জামালপুর সদর উপজেলার দিগপাইত ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড শ্রমিক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কফিল উদ্দিন (কফিল মিয়া) নিজ বাড়িতে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে দিগপাইত ইউনিয়নের গান্দাইল গ্রাম থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মৃত্যুর আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লাইভে এসে রাজনীতির বর্তমান চিত্র নিয়ে চরম ক্ষোভ ও আবেগঘন বক্তব্য প্রকাশ করেন তিনি।
আত্মহত্যার আগে কফিল ফেসবুকের ভিডিও স্ট্যাটাসে বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে গরিব মানুষের কল্যাণের রাজনীতির পরিবর্তে মানুষের পকেট ভরার রাজনীতি চলছে। যারা আগে ভাত খেতে পারত না, তারা এখন মোটরসাইকেল নিয়ে ঘুরে বেড়ায়। রাজনীতির মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত গরিব মানুষের ভালোভাবে খাওয়া, থাকা ও সুন্দরভাবে চলার ব্যবস্থা করা। রাজনীতিতে রেষারেষি ও মানুষের পকেট ফাঁকা করার কর্মকাণ্ডকে প্রকৃত রাজনীতি বলা যায় না।
কফিল মিয়া অভিযোগ করেন, কিছু ব্যক্তি বড় বড় পদ পাওয়ার পর ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন। তিনি দাবি করেন, সম্প্রতি ১৪ নম্বর দিগপাইত ইউনিয়নের সেক্রেটারির ভাগনে অন্তর তাকে মারধর করেছেন এবং তার সঙ্গে থাকা লোকজনও এ ঘটনায় জড়িত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্দেশে কফিল মিয়া বলেন, এই রাজনীতি বন্ধ করেন। কারণ, এদের কর্মকাণ্ডে আপনার দলের বদনাম হচ্ছে। তার অভিযোগ, যারা আগে ভাত খেতে পারত না, তারা ক্ষমতা পেয়ে এখন মানুষকে হয়রানি করছে। রাস্তায় চাঁদাবাজি বন্ধ হয়নি দাবি করে তিনি বলেন, চাঁদাবাজি আরও অনেক চলছে। হয়তো এখন প্রকাশ্যে হয় না, গোপনে হয়। চাঁদা না দিলে পরে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হয়।
দলের দীর্ঘদিনের কর্মী হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে কফিল মিয়া আরও বলেন, বড় বড় এমপি-মন্ত্রীরা আপনার ক্ষতি করছেন না; ক্ষতি করছেন এমন কিছু ব্যক্তি, যারা নেতা হয়ে গেছেন। যারা একটি নামও লিখতে পারে না, তারাও এখন বড় নেতা, ইউনিয়ন নেতা। বক্তব্যের শেষ দিকে তিনি বলেন, বেশি দিন ক্ষমতায় থাকবেন না। আপনারা বেশি দিন ক্ষমতায় থাকতে পারবেন না এটা মনে রাখবেন।
এ ছাড়া বক্তব্যের শেষ দিকে তিনি দলের কয়েকজন নেতার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং স্থানীয় এমপিকে এ ব্যাপারে বিচার করার অনুরোধ জানান।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কফিল উদ্দিন দিগপাইত ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড শ্রমিক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তার বাড়ি দিগপাইত ইউনিয়নের গান্দাইল গ্রামে।
জামালপুর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ নাজমুস সাকিব বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। মরদেহ উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। মৃত্যুর কারণ জানতে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।