রাজধানীর প্রধান সড়কে ব্যাটারিচালিত ও ইলেকট্রিক অটোরিকশা চলাচল নিয়ন্ত্রণে রুট-জোন ঠিক করে দিতে চায় সরকার। এর অংশ হিসেবে ঢাকার ফিডার (এটি বড় রাস্তায় ওঠার আগে সংযোগকারী ছোট রাস্তা হিসেবে কাজ করে) সড়কগুলোতে কতসংখ্যক অটোরিকশা চলাচল করবে, তা নির্ধারণ করে দেবে ট্রাফিক পুলিশ। এজন্য সুপারিশ প্রদানে ঢাকা মহানগর পুুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ একটি কমিটি গঠন করেছে।
সড়কের দৈর্ঘ্য, সংশ্লিষ্ট এলাকার জনসংখ্যা, মোট গণপরিবহনের সংখ্যা এবং প্রধান সড়কে চলাচলকারী যানবাহনের বিষয় বিবেচনায় নিয়ে অটোরিকশার সংখ্যা নির্ধারণ করবে কমিটি।
ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ফিডার সড়কের দৈর্ঘ্য প্রায় ১ হাজার ৩৪০ কিলোমিটার। আর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ফিডার সড়ক রয়েছে প্রায় ১ হাজার ৬৫৬ কিলোমিটার। দুই সিটি মিলিয়ে ফিডার সড়কের দৈর্ঘ্য প্রায় ৩ হাজার কিলোমিটার। এর মধ্যে উত্তর সিটিতে প্রায় ১৯০ কিলোমিটার এবং দক্ষিণ সিটিতে প্রায় ২১০ কিলোমিটার মূল সড়ক রয়েছে।
গত ৩ সেপ্টেম্বর ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমানের সই করা এক চিঠিতে বলা হয়, বর্তমানে ঢাকা মহানগরীতে তিন কোটির বেশি মানুষ বসবাস করছে। এই বিপুলসংখ্যক মানুষের চলাচলের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকারি উচ্চপর্যায়ে অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা তৈরির কাজ চলছে। এ জন্য সড়কের দৈর্ঘ্য, ব্যবহারকারী জনসংখ্যা, মোট যানবাহন এবং প্রধান সড়কে চলাচলকারী যানবাহনের সক্ষমতাসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ ও পর্যালোচনা করে অনুমোদনযোগ্য অটোরিকশার সংখ্যা নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
কমিটির কার্যপরিধিতে বলা হয়েছে, অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে রুট ও জোনভিত্তিক সংখ্যা নির্ধারণ করতে হবে। পাশাপাশি এ বিষয়ে একটি কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে। এ ছাড়া প্রধান সড়কগুলোতে অটোরিকশা চলাচল নিয়ন্ত্রণে সুনির্দিষ্ট সুপারিশ দেওয়ার দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে কমিটিকে। অর্থাৎ কোন এলাকায় কতসংখ্যক অটোরিকশা চলবে, কোন রুটে চলবে এবং কোন প্রধান সড়কে সেগুলোর চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে— ইত্যাদি বিষয়ে একটি কাঠামো তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ডিএমপির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, ঢাকার বিভিন্ন এলাকার অলিগলি ও সংযোগ সড়কে অটোরিকশা এখন গুরুত্বপূর্ণ বাহন হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। কিন্তু নির্দিষ্ট নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা না থাকায় অনেক অটোরিকশা প্রধান সড়কেও উঠে আসে। এতে যানজট ও সড়কে বিশৃঙ্খলা তৈরি হওয়ার পাশাপাশি গণপরিবহন ব্যবস্থাপনায়ও চাপ বাড়ে।
নতুন ব্যবস্থায় ফিডার সড়ককে কেন্দ্র করে অটোরিকশার চলাচল নির্দিষ্ট করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর ফলে আবাসিক এলাকা, অলিগলি ও প্রধান সড়কের মধ্যে যাত্রী পরিবহনের একটি নির্দিষ্ট সংযোগব্যবস্থা গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা।
ডিএমপির চিঠিতে গঠিত কমিটিকে এ বিষয়ে একটি কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করে প্রতিবেদন দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
ঢাকা শহরে অটোরিকশা চলাচলে ট্রাফিক বিভাগ উত্তর সিটি করপোরেশনে ৪টি এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ৪টি মোট ৮টি জোন করার পরিকল্পনা করছে। ৮টি জোনের ৮টি রঙ হবে। এক জোনের অটোরিকশা আরেকটি জোনে যেতে দেবে না ট্রাফিক পুলিশ।
সূত্র জানায়, ঢাকায় অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে নীতিমালা চূড়ান্ত পর্যায়ে এনেছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। ঢাকার অভ্যন্তরীণ সড়কে চলাচলের জন্য সর্বোচ্চ চার যাত্রী বহনকারী অটোরিকশাকে নিবন্ধন দেওয়া হবে। ছয় যাত্রী বহনকারী কোনো ই-রিকশা ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের নিবন্ধনের আওতায় আসবে না।
নীতিমালায় ই-রিকশার নিবন্ধনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয় এবং জেলাপর্যায়ের সরকারি পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের অটোমোবাইল শাখার প্রত্যয়ন বাধ্যতামূলক করার কথা রয়েছে। ট্রাফিক বিভাগের ফিটনেস সনদ ছাড়া কোনো ই-রিকশা নিবন্ধন দেওয়া হবে না।
সূত্র: দৈনিক আমাদের সময়