দেশ করে দোহাকুলা ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে ‘চাঁদাবাজির রাজত্ব’ গড়ে তোলার অভিযোগ তোলা হয়েছে। একই পোস্টে বাঘারপাড়া থানার একটি ওয়ার্ডের এক কৃষকের বাড়িতে রাতে গিয়ে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করার অভিযোগও করা হয়েছে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়।
তবে জাহাঙ্গীর হোসেনের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করা হয়েছে। নোটিশে বলা হয়েছে, প্রকাশিত বক্তব্যের সঙ্গে তাঁর মক্কেলের কোনো সম্পর্ক নেই।
নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়, ফেসবুক পোস্টটি বিভিন্ন ব্যক্তি দেখতে, পড়তে ও শেয়ার করতে পারায় তা ছড়িয়ে পড়ে। এতে জাহাঙ্গীর হোসেনের রাজনৈতিক, সামাজিক, ব্যক্তিগত ও পেশাগত সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। পোস্টের স্ক্রিনশট, লিংক, প্রকাশের তারিখ ও সময়সহ সংশ্লিষ্ট ডিজিটাল প্রমাণ সংরক্ষণ করা হয়েছে বলেও নোটিশে উল্লেখ রয়েছে।
আইনি নোটিশের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ফেসবুক পোস্ট ও কথিত মানহানিকর বক্তব্য ও ছবি অপসারণ, প্রকাশিত বক্তব্যের জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে সংশোধনী প্রকাশ এবং লিখিতভাবে ক্ষমা প্রার্থনার দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে জাহাঙ্গীর হোসেনের সুনাম, মানসিক, সামাজিক, রাজনৈতিক, পেশাগত ও আর্থিক ক্ষতির জন্য ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে।
নোটিশ পাওয়ার সাত দিনের মধ্যে এসব দাবি পূরণ না করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে আদালতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মো: তুহিন বলেন, “এখনো নোটিশ হাতে পাইনি। নোটিশ হাতে পেলে দেখে কী করা যায়, তা করব।”
জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, “আমাকে জড়িয়ে ফেসবুকে যে অভিযোগগুলো করা হয়েছে, সেগুলো মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আমার রাজনৈতিক ও সামাজিক সুনাম ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যেই এসব প্রচার করা হয়েছে। এ কারণেই আইনজীবীর মাধ্যমে নোটিশ দেওয়া হয়েছে।”
অ্যাডভোকেট আমিনুর রহমান বলেন, “আমার মক্কেলকে জড়িয়ে ফেসবুকে যে বক্তব্য প্রকাশ করা হয়েছে, তাঁর দাবি অনুযায়ী মিথ্যা ও মানহানিকর। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার অংশ হিসেবে নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।