স্পোর্টস ডেস্ক : টেলিভিশনের পর্দা থেকে খবরের কাগজ, কিংবা বিলবোর্ড, নরওয়ের তারকা ফুটবলার আর্লিং হালান্ডের ছবি দেখা যায় হরদম। কিন্তু সেই ছবি যে মাদক পাচারের বাক্সেও দেখা যাবে, তা বোধ হয় ভাবেননি কেউ। হ্যাঁ, এমন ঘটনা নিয়েই এখন সরগরম নেটভুবন।
এমন ঘটনা ঘটেছে ইকুয়েডরে। সেখানে উদ্ধার হয়েছে ৪৬৯ কেজি কোকেন। সেই ছবি ইতিমধ্যেই ভাইরাল। কলম্বিয়া সীমান্তের কাছে একটি ট্রাক থেকে বিপুল পরিমাণ কোকেন উদ্ধার করেছে ইকুয়েডরের পুলিশ। উদ্ধার হওয়া মাদকের বাজারমূল্য প্রায় ২০০ কোটি টাকা। কোকেন রাখা বাক্সগুলির গায়ে ছিল হালান্ডের ছবি। নরওয়ের জার্সি পরা হালান্ডের ছবির সঙ্গে আঁকা ছিল বিশ্বকাপের ট্রফিও।
পুলিশের দাবি, মাদক পাচারকারীরা অনেক সময় প্যাকেট বা বাক্সে পরিচিত তারকাদের ছবি ব্যবহার করে। এর মাধ্যমে পাচারের সঙ্গে যুক্ত চক্র এবং ক্রেতাদের চিহ্নিত করার জন্য বিশেষ সংকেত দেওয়া হয়। শুধু ফুটবল নয়, অন্যান্য খেলা এবং বিনোদন জগতের তারকাদের ছবিও এভাবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে সেই সংকেত হিসাবে ব্যবহার করা হয়েছে হালান্ডের ছবি। উদ্ধার হওয়া অন্য একটি প্যাকেটেও আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসির ছবি দেখা গিয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মাদকের খবর পেয়ে পান-আমেরিকান হাইওয়েতে অভিযান চালায় ইকুয়েডর পুলিশ। গুয়াগুয়া নেগ্রো এলাকায়, তুলকান শহরের কাছে একটি ট্রাক তল্লাশি করে তার নীচে লুকিয়ে রাখা কোকেনের সন্ধান পান তদন্তকারীরা। ঘটনায় মারিয়া নামে এক মহিলাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁর কাছে কলম্বিয়ার পরিচয়পত্র ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। ওই মহিলাই ট্রাকটি চালাচ্ছিলেন। তাঁকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। এই পাচারচক্রের সঙ্গে আর কারা যুক্ত, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
মাদক পাচারের ক্ষেত্রে ইকুয়েডরকে ‘লজিস্টিক্যাল হাব’ হিসাবে মনে করা হয়। বিভিন্ন দেশ থেকে মাদক সেখানে মজুত ও সরবরাহের পর মধ্য আমেরিকার বিভিন্ন রুট হয়ে মূলত আমেরিকায় পাঠানো হয়। ইউরোপেও মাদক পাচারের রুট রয়েছে বলে তদন্তকারীদের দাবি। এবারের বিশ্বকাপে প্রথমবার খেলতে নেমেই নজর কেড়েছেন হালান্ড। সাতটি গোল করে নরওয়েকে কোয়ার্টার ফাইনালে তুলেছিলেন তিনি। তবে শেষ আটের লড়াইয়ে ফ্রান্সের কাছে হেরে বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হয় নরওয়ের।