স্পোর্টস ডেস্ক : আফগানিস্তানের তালেবান সরকার ২০২১ সালে আফগানিস্তান দখলের পর নারীদের ক্রিকেট সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেয়। বন্ধ হয়ে যায় নারীদের সকল ক্রিকেট কার্যক্রম। এরপর বহু আফগান নারী ক্রিকেটার দেশ ছেড়ে পালিয়ে এসে বর্তমানে বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছে। তাদের জন্যই এবার এক নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। -- ডেইলি ক্রিকেট
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) ২০৩০ সালের মধ্যে আফগান শরণার্থী নারী ক্রিকেট দলকে নিজেদের বৈশ্বিক টুর্নামেন্টের বাছাইপর্বে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যে দীর্ঘমেয়াদি রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে। যদিও দলটি আফগানিস্তানের নামে খেলতে পারবে না, কারণ তারা আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (এসিবি) আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পাচ্ছে না।
স্কটল্যান্ডের এডিনবরায় অনুষ্ঠিত আইসিসির বার্ষিক সম্মেলনে এ সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হয়। একই সঙ্গে দলটির উন্নয়ন কার্যক্রম তদারকিতে পুনর্গঠন করা হয়েছে স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। নতুন কমিটিতে আইসিসির স্বাধীন পরিচালক রস রিভাজ, চিফ এক্সিকিউটিভস কমিটির সদস্য সারাহ কিন এবং ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই), ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের (ইসিবি) প্রতিনিধিরা রয়েছেন।
রস রিভাজ বলেন,"টাস্ক ফোর্সকে একটি সুস্পষ্ট ও টেকসই রোডম্যাপ তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যাতে কাঠামোবদ্ধ কোচিং, অর্থবহ প্রতিযোগিতামূলক সুযোগ এবং উপযুক্ত উচ্চ-পর্যায়ের প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার মাধ্যমে আফগান শরণার্থী নারী ক্রিকেটারদের ধারাবাহিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা যায়।
চলতি বছরের শুরুতে চালু হওয়া এই কর্মসূচির আওতায় খেলোয়াড়দের কোচিং, শক্তি ও ফিটনেস প্রশিক্ষণ, ফিজিওথেরাপি এবং ধাপে ধাপে আরও উন্নতমানের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া অব্যাহত থাকবে। অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড ও কানাডায় অবস্থানরত আফগান নারী খেলোয়াড়েরা নিজ নিজ দেশের স্থানীয় ক্রিকেট ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত থাকবেন। পাশাপাশি নির্দিষ্ট সময় অন্তর বিদেশে প্রশিক্ষণ ক্যাম্প ও সফরে একত্রিত হবেন।
দলের ক্রিকেটার নাহিদা সাপন বলেন, 'এই কর্মসূচি আমাদের জন্য সত্যিই বড় পরিবর্তন এনে দিয়েছে। এটি শুধু ক্রিকেট চালিয়ে যেতে সাহায্য করেনি, দল হিসেবে একসঙ্গে থাকার সুযোগও করে দিয়েছে। আইসিসি এবং টাস্কফোর্স আমাদের ক্রিকেট উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, এটি শুনে আমরা খুবই আশ্বস্ত।
ফিরোজা আফগান বলেন, 'ভারত ও ইংল্যান্ড সফরের অভিজ্ঞতা আমাদের বিশ্বাস আরও দৃঢ় করেছে যে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আমাদের ভবিষ্যৎ আছে। ২০৩০ সালের লক্ষ্য আমাদের সামনে স্পষ্ট একটি পথ তৈরি করেছে. আমরা সেই সুযোগটা কাজে লাগাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো।