নাটোরের বড়াইগ্রামে কয়েকজন তরুণের একসঙ্গে জড়ো হয়ে রামদা ধার দেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য এক প্রার্থী ও তাঁর অনুসারীদের দেখা গেছে।
গত সোমবার থেকে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ১৩ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, একটি ঘরে খাটের ওপর বসে বড় আকারের রামদা ধার দিচ্ছেন কয়েকজন যুবক। পাশে বেঞ্চের ওপর বসে আরও কয়েকজনকে একই কাজ করতে দেখা যায়। ভিডিওতে হাঁসুয়া, রামদা ছাড়াও ছুরি এবং হকিস্টিক দেখা যায়।
স্থানীয়রা জানান, ভিডিওতে থাকা ব্যক্তিরা উপজেলার জোনাইল ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী সাব্বাব হক সাবু ও তাঁর সহযোগী। ভিডিওতে উপজেলার কুমারখালি গ্রামের মাহফুজ আলম, চৌমুহন গ্রামের রাহিম হোসেন ও সোহান হোসেন এবং চাটমোহর উপজেলার সন্ধবা গ্রামের কিরণ হোসেনের হাতে একটি করে বড় রামদা এবং চৌমুহন গ্রামের ফরহাদ হোসেনের ছেলে সাব্বাব হক সাবুর হাতে একটি বড় ছুরি দেখা যায়।
ঘটনার পর থেকে সাব্বাব হক সাবু ও তাঁর সহযোগীরা পলাতক থাকায় ভিডিওটি কোন উদ্দেশ্যে ধারণ করা হয়েছে, নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে সাবুর বাবা ফরহাদ হোসেনের দাবি, ভিডিওটি ষড়যন্ত্রমূলক ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও জেলা বিএনপির সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল কাদের মিয়া বলেন, ভিডিওটি আমি দেখেছি। সে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী হলেও আমার জানামতে, বিএনপি বা কোনো অঙ্গসংগঠনে তার পদ নেই।
এদিকে নির্বাচন সামনে রেখে এভাবে অস্ত্র প্রদর্শনের কারণে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অনেরকেই বিষয়টি গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য হুমকি হিসেবে দেখছেন। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সচেতন মহল।
বড়াইগ্রাম থানার ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, ভিডিওতে যাদের দেখা যাচ্ছে, তাদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এ ব্যাপারে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সূত্র: প্রথম আলো