স্পোর্টস ডেস্ক : এক দিন পরেই চলতি বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় ম্যাচে নামবে ইংল্যান্ড। তার আগে কি দলের অন্দরের পরিবেশ ভাল নেই? নরওয়েকে হারিয়ে দু’রকম কথা বলেছিলেন ইংল্যান্ডের কোচ টমাস টুখেল ও ফুটবলার জুড বেলিংহ্যাম। তার পর থেকেই কি ইংল্যান্ড শিবিরে অশান্তি শুরু হয়েছে? এই বিষয়ে মুখ খুললেন হ্যারি কেন।
ইংল্যান্ডের অধিনায়কের মতে, কোচের কথার অর্থ তিনি বুঝতে পেরেছেন। কেন বলেন, আমি বুঝতে পেরেছি। আমার মতে, যারা খেলতে নামে তাদের থেকে ভাল সেই পরিবেশ কেউ বুঝতে পারে না। কিন্তু কোচ কী বলেছে সেটাও বুঝতে হবে। কোচ আমাদের মানসিকতা নিয়ে বলেছে। সব সময় একই রকম মানসিকতা ধরে রাখা মুশকিল। কিন্তু জিততে গেলে সেই মানসিকতা রাখতেই হবে।
কেনের মতে, খেলা শেষ হওয়ার পাঁচ মিনিটের মধ্যেই যদি কোনও ফুটবলারকে বলা হয়, কোচ তাঁদের খেলায় খুশি নয়, তা হলে খারাপ লাগা স্বাভাবিক। তিনি বলেন, “বেলিংহ্যামের দিকটাও আমরা বুঝতে পারছি। একটা এত কঠিন ম্যাচ জোর পাঁচ মিনিটের মধ্যে যদি কেউ এত কঠিন প্রশ্ন করে, তা হলে বিরক্ত লাগা স্বাভাবিক। আমরা সকলেই এই সময়টার মধ্যে দিয়ে গিয়েছি। খুব কঠিন পরিস্থিতি হয়।
তা হলে কেন এই সমস্যা হল? কেনের মতে, ইংল্যান্ডের সংবাদমাধ্যমে সমস্যা তৈরি করতে ওস্তাদ। তিনি বলেন, “সমস্যা তৈরি করা খুব সহজ। আমার মনে হয় ইংরেজ মানসিকতা এর জন্য দায়ী। ইংল্যান্ডের সংবাদমাধ্যম এমন প্রশ্ন করে, যাতে বিভাজন তৈরি হয়। কিন্তু বাস্তব সম্পূর্ণ উল্টো। আমরা সকলে এক হয়ে খেলছি। ফুটবলার, কোচ, কোচিং স্টাফ সকলে একটা দল হয়ে খেলছি। আমাদের মধ্যে কোনও সমস্যা নেই।
ঠিক কী হয়েছিল?
নরওয়ের বিরুদ্ধে পিছিয়ে পড়েও ২-১ গোলে জিতেছে ইংল্যান্ড। দু’টি গোলই করেছেন বেলিংহ্যাম। কঠিন ম্যাচ জেতার পরেও দলের খেলায় খুশি হতে পারেননি টুখেল। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, “আমি দলের খেলায় খুশি নই। সকলে চেষ্টা করেছে। কিন্তু যে ভাবে খেলেছি, তাতে আমরা নিজেই আমাদের কাজটা কঠিন করে তুলেছি। দ্রুতগতিতে খেলতে পারিনি। বেশি সুযোগ তৈরি করতে পারিনি। আমরা ভাগ্যের জোরে জিতেছি।
কোচের এই মন্তব্য নিয়ে প্রশ্ন করা হয় বেলিংহ্যামকে। তিনি প্রথমে বিষয়টি এড়িয়ে যান। পরে আবার একই প্রশ্ন করা হলে বেলিংহ্যাম বলেন, “উনি হয়তো জানেন না, মাঠে নেমে খেলার অভিজ্ঞতা কেমন। বিশেষ করে যদি প্রতিপক্ষ দলে হালান্ড, ওডেগার্ড, নুসা, সরলথের মতো ফুটবলার থাকে। ওদের বিরুদ্ধে খেলা সহজ নয়। আমরা একটা ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করেছি। জিতেছি। সেমিফাইনালেও সেটাই করবো।
টুখেলের ১৮০ ডিগ্রি বিপরীতে গিয়ে দলের খেলার প্রশংসা করেছেন বেলিংহ্যাম। তিনি বলেন, “সকলে দুর্দান্ত খেলেছে। প্রতি ম্যাচে তো আর ১০০০ পাস খেলে জেতা যায় না। কখনও নোংরা ফুটবলও খেলতে হয়। সেটা এই ম্যাচে আমরা করেছি।”
পরে বেলিংহ্যামের সেই জবাব শোনানো হয় টুখেলকে। এ বার আর বিতর্ক বাড়াননি ইংল্যান্ডের কোচ। তিনি বলেন, “ওর কথা একদমই সত্যি। যে ভাবে আমরা গোল খাওয়ার পর ফিরেছি, নিজেদের উপর বিশ্বাস রেখে জিতেছি, জেতার রাস্তা খুঁজে পেয়েছি, তার জন্য সকলকে তো কৃতিত্ব দিতেই হবে।
কিন্তু তার পরেও দলের উন্নতি প্রয়োজন বলেই মনে করছেন কোচ টুখেল। তিনি বলেন, “আমি তো একজন কোচ। আমি খেলাটা বুঝতে পারি। আমাদের আরও ভাল খেলতে হবে। এর থেকে অনেক ভাল খেলার ক্ষমতা আমাদের আছে। সেমিফাইনালে লড়াই আরও কঠিন হতে পারে। তাই আরও ভাল না খেললে মুশকিল।