স্পোর্টস ডেস্ক : এত দিন ক্রিকেটে যে দৃশ্য দেখা যেতো, এবার হকিতেও তা দেখা যাচ্ছে। এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খেলতে ভারতে যেতে রাজি নয় পাকিস্তান। এশীয় হকি সংস্থাকে তারা বিষয়টি জানিয়ে দিয়েছে। নিরপেক্ষ কোনও দেশে প্রতিযোগিতা আয়োজনের দাবি করেছে তারা। ভারত জানিয়েছিল, পাকিস্তান চাইলে এ দেশে খেলতে আসতে পারে। কারণ, এটি দ্বিপাক্ষিক সিরিজ় নয়। বহুদেশীয় প্রতিযোগিতা। কিন্তু রাজি হয়নি পাকিস্তান। নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছে তারা।---- আনন্দবাজার
পাকিস্তান হকি সংস্থার সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ ওয়ানি জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে এশীয় হকি সংস্থার দ্বারস্থ হয়েছেন তাঁরা। হয় গোটা প্রতিযোগিতা নিরপেক্ষ কোনও দেশে সরাতে হবে। নইলে পাকিস্তানের ম্যাচগুলি অন্য দেশে আয়োজন করতে হবে। দেশের সরকারের নির্দেশের পরেই এই প্রস্তাব দিয়েছেন তাঁরা।
একটি বিবৃতকিতে ওয়ানি বলেন, “ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বর্তমান সম্পর্কের কথা মাথায় রেখে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যাতে আমাদের দলের খেলোয়াড়, সাপোর্ট স্টাফ ও আধিকারিকদের সুরক্ষার কোনও সমস্যা না হয়, তাই আমরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ওয়ানি আরও বলেন, পাকিস্তান চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খেলতে চায়। তবে ভারতের মাটিতে গিয়ে নয়। আমরা আশা করছি, এশীয় হকি সংস্থা আমাদের আবেদন খতিয়ে দেখবে। নিরপেক্ষ কোনও দেশে প্রতিযোগিতা হবে।
২৭ অক্টোবর থেকে ৫ নভেম্বর পর্যন্ত এই প্রতিযোগিতা হওয়ার কথা। পঞ্জাবের জলন্ধর ও মোহালিতে হবে প্রতিযোগিতা। ভারত ও পাকিস্তান ছাড়া খেলার কথা চিন, জাপান, মালয়েশিয়া ও কোরিয়ার। তবে রিজ়ার্ভ দল হিসাবে ওমান ও বাংলাদেশকে তৈরি থাকতে বলা হয়েছে। কোনও দল নাম তুলে নিলে এই দু’দলকে সুযোগ দেওয়া হবে।
গত সোমবার পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান জানিয়েছিলেন, পাকিস্তান ভারতে খেলতে আসবে। তিনি বলেন, “বহুদেশীয় প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে তো কোনও সমস্যা নেই। ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক প্রতিযোগিতা হয় না। কিন্তু ভারত ও পাকিস্তানের সরকার তো দু’দেশকে বহুদেশীয় প্রতিযোগিতায় খেলার অনুমতি দেয়।
৫ মে ভারতের ক্রীড়া মন্ত্রক একটি বিবৃতিতে জানিয়েছিল, ভারতে বহুদেশীয় কোনও প্রতিযোগিতায় পাকিস্তানের দল ও খেলোয়াড়েরা অংশ নিতে পারবে। খেলোয়াড় ও আধিকারিকদের ভিসা সংক্রান্ত কোনও সমস্যা যাতে না হয়, সে দিকে নজর রাখা হবে।
সূচি অনুযায়ী, ১ নভেম্বর জলন্ধরে মুখোমুখি হওয়ার কথা ভারত ও পাকিস্তানের। এই প্রসঙ্গে পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মান বলেন, “১ নভেম্বর জলন্ধরে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে এই প্রতিযোগিতার সেরা আকর্ষণ। পঞ্জাব দিবসের দিনেই খেলা পড়েছে। তাতে ম্যাচের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবেই। কিন্তু খেলার তো নিজস্ব ভাষা রয়েছে।
গত বছর ভারতে আয়োজিত পুরুষদের এশিয়া কাপ ও জুনিয়র বিশ্বকাপ থেকে নাম তুলে নিয়েছিল পাকিস্তান। এ দেশে খেলতে আসেনি তারা। ফলে শেষ মুহূর্তে নতুন দেশকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। এবারও পাকিস্তান জানিয়ে দিল, ভারতে খেলতে আসবে না তারা।