স্পোর্টস ডেস্ক : এ যেন ফাইনালের আগে ফাইনাল ম্যাচ। বলতে গেলে ইতিহাসের নতুন বাঁকে আর্জেন্টিনা ইংল্যান্ড ফুটবল দল। বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে আজ দিবাগত রাত (১৬ জুলাই) মুখোমুখি হচ্ছে ফুটবল বিশ্বের দুই পরাশক্তি আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। প্রথম সেমিফাইনাল শেষে ফাইনালে ওঠা দলের অপেক্ষা এখন এই লড়াইয়ের বিজয়ীর জন্য। যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ম্যাচটি শুধু একটি সেমিফাইনাল নয়, ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম আবেগঘন দ্বৈরথের নতুন অধ্যায়।
ফুটবলপ্রেমীদের কাছে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড মানেই ইতিহাস, আবেগ, প্রতিশোধ, গৌরব আর অসংখ্য স্মৃতির মিশেল। দুই দলের প্রতিটি বিশ্বকাপ লড়াই নতুন করে আলোচনায় নিয়ে আসে অতীতের সেই সব মুহূর্ত, যা ফুটবল ইতিহাসের অংশ হয়ে গেছে। --- ঠিকানা/নিউইয়র্ক
বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগে থাকছেন লিওনেল মেসি, লাউতারো মার্তিনেজ ও হুলিয়ান আলভারেজ। অন্যদিকে ইংল্যান্ডের ভরসা অধিনায়ক হ্যারি কেইন, জুড বেলিংহাম, ডেকলান রাইস ও অ্যান্থনি গর্ডনের মতো তারকারা। একদিকে ইংলিশদের শক্তিশালী ও শারীরিক ফুটবল, অন্যদিকে আর্জেন্টিনার কারিগরি নৈপুণ্য—এই দুই ভিন্ন দর্শনের সংঘর্ষই ম্যাচটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড দ্বৈরথের কথা উঠলেই ফিরে আসে ১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপ। কোয়ার্টার ফাইনালে দিয়েগো মারাদোনার দুটি গোল আজও ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্তগুলোর একটি। প্রথমটি ‘হ্যান্ড অব গড’ নামে পরিচিত, আর দ্বিতীয়টি বহু বিশ্লেষকের মতে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সেরা গোল। একক নৈপুণ্যে একের পর এক ইংলিশ ফুটবলারকে কাটিয়ে করা সেই গোল আজও কিংবদন্তির মর্যাদা ধরে রেখেছে।
এর আগে ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ড ১-০ গোলে হারিয়েছিল আর্জেন্টিনাকে। পরে ১৯৯৮ বিশ্বকাপে ডেভিড বেকহামের লাল কার্ড এবং টাইব্রেকারে আর্জেন্টিনার জয় দুই দেশের ফুটবল প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে আরও তীব্র করে তোলে। ২০০২ বিশ্বকাপে আবার বেকহামের একমাত্র গোলে জিতে প্রতিশোধ নেয় ইংল্যান্ড।
১৯৬৬ সালের পর আর বিশ্বকাপ জিততে পারেনি ইংল্যান্ড। এবার সেই দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন দেখছে থ্রি লায়ন্সরা।
অন্যদিকে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার দুর্দান্ত রেকর্ড ধরে রাখার চ্যালেঞ্জও রয়েছে। বিশ্বকাপ ইতিহাসে সেমিফাইনালে খুব কমই ব্যর্থ হয়েছে আলবিসেলেস্তেরা। সেই ঐতিহ্য অক্ষুণ্ন রাখতে চাইবেন কোচ লিওনেল স্কালোনি।
ম্যাচটি মেসির জন্যও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ৩৯ বছর বয়সী এই মহাতারকা ক্যারিয়ারে বহু স্মরণীয় ম্যাচ খেললেও বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলার সুযোগ এবারই প্রথম। তাই তার পারফরম্যান্স ঘিরে আগ্রহও তুঙ্গে।
ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইনও ম্যাচটিকে শুধু একটি সেমিফাইনাল হিসেবে দেখছেন না। তার ভাষায়, দুই দেশের ফুটবল ইতিহাস ও অতীতের স্মৃতি এই লড়াইকে অন্য মাত্রা দিয়েছে। সেই ইতিহাস ভেঙে নতুন অধ্যায় লেখাই তাদের লক্ষ্য।
আর্জেন্টিনা শিবিরে ক্লান্তি নিয়ে আলোচনা থাকলেও কোচ স্কালোনি জানিয়েছেন, খেলোয়াড়দের শারীরিক সক্ষমতা ধরে রাখতে বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত সব হিসাব-নিকাশ নির্ধারণ হবে মাঠের লড়াইয়ে।
ফুটবল বিশ্বের কোটি সমর্থকের চোখ থাকবে আটলান্টার দিকে। একদিকে মেসির স্বপ্নের আরেকটি অধ্যায়, অন্যদিকে ইংল্যান্ডের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসানের লড়াই। নব্বই মিনিট—বা তারও বেশি সময়—শেষেই জানা যাবে, বিশ্বকাপের ফাইনালে কারা লড়বে সোনালি ট্রফির জন্য।