শিরোনাম
◈ প্রতি মাসে ভ্যাট রিটার্ন জমার বাধ্যবাধকতা ফিরছে, অনুমোদনের পর প্রস্তাব উঠবে সংসদে ◈ এসএসসির খাতা চ্যালেঞ্জ করে জিপিএ-৫ পেল ৩০৭৯ শিক্ষার্থী, ফল জানা যাবে যেভাবে ◈ ধানমন্ডি ২৭ নম্বরের একটি ভবনে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ৪ ইউনিট ◈ শেখ সেলিমে হাই ভোল্টেজ ধামাকা: বিগ ফান্ডিংয়ে ডিসেম্বরে উঠ‌তে পা‌রে ঝড় ◈ সাগরে বাড়ছে স্কুইডের সংখ্যা, গবেষণায় মিলল নতুন কারণের ইঙ্গিত ◈ অ্যাতলেটিকোর বিরু‌দ্ধে ক‌ষ্টের জ‌য়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শুরু লিভারপুলের  ◈ দুর্বল প্রতিপক্ষ‌কে বড় ব‌্যবধা‌নে হা‌রি‌য়ে চ‌্যা‌ম্পিয়ন্স লি‌গে বা‌র্সেলোনার শুভ যাত্রা ◈ অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটে গৃহযুদ্ধ! বিগব‌্যাশ লি‌গে বেসরকারিকরণের বিরোধিতা বাড়ছে  ◈ ৭০ বছর পেরোলেই পদ ছাড়তে হবে, পি‌টি উষাদের নির্দেশ আন্তর্জাতিক অলিম্পিক সংস্থার  ◈ ঢাকায় অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে ৮ জোন, থাকছে আলাদা রং

প্রকাশিত : ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:২১ দুপুর
আপডেট : ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:২২ দুপুর

প্রতিবেদক : এল আর বাদল

শেখ সেলিমে হাই ভোল্টেজ ধামাকা: বিগ ফান্ডিংয়ে ডিসেম্বরে উঠ‌তে পা‌রে ঝড়

এল আর বাদল: তথ্য নিয়ন্ত্রণ বা গোপনের সুযোগ নেই। উত্তরবঙ্গে সার নিয়ে আচ্ছা রকমের ঝামেলা চলছে। সার না পেয়ে এক জায়গায় আন্দোলন চলছে, অন্য জায়গায় বিএনপি নেতা ডিলার চুরি করে সার বিক্রি করতে গিয়ে ধরা পড়েছে। অন্য এক জায়গায় আড়ত ভেঙে সার নিয়ে গেছে কৃষকেরা। সার আর ডিলার নিয়ে এ ধরনের ঘটনা নতুন না হলেও বিএনপিকে কাবু করতে সার, বিদ্যুৎ, জ্বালানি বরাবরই জুতসই ইস্যু। 

২০০১-০৬ সালেও এগুলো হয়েছিল আচ্ছা রকমে। সে সময় কট্টর ডানপন্থার উত্থান ঘটেছিল, এখনো ঘটছে। সেই সঙ্গে রাজনীতির মাঠে বড় প্রশ্ন ও অপেক্ষা হয়ে দেখা দিয়েছে, সরকার কি পূর্ণ মেয়াদ টিকে থাকছে? সূত্র: ঠিকানা/ নিউ ইয়র্ক

সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই, সূত্রও নেই। অ্যাজেন্ডাধারীও অস্পষ্ট। তবে তাল-লয় বাজছে হেফাজতসহ দক্ষিণপন্থী কিছু দলের উঠান থেকে।এনসিপির একটি অংশও রয়েছে এর আশপাশে। আর পেছনে সম্ভাব্য দুটি বড় কারণ হিসেবে সামনে আসছে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা এবং বিএনপি সরকারের প্রতি জনসমর্থন ও আস্থার প্রশ্ন। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী কতটা সফল হয়েছে, সেটিও বড় প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে। অর্থনীতি, আইনশৃঙ্খলা, দ্রব্যমূল্য, প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন নিয়ে অসন্তোষ বাড়ছে। এর আগে সরকারের বিরুদ্ধে বড় রকমের কয়েকটি দুর্নীতির অভিযোগে মাঠ গরমের আয়োজন প্রায় চূড়ান্ত। বিভিন্ন মন্ত্রী-এমপির পরিবারের লোকজনের সরকারি বড় বড় কাজ পাওয়া ও নিয়ন্ত্রণের তালিকা পাবলিক হতে শুরু করেছে।

এ তালিকায় রয়েছে প্রতাপশালী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিনের ভাষায় ‘সবচেয়ে প্রভাবশালী প্রতিমন্ত্রী‘ মীর শাহে আলমের পুত্র মীর সীমান্তের ৭১ কোটি টাকার সরকারি কাজের ঠিকাদারি পাওয়া, সালাহউদ্দিনের পুত্র সাঈদ ইব্রাহিমের ৪০ হাজার কোটি টাকার সরকারি কাজে লোকাল পার্টনার হওয়াসহ দুর্নীতির কথা। এমপি মুশফিকুর রহমানের নাতি তায়েফ রহমানের চায়নিজ কোম্পানির সঙ্গে নতুন এফএসআরইউর কাজে আগের চেয়ে ১২২ কোটি টাকা বেশি হাতানোর ঘটনাও বাদ নেই। মারপ্যাঁচ দিয়ে মিডিয়াতেও আনা শুরু হয়েছে এগুলো। 

এর কড়ায়-গন্ডায় বেনিফিট নেবে আওয়ামী লীগ। তা চলবে শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে দেশে ফিরলেও, না ফিরেলেও। বেশ বুদ্ধি করে খবরের বাজারে তার দেশে ফেরা না ফেরার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ করে দেওয়া হয়েছে আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত নেতৃত্ব তথা আগামী দিনের কান্ডারির আলোচনাকে। তা বেশ বাজার খাচ্ছে।
আওয়ামী লীগে নেতৃত্ব নেওয়া বা দেওয়ার মতো ক্যান্ডিডেট বেশ কয়েকজন। সবই তার পরিবারের সদস্য। 

ছেলে জয়, মেয়ে পুতুল, বা রেহানার ছেলে ববি, মেয়ে টিউলিপ। কিন্তু দেশের রাজনীতিতে ফিরে শেখ সেলিমের নেতৃত্ব দেওয়ার খবরটি বেশ বুদ্ধি করে শেখ হাসিনার বরাত দিয়েই বাজারজাত করেছে ভারতীয় গণমাধ্যম। আওয়ামী লীগের কার্যক্রম এখন নিষিদ্ধ। ছাত্রলীগ, যুবলীগ পুরোপুরি নিষিদ্ধ। কাউকে প্রকাশ্যে পেলেই গ্রেফতার করা হয়। এমন অবস্থায় শেখ সেলিমের নাম সামনে আনা হয়েছে। সেলিম শেখ মুজিবের আপন ভাগনে। শেখ মণির ছোট ভাই। শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই। তাপসের আপন চাচা। এগুলোর বাইরেও তার পরিচয় আছে। 

শেখ সেলিমের ছোট ছেলে শেখ নাঈম। তার শ্বশুর বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য জ্বালানি ও বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। এ ছাড়া শেখ সেলিমের বড় ছেলে শেখ ফাহিমের শালা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। শেখ সেলিমের আপন ভাগনে হচ্ছেন তথ্যমন্ত্রী আন্দালিব রহমান পার্থ। আবার সেলিমের ভাই হেলালের মেয়েকে বিয়ে করেছেন পার্থ। তিন মন্ত্রীর আত্মীয়—এ এক বিশাল ধামাকা। ধামাকার আগে-পিছেও অনেক ঘটনা।
এদিকে তারেক রহমানের দেশে ফেরা এবং বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে ভারতের ভূমিকা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন শেখ হাসিনা।

 ভারতের সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়ালকে দেওয়া একান্ত টেলিফোনিক সাক্ষাৎকারে তিনি প্রশ্ন ছুড়েছেন, ভারত সরকার কী বিবেচনায় বাংলাদেশের নির্বাচনকে সমর্থন করল এবং তারেক রহমানকে দেশে ফেরার সুযোগ তৈরি করে দিল? প্রশ্ন করেই থামেননি। এই প্রশ্নের জবাব ভারত সরকারই ভালো দিতে পারবে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। তবে শুধু ভারত বা তারেক রহমান নয়, সাক্ষাৎকারের বড় অংশজুড়ে ছিল তার নিজের দেশে ফেরার ঘোষণাও। তিনি জানিয়েছেন, তিনি দেশে ফিরতে চান। সময়ও নির্ধারণ করেছেন। ডিসেম্বরেই দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আবার দেশে ফিরলে বিমানবন্দরেই তাকে হত্যা করা হতে পারে, এমন আশঙ্কাও করেছেন।

 শেখ হাসিনার বক্তব্যে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা আছে। প্রথমত, তিনি দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। দ্বিতীয়ত, তার অনুপস্থিতিতে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব দেবেন শেখ ফজলুল করিম সেলিম। তৃতীয়ত, তারেক রহমানের দেশে ফেরা ও বাংলাদেশের নির্বাচনে ভারতের ভূমিকা নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলেছেন।

বাংলাদেশের নির্বাচন ও তারেক রহমানের দেশে ফেরার বিষয়ে শেখ হাসিনার বক্তব্যে দিল্লির প্রতি তার অবস্থান একই সঙ্গে সমালোচনামূলক ও মারাত্মক কৌশলগত। কারণ, তিনি একদিকে ভারতের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, অন্যদিকে দুই দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের ক্ষেত্রে আঞ্চলিক সহযোগিতা ও পারস্পরিক স্বার্থের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। রীতিমতো হনুমানের লেজে আগুন ধরিয়ে দেওয়া। সাক্ষাৎকারে আরেকটা বিষয় স্পষ্ট। শেখ হাসিনার সঙ্গে তার দলের অনেকেই ফিরছেন না। কারণ, সাবেক প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেছেন, তিনি কাউকেই ফেরার নির্দেশ দেননি। এই হাই ভোল্টেজ ড্রামাটি বাজারজাত করা হয়েছে দীর্ঘ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে। 

এখানে রাজনীতি-কূটনীতির সমান্তরালে সামনের নির্বাচনও টার্গেট। হোক তা আগাম বা মধ্যবর্তী নির্বাচন। এদিকে ইতালি সফরে থাকা সজীব ওয়াজেদ জয়ের ভিন্ন পোজের ফুরফুরে মেজাজের ছবিও সাম্প্রতিক অন্যতম ঘটনা। আওয়ামী লীগের এই চ্যালেঞ্জিং সময়ে সজীব ওয়াজেদ জয় ইতালিতে। সেখানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কিছু প্রভাবশালী নীতিনির্ধারকের সঙ্গে তার বিশেষ যোগাযোগের তথ্যের মাঝে যোগ হয়েছে জুলাই যোদ্ধা বাঁধনের ওপর প্রবাসী আওয়ামী লীগারদের হামলার ঘটনা। 

ঘটনার দুদিন আগে ভেনিসে জয়ের লুক্কায়িত ভিডিও প্রকাশ্যে আসে। হামলাকারীদের কয়েকজন জয়ের সঙ্গে দেখা করেছেন ঘটনার এক দিন আগে।

আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার দুই বছর পেরিয়ে গেলেও জয়সহ শেখ পরিবারের অধিকাংশ সদস্য এখনো দেশের বাইরে। তাদের কেউ ভারত, কেউ যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা বা সিঙ্গাপুরে অবস্থান করছেন। দেশে থাকার সময় যারা সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন—সংসদ সদস্য, মেয়র বা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ দায়িত্ব পালন করেছেন, তাদের অনেকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। 

কারও বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত তাদের অধিকাংশই দেশে ফিরে এসব মামলার মুখোমুখি হওয়ার কোনো আগ্রহ দেখাননি। একমাত্র শেখ হাসিনাই আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে একটি মামলায় মৃত্যুদণ্ডের রায়ও হয়েছে। শেখ হাসিনার এই ঘোষণার সঙ্গে তার পরিবারের অন্য সদস্যদের অবস্থানের একটি স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। শেখ পরিবারের বাইরে হাসিনা সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত আত্মীয়দের অবস্থাও একই রকম। 

রাজনৈতিক প্রভাব, প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ এবং অর্থের বিনিময়ে তাদের দেশত্যাগের সুযোগ হয়। শেখ পরিবারের সদস্যদের এই নিরাপদে দেশ ছাড়ার বিষয়টি আওয়ামী লীগের সাধারণ নেতা-কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের কারণ হয়ে উঠেছে। কারণ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দলের বহু নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার হয়েছেন, অনেকে আত্মগোপনে। আবার অনেকে মামলা মোকাবিলা করছেন। সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় নেতাদের একটি বড় অংশ কারাগারে রয়েছেন। 

আন্দোলন জমলে এ বিষয়ক ক্ষোভ কেটে যাবে বলে আত্মবিশ্বাস রয়েছে দলের মধ্যে। এখনই দেশে না ফিরলেও তারা বেশুমার অর্থ পাঠিয়ে তা পুষিয়ে দেবেন বলে কানাঘুষা রয়েছে। ইউরোপ-আমেরিকা-সিঙ্গাপুরসহ উন্নত দেশে পাচার করা টাকার সামান্য কিছু অংশ দিলেই ল্যাঠা মিটে যাওয়া কোনো ব্যাপার নয়।

  • সর্বশেষ