শিরোনাম
◈ কারাগার ভেঙে পালানো ৫২ মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির হদিস নেই ◈ কাগজ-ফাইলের যুগ পেরিয়ে ডিজিটাল সংসদের পথে বাংলাদেশ ◈ ইন্দোনেশিয়ায় ভয়াবহ অগ্ন্যুৎপাত : ৭০০ কিমি দূর থেকেও শোনা গেল বিস্ফোরণের শব্দ, বন্ধ ৬ বিমানবন্দর ◈ যানজট কমাতে গাবতলী-মহাখালী-সায়েদাবাদ-গুলিস্তান বাস টার্মিনাল সরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে: সড়ক প্রতিমন্ত্রী ◈ ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে পাওয়া গণতন্ত্রের জন্য সমঝোতার রাজনীতি করতে হবে ◈ তারেক রহমানের ভারত সফর ঘিরে দিল্লিতে ‘অভ্যন্তরীণ বিরোধের’ ইঙ্গিত ◈ খেলার নিয়ম বদলে গেছে, পাল্টা প্রতিক্রিয়ার যুগ শেষ: ইরা‌নের পার্লা‌মে‌ন্টে স্পিকার ◈ ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৪ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৫৫৮ ◈ রাষ্ট্র মালিকানাধীন ৬ ব্যাংকের খেলাপি ঋণ দেড় লাখ কোটি টাকা: সংসদে অর্থমন্ত্রী ◈ এয়ারবাসের প্রস্তাব ‘অবিশ্বাস্য প্রতিযোগিতামূলক’: ইইউ রাষ্ট্রদূত

প্রকাশিত : ০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৯:৩৯ রাত
আপডেট : ০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৯:৪৩ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজে সেবার বেহাল দশা: প্রশাসনিক শিথিলতায় চরম দুর্ভোগে রোগীরা

​মোঃ রফিকুল ইসলাম মিঠু, ঢাকা: রাজধানীর উত্তরার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সেবার মান আশঙ্কাজনকভাবে ভেঙে পড়েছে। অভিযোগ উঠেছে, সঠিক প্রশাসনিক নজরদারির অভাবে হাসপাতালটিতে দিন দিন চিকিৎসা সেবার পরিবেশ বিষিয়ে উঠছে। রোগী ও তাঁদের স্বজনদের অভিযোগ—নোংরা পরিবেশ, নার্সদের গাফিলতি এবং কর্মচারীদের বকশিস বাণিজ্যে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ।

​সরেজমিনে ও ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, হাসপাতালটিতে সেবা নিতে এসে পদে পদে ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক রোগী ও তাঁদের স্বজনেরা অভিযোগ করে বলেন, চিকিৎসা থেকে শুরু করে মৌলিক সুযোগ-সুবিধার প্রতিটি ক্ষেত্রে দেখা দিয়েছে চরম অব্যবস্থাপনা।

​নার্সদের অবহেলা ও দায়িত্বহীনতা: রোগীদের অভিযোগ, জরুরি প্রয়োজনে ডিউটিতে থাকা সিস্টারদের দশবার ডাকলেও একবারও সাড়া মেলে না। সেবা দেওয়ার পরিবর্তে অনেকেই নিজেদের ছোট ছেলে-মেয়েদের কর্মস্থলে নিয়ে এসে তাঁদের পরিচর্যাতেই ব্যস্ত থাকেন।

​জরুরি বিভাগে দীর্ঘ অপেক্ষা: জরুরি বিভাগে রোগী ভর্তির পর প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে স্বজনদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। সেখানে বসতি বা বিশ্রামের সুব্যবস্থা নেই বললেই চলে।

​ভাঙাচোরা সিট ও নোংরা পরিবেশ: ওয়ার্ডের বেডকভারগুলো দীর্ঘদিন পরিষ্কার করা হয় না। অধিকাংশ সিট ভাঙাচোরা, যা চিকিৎসার স্বাভাবিক পরিবেশ বিনষ্ট করে এক ভূতুড়ে আবহ তৈরি করেছে।

​লিফট ও খাবার সংকট: ভবনটিতে পাঁচটি লিফট থাকলেও নিয়মিত চালুর অভাবে সেগুলো প্রায় অকার্যকর হয়ে পড়েছে। রোগীদের জন্য নির্ধারিত খাবার সরবরাহে চলছে মারাত্মক তালবাহানা।

​বকশিস বাণিজ্য: আয়া ও বুয়াদের দাবিকৃত বকশিস না দিলে কোনো প্রকার প্রাথমিক সহায়তা বা সেবা মেলানো প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

​চিকিৎসায় অদক্ষতা ও মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভদের দাপট: অভিজ্ঞ ডাক্তারের অনুপস্থিতিতে শিক্ষানবিস বা অদক্ষ ইন্টার্নি ডাক্তারদের ওপর ভরসা করতে হচ্ছে। তার ওপর রোগীদের অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার অতিরিক্ত চাপ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি দিনভর হাসপাতাল জুড়ে ওষুধ কোম্পানির রিপ্রেজেন্টেটিভদের আনাগোনা ও দৌরাত্ম্যে রোগীরা সার্বিক হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

হাসপাতালটির অতীত সুনামের কথা স্মরণ করে রোগীরা ক্ষোভের সাথে জানান, পূর্বের তুলনায় সেবার মান এখন তলানিতে এসে ঠেকেছে। দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে হাসপাতালের পরিবেশ ফিরিয়ে আনা এবং কর্মীদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

  • সর্বশেষ