স্পোর্টস ডেস্ক : ক্রিকেটের ঈশ্বর। শচীন টেণ্ডুলকার বললে সবার আগে এই কথাটাই মনে পড়ে। তাছাড়া অনেক দানধ্যান করেন। জনসচেতনতা বাড়ানো বা সামাজিক বিভিন্ন কাজেও সবার আগে থাকেন 'মাস্টার ব্লাস্টার'। আবার ব্যবসায়িক কাজেও পটু। সম্প্রতি লোনাভালায় ৭০ কোটি টাকায় ৩.৮৬ একর জমি কিনেছেন। শচীনের এই রিয়াল এস্টেট বিনিয়োগ শুধুমাত্র জমি কেনা নয়। এর নেপথ্যে রয়েছে সুপরিকল্পনা ও ব্যবসায়িক বুদ্ধিমত্তা। --- সংবাদপ্রতিদিন
সরকারি নথি বলছে, মোট তিনটি পৃথক দলিলের মাধ্যমে রেজিস্ট্রি করা রয়েছে। একটি সর্বভারতীয় সংবাদধ্যম রিয়েল এস্টেট ডেটা প্ল্যাটফর্ম জ্যাপকির তথ্য উদ্ধার করেছে। এর মধ্যে ফাঁকা জমি ও একটি ২১০০ বর্গফুটের একটি কাঠামো আছে। আসলে ৭০ কোটি টাকা একটি জমির জন্য নয়, তিনটি চুক্তির জন্য। প্রথম দলিলে ৩.০৯ একর জমির দাম পড়েছে ৬৩.৬৯ কোটি টাকা। এটার সম্পূর্ণ মালিকানা তাঁর হাতে।
বাকি দুটি অংশের অর্ধেক অংশীদারিত্ব পড়েছে। যার মূল্য যথাক্রমে ৪.৫৬ কোটি এবং ১.৭৫ কোটি টাকা। বিবস্বত ধনঞ্জয় মেহতা ও নন্দন ধনঞ্জয় মেহতার থেকে এই সম্পত্তি কিনেছেন ক্রিকেট কিংবদন্তি। জানা গিয়েছে, ৭০ কোটি টাকার পাশাপাশি ৪.২০ কোটি টাকার স্ট্যাম্প ডিউটিতে ৯০ হাজার টাকা রেজিস্ট্রেশন ফি দিয়েছেন। ২০২৬ সালের তথ্য অনুযায়ী শচীনের মোট সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ১৭০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
ধনী ক্রিকেটারদের তালিকায় শীর্ষস্থানে রয়েছেন তিনি। এছাড়া বিভিন্ন জায়গায় স্থাবর সম্পত্তি, জমি ও বিলাসবহুল বাংলো আছে। তারপরও কেন লোনাভালার জমিতে বিনিয়োগ করলেন? সেখানেই শচীনের 'মাস্টারস্ট্রোক'। লোনাভালা খুব সুন্দর জায়গা। বিশেষ করে বর্ষাকালে তা সবুজ হয়ে ওঠে। অনেক জলপ্রপাত আছে। এর সঙ্গে আছে ঐতিহাসিক গুহা। ভবিষ্যতে ভারতের অন্যতম সেরা ট্যুরিস্ট স্পট হয়ে ওঠার সম্ভাবনা আছে এই জায়গায়।
অনেকের মতে, সেটাকে মাথায় রেখেই লোনাভালায় এত বড় বিনিয়োগ করলেন শচীন। তাছাড়া জনবসতিপূর্ণ না হওয়ায় নিরিবিলি ছুটি কাটানোর সুযোগও পাবেন। ২০১৩ সালে অবসরের পর থেকেই তিনি বিনিয়োগের দিকে বেশি নজর দিয়েছেন। সেখানে সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ রিয়েল এস্টেটে। লোনাভালার জমি ছাড়াও মুম্বইয়ের অভিজাত বান্দ্রার পেরি ক্রস রোডে ৬,০০০ বর্গফুটের এক বিলাসবহুল বাংলো রয়েছে।
২০০৭ সালে ৩৯ কোটি টাকায় এই জমিটা কিনেছিলেন। যা পরে নতুন করে তৈরি করেন। একাধিক সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, বর্তমান বাজারদর প্রায় ১০০-১৫০ কোটি টাকা। এখানেই শেষ নয়। ২০১৮ সালে বান্দ্রা কুরলা কমপ্লেক্সের 'রুস্তমজি সিজনস'-এ একটি ফ্ল্যাট কেনেন। যার আয়তন ১৬০০ বর্গফুট। ফ্ল্যাটটি স্ত্রী অঞ্জলি টেন্ডুলকারের নামে কেনা, তখন দাম ছিল ৭.১৫ কোটি টাকা।
এই ফ্ল্যাটেই থাকেন শচীন। ভারতীয় ও পাশ্চাত্য ডিজাইনে সজ্জিত বাড়িটি। এছাড়া লর্ডসের মাঠের কাছেই শচীনের একটি অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে। শচীন প্রায়ই লন্ডনে যান। তাঁর ছেলে অর্জুন ও মেয়ে সারা লন্ডনেই পড়াশোনা করেছেন। অবসরের পর ক্রিকেটাররা সাধারণত ধারাভাষ্য বা কোচিংয়ের দিকে নজর দেন। অনেকে ব্যবসা বা বিনিয়োগের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। শচীন এখানেও ভিন্ন পথের পথিক।
অবসরের পর থেকে বিভিন্ন সংস্থায় বিনিয়োগ করেছেন। যার মধ্যে আছে জেপটো, স্পিনি বা ত্রুজোন সোলার। যার মধ্যে স্টার্ট-আপও আছে। এছাড়া নিজস্ব একটি ক্রীড়াসামগ্রীর কোম্পানি আছে। ভুলে গেলে চলবে না, ১৯৮৯ সালে প্রথম বিজ্ঞাপনের মুখ হয়েছিলেন। সব মিলিয়ে 'ব্র্যান্ড শচীন' তৈরি করেছেন। যা আজকের বিরাট কোহলি, শুভমান গিলদের কাজ অনেক 'সহজ' করে দিয়েছে।