শিরোনাম
◈ মোংলা বন্দরে রাজস্ব আয়ে নতুন রেকর্ড, এক বছরে আয় ৩,৮৭৯ কোটি টাকা ◈ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী ◈ গাজী নজরুলের এমপি পদ থাকবে কি না, পুলিশি ব্যবস্থা দেখে সিদ্ধান্ত: স্পিকার ◈ জাতিসংঘে উচ্চপর্যায়ের বিতর্কে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ◈ এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ ব্রোঞ্জ পদক নি‌শ্চিত কর‌লো ◈ বাংলাদেশের উন্নয়নে বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতা জোরদারে তাগিদ তারেক রহমানের ◈ জাতিসংঘের কার্যকারিতা ফেরানো ও নিরাপত্তা পরিষদ সংস্কারে জোর খলিলুর রহমানের ◈ ঢাকার সঙ্গে সব দ্বিপক্ষীয় বিষয়ে আলোচনায় প্রস্তুত নয়াদিল্লি ◈ জাতিসংঘ অধিবেশনের ফাঁকে ভুটান-মালদ্বীপের নেতাদের সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক ◈ ইরানকে ‘নরকে ঠেলে’ দেওয়ার হুমকি, কিউবার শাসনব্যবস্থার পতনের ঘোষণা ট্রাম্পের

প্রকাশিত : ২৭ আগস্ট, ২০১৯, ০৪:০১ সকাল
আপডেট : ২৭ আগস্ট, ২০১৯, ০৪:০১ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

মোবাইলে তিন মিনিটের বেশি কথা নয়, ১৬ বছরের নিচে ব্যবহার উচিত নয়, বললেন ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত

নিউজ ডেস্ক: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ও বিশিষ্ট নাক, কান গলা বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত বলেছেন, ১৬ বছরের কমবয়সী কারো হাতে মোবাইল ফোন দেয়া উচিত নয়। অনেক্ষণ মোবাইল ফোনে কথা বললে মাথা ব্যথা, ঘুম না আসা, সহজ বিষয়ও ভুলে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। একটানা বেশি সময় ধরে মোবাইল ব্যবহার করার কারণে তিনটা জয়েন্ট অকেজো হচ্ছে- শোল্ডার, এলবো, রিস্ট জয়েন্ট।সূত্র: ফুলগাজী নিউজ।

বৃহস্পতিবার সকালে চট্রগ্রামের ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি (ইউএসটিসি) আয়োজনে মাওলানা ভাসানী অডিটোরিয়ামে ‘মোবাইল ফোন : স্বাস্থ্য ঝুঁকি’ শীর্ষক এক সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

উপস্থাপনায় মোবাইল ফোন ব্যবহার ও এর ঝুঁকি থেকে বাঁচতে কিছু সুপারিশ তুলে ধরেন অধ্যাপক ডা. প্রান গোপাল দত্ত। সুপারিশমালায় তিনি বলেন- দীর্ঘ সময় ধরে মোবাইল ফোনে কথা বলা উচিত নয়। তিন মিনিটের বেশি কথা না বলাই ভালো। কথার মাঝখানে ১৫ মিনিট বিরতি নেয়া, প্রয়োজনে স্পিকার বা হেডফোন ব্যবহার করা। এছাড়াও মোবাইলের বেইজ স্টেশন থেকে দূরে থাকতে হবে। রাস্তা পারাপারের সময় ফোনে কথা নয়।

আইসিইউতে মোবাইল ব্যবহারের ব্যাপারে প্রাণ গোপাল বলেন, সার্জনরা যখন অপারেশন করেন তখন ওটির ভেতর মোবাইল ব্যবহার করা ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ, ওই মোবাইলের রেডিয়েশনটা রোগীকে দিচ্ছেন। আর অপারেশনকালীন যেসব মেশিন আমরা ইউজ করি তার ম্যালফাংশনিং হতে পারে। অনেকেই অপারেশন করছেন, ওই সময় অনেকের মোবাইল আসছে। ওই সময় যদি এমন কোনো সংবাদ আসে যে, আপনার ছেলে এক্সিডেন্ট করছে, তখন তিনি কীভাবে অপারেশন কন্টিনিউ করবেন? অথবা আপনার বাবা মারা গেছেন। তখন এ সংবাদ শোনার পর আপনি কীভাবে অপারেশন কন্টিনিউ করবেন?

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক গবেষণার বরাত দিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন এ উপাচার্য বলেন, মোবাইল ফোন ও এর বেইজ স্টেশন থেকে আনলাইকলি ক্যান্সার, ব্রেইন টিউমার ও স্লেভারি গ্লান্ড টিউমারের ঝুঁকির শঙ্কা রয়েছে। মোবাইল ফোন আসার পর আমেরিকায় সড়ক দুর্ঘটনা বেড়েছে ৪ গুণ। মৃত্যুর হার বেড়েছে ১০ গুণ। তাছাড়া মোবাইলে ট্র্যাপ এখন ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে। আর ফেসবুক তো আছেই। এক গবেষণায় তথ্য- ফেসবুক মানুষের মস্তিস্কে কোকেনের মতোই আসক্তি সৃষ্টি করে।

ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত আরও বলেন, বিল গেটস ১৪ বছরের আগ পর্যন্ত নিজের কোন ছেলেকে মোবাইল দেননি। মোবাইল ফোনের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে বিল গেটস জানেন বলেই দেননি।

প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সংবাদপত্র ‘দৈনিক আজাদী’র সম্পাদক এম এ মালেক। প্রফেসর ড. এ এম এম এহেতশামুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য প্রফেসর ড. নুরুল আবসার, ভারপ্রাপ্ত ট্রেজারার প্রফেসর ড. শফিউল হাসান ও বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল হাসপাতালের সিইও আহমদ শিফার উদ্দিন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে এম এ মালেক বলেন, মোবাইল ফোনের ব্যবহার নিয়ে আজকের যে সেমিনার, বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সেমিনারের মূল বক্তা মোবাইল ফোন ব্যবহারের ভালো-মন্দ দিক সম্পর্কে বিস্তারিত বলেছেন। এখানে যারা আছেন, সবাই বিবেকবান মানুষ। আশা করছি, আপনারা নিজেরাই বিষয়ের গভীরতা অনুধাবন করবেন। প্রযুক্তির ভালো-মন্দ উভয় দিকই রয়েছে। তবে ব্যবহারের বিষয়ে গণসচেতনতা প্রয়োজন। আজকের এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্যও কিন্তু এ বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি।

ট্রাফিক সিস্টেমের খুব খারাপ অবস্থা উল্লেখ করে আজাদী সম্পাদক বলেন, কোথাও যেতে হলে এখন কয়েক ঘন্টা লেগে যায়। তবে এক্ষেত্রে মোবাইল ফোনের একটি সুবিধা রয়েছে। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে অফিসের সব কাজ করে ফেলা যায়।

অনুষ্ঠানের সভাপতি প্রফেসর ডা. এএমএম এহেতশামুল হক বলেন, প্রযুক্তি আমাদের জন্য প্রয়োজনীয়। কিন্তু এর অপব্যবহার রোধে ১৬ বছরের নিচের বয়সী সন্তানদের হাতে মোবাইল না দেয়া উচিত। এবং আমাদেরও ২ থেকে ৩ মিনিটের মধ্যে প্রয়োজনীয় কথা সেরে মোবাইল রাখতে হবে।

  • সর্বশেষ