শিরোনাম
◈ হঠাৎ অসুস্থ মির্জা ফখরুল, বক্তব্য অসমাপ্ত রেখেই বিদায় ◈ চেক ডিজঅনার মামলায় সালমান এফ রহমানের জামিন ◈ হামের উপসর্গে আরও ৮ শিশুর প্রাণহানি, হাসপাতালে ভর্তি প্রায় ৯৮ হাজার ◈ ৪ প্রশ্ন না বুঝলে ৩১ দফা বুঝলো কীভাবে— শফিকুর রহমানের প্রশ্ন ◈ জিয়াউর রহমান হত্যায় জড়িত ৪৫ বছর ধরে পলাতক মেজর মোজাফফর আটক ◈ নারী-শিশুর অধিকার সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ রায় দিল হাইকোর্ট ◈ সব স্কুল ও কলেজের জন্য মাউশির জরুরি নির্দেশনা ◈ ভবিষ্যতের যুদ্ধ সফটওয়্যার ও এআইয়ের, প্রস্তুত হচ্ছে ইউরোপ ◈ আন্দোলনে অনেকেই পরীক্ষার্থী নন, সরকারকে বিব্রত করতে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করছে কিছু মহল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী (ভিডিও) ◈ একজনকে বাঁচাতে গিয়ে নদীতে ডুবে চার শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু

প্রকাশিত : ১৬ জুলাই, ২০২৬, ০৪:৪৬ দুপুর
আপডেট : ১৬ জুলাই, ২০২৬, ০৫:০০ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ব্রাজিলের কিংবদন্তি কাফুর অনন্য রেকর্ডে ভাগ বসাচ্ছেন মেসি

টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। স্পেনের বিরুদ্ধে শিরোপা ধরে রাখার এই লড়াইয়ে স্বভাবতই সব আলো কাড়ছেন আলবিসেলেস্তে অধিনায়ক লিওনেল লিওনেল মেসি। ফুটবল ইতিহাসকে নিজের মতো করে রাঙানো এই মহাতারকা এবার আরও একটি ঐতিহাসিক রেকর্ডের দোরগোড়ায়। 

স্পেনের বিপক্ষে মাঠে নামলেই ব্রাজিলের কিংবদন্তি কাফুর পর ইতিহাসের দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে তিনটি বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলার অনন্য কীর্তি স্পর্শ করবেন মেসি। 

বিশ্বকাপের মঞ্চে তিনটি ফাইনাল খেলার একক রেকর্ডটি এতদিন ছিল কেবল ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রাইটব্যাক কাফুর দখলে। তার এই যাত্রার শুরু হয়েছিল ১৯৯৪ সালের যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপে, ইতালির বিপক্ষে ফাইনালে। ২৪ বছর বয়সি তরুণ কাফু তখনো মহাতারকা হয়ে ওঠেননি। ম্যাচের শুরুতে বেঞ্চে থাকলেও, প্রথমার্ধের মাঝামাঝি সময়ে জর্জিনহোর ইনজুরির কারণে মাঠে নামার সুযোগ পান তিনি। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে পুরো ম্যাচ খেলেন এবং পেনাল্টি শুটআউটে ব্রাজিলের চতুর্থ বিশ্বকাপ জয়ের সাক্ষী হন। 

এরপর ১৯৯৮ সালের ফ্রান্স বিশ্বকাপে কাফু ছিলেন ব্রাজিল দলের অবিসংবাদিত স্তম্ভ। তবে সেবার জিনেদিন জিদানের ফ্রান্সের কাছে হেরে রানার্সআপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় তাকে। 

ব্রাজিলিয়ান এই কিংবদন্তির ক্যারিয়ারের চূড়ান্ত মুকুটটি আসে ২০০২ সালের কোরিয়া-জাপান বিশ্বকাপে। অধিনায়ক হিসেবে দলকে ফাইনালে নেতৃত্ব দিয়ে জার্মানিকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে সেবার পাঁচ তারকা খচিত সেলেসাওদের শিরোপা উঁচিয়ে ধরেন তিনি। ফলে ইতিহাসের একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে টানা তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলার রেকর্ড গড়েন কাফু। 

এদিকে, লিওনেল মেসি তার দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ফুটবল মানচিত্রে গভীর দাগ কেটেছেন। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও গুইলারমো ওচোয়ার মতো কিংবদন্তিদের পাশে বসে তিনি অংশ নিয়েছেন মোট ছয়টি বিশ্বকাপে। মাত্র ১৮ বছর বয়সে নিজের প্রথম বিশ্বকাপ খেলা মেসি দুই দশক পরও আন্তর্জাতিক ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রেখেছেন।

মেসির বিশ্বজয়ের যাত্রাটা যদিও সহজ ছিল না। 

২০১৪ সালে ব্রাজিলের মাটিতে জার্মানির বিপক্ষে নিজের প্রথম বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলেন তিনি। তবে অতিরিক্ত সময়ের গোলে ১-০ ব্যবধানের সেই হার ছিল আর্জেন্টিনার জন্য চরম বেদনার। 

অবশেষে ফুটবল বিধাতা যেন মেসির প্রাপ্য ফিরিয়ে দিলেন ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে। এমবাপ্পের ফ্রান্সের বিরুদ্ধে ইতিহাসের অন্যতম রোমাঞ্চকর ও শ্বাসরুদ্ধকর ফাইনাল শেষে আর্জেন্টিনার জার্সিতে তৃতীয় বিশ্বকাপ জয় করেন মেসি। 

আর আগামী রোববার (১৯ জুলাই) স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচটি হতে যাচ্ছে তার ক্যারিয়ারের তৃতীয় বিশ্বকাপ ফাইনাল। এই ম্যাচের ফলাফল যা-ই হোক না কেন, ফুটবল ইতিহাসের পাতায় মেসির নাম যে স্বর্ণাক্ষরে লেখা হয়ে গেছে, তা বলাই বাহুল্য। 

উল্লেখ্য,  ইতিহাসে রোনালদো নাজারিও, পেলে, লোথার ম্যাথাউস এবং পিয়ের লিটবারস্কির মতো কিংবদন্তিরাও তিনটি বিশ্বকাপের ফাইনালে স্কোয়াডে ছিলেন। কিন্তু কাফু এবং আসন্ন ম্যাচে মেসির সঙ্গে তাদের একটি বড় পার্থক্য রয়েছে। 

বয়স বা ইনজুরির কারণে এই তারকাদের কেউ না কেউ কোনো একটি ফাইনালের মূল ম্যাচে মাঠে নামতে পারেননি। ফলে পূর্ণাঙ্গভাবে তিনটি ফাইনাল খেলার রেকর্ডে কাফুর পর কেবল মেসিই নিজের নাম লেখাতে চলেছেন। 

মেসি তিনটি বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলার অপেক্ষায় থাকলেও টানা তিন বিশ্বকাপ খেলার অনন্য রেকর্ড অবশ্য কাফুর দখলেই থাকছে। 

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়