কল্যাণ বড়ুয়া, বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি: সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মো. মামুনুর রশিদ (৩৭) নামে এক বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর পাঁচ দিন পর শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাতে কফিনবন্দি হয়ে দেশে ফিরেছে তার মরদেহ। শনিবার রাতে চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক শাহ আমানত বিমানবন্দর থেকে নিহতের স্বজনরা মরদেহ গ্রহণ করেন।
নিহতের পারিবারিক সূত্র ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি জানান, গত মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সময় রাত ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে আবুধাবিতে নিজ ভাড়া বাসায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মামুনুর রশিদের মৃত্যু হয়। তিনি চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার কালীপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পালেগ্রাম তালুকদার বাড়ির মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে।
কালীপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. ফরিদ বলেন, 'নিহত মামুনুর রশিদ আমার আপন বোনের জামাতা। প্রায় ২০ বছর ধরে তিনি প্রবাসে ছিলেন। আবুধাবিতে তিনি কন্ট্রাক্টের ভিত্তিতে ভবনের ডেকোরেশন, টাইলস ও ডিজাইনের কাজ করতেন। নিজস্ব লাইসেন্স নিয়ে শ্রমিক দিয়ে এসব কাজ পরিচালনা করতেন।'
তিনি আরও বলেন, 'ঘটনার দিন রাতে কাজ শেষে বাসায় ফেরার পর এসিতে সমস্যা দেখা দিলে সেটি মেরামতের জন্য ছাদে যান মামুনুর। মেরামতের একপর্যায়ে অসাবধানতাবশত বিদ্যুতের সংস্পর্শে এলে তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন এবং ঘটনাস্থলেই মারা যান।'
বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতা শেষে শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে এয়ার অ্যারাবিয়ার একটি ফ্লাইটে তার মরদেহ চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক শাহ আমানত বিমানবন্দরে পৌঁছায়। পরে রাত ৯টার দিকে স্বজনরা মরদেহ গ্রহণ করেন।
নিহত মামুনুর রশিদ স্ত্রী, দুই মেয়ে ও এক ছেলেসহ তিন সন্তান রেখে গেছেন। তার বড় মেয়ে মামনুরের বয়স ১২ বছর, ছেলে মুহাম্মদ হোসাইনের বয়স ১০ বছর এবং ছোট মেয়ে মরিয়া আক্তারের বয়স ৪ বছর।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাতে লাশ পৌছার পর রাতে কালীপুর ইউনিয়নের পালেগ্রাম মাগন আলী জামে মসজিদ মাঠে মামুনুর রশিদের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।