শিরোনাম
◈ মাইক্রোসফট-অ্যাডোবিসহ মার্কিন ও ভারতীয় ৮ প্রতিষ্ঠানের গ্রিন কার্ড আবেদন স্থগিত করল ট্রাম্প প্রশাসন ◈ শাহজালাল বিমানবন্দর ঘিরে সক্রিয় ডাকাত চক্রের দৌরাত্ম্য, ভাড়াটে ডাকাত ধরা পড়লেও ধরাছোঁয়ার বাইরে মাফিয়ারা! ◈ সন্দেহের বশে কাউকে বাংলাদেশি বলে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো যাবে না: কলকাতা হাইকোর্টের বিচারক ◈ ডি‌সেম্ব‌রে হাসিনার প্রত্যাবর্তন: আ.লীগকে রুখতে তৃণমূল নেতা‌দের রাজপ‌থে থাকার নি‌র্দেশ বিএনপির  ◈ প্রতিরক্ষা শিল্পে নতুন সম্ভাবনা, দেশে ফ্রিগেটসহ যুদ্ধজাহাজ নির্মাণের উদ্যোগ ◈ রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই বাণিজ্য বাধা দূর করতে বাংলাদেশ-ভারত বৈঠক ◈ ৭ অক্টোবরের পর মধ্যপ্রাচ্যে কার শক্তি বাড়ল, কার কমল? : আলজাজিরার বিশ্লেষণ ◈ এশিয়া কাপে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা, আফগা‌নিস্তান ও মাল‌য়ে‌শিয়া ◈ আগামী বছ‌রের ১৮ মার্চ শুরু হচ্ছে পা‌কিস্তান সুপার লি‌গের দ্বাদশ আসর ◈ ৬ মাস নির্বাসনের মুখে ক্রিশ্চিয়া‌নো রোনাল্ডো, ক্ষমা চাইলে কমতে পারে শাস্তি

প্রকাশিত : ০৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১০ দুপুর
আপডেট : ০৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৪২ দুপুর

প্রতিবেদক : এল আর বাদল

ডি‌সেম্ব‌রে হাসিনার প্রত্যাবর্তন: আ.লীগকে রুখতে তৃণমূল নেতা‌দের রাজপ‌থে থাকার নি‌র্দেশ বিএনপির 

ডেস্ক রি‌পোর্ট: ডিসেম্বরের আগে আওয়ামী লীগের যেকোনো রাজনৈতিক তৎপরতা থামাতে তৃণমূল নেতাদের সর্বোচ্চ সতর্ক ও রাজপথে থাকার নির্দেশ দিয়েছে ক্ষমতাসীন বিএনপি।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফেরার ঘোষণাকে বিএনপি খুব একটা পাত্তা দিচ্ছে না। তবে এই ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ দেশে ‘অস্থিতিশীল’ পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করতে পারে বলে বিএনপি নেতারা আশঙ্কা করছেন। বৃহস্পতিবার দেশের জেলা পর্যায়ের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে এক ভার্চুয়াল বৈঠকে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।

দলীয় সূত্র জানিয়েছে, সম্প্রতি বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ জেলা ও জেলা পর্যায়ের কমিটিগুলোর পাশাপাশি সব অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনকে রাজপথে সক্রিয় থাকার নির্দেশ পাঠিয়েছে।----- সূত্র, টাইমস অফ বাংলা‌দেশ

বিএনপি নেতাদের মতে, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ থাকায় পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী স্বাভাবিকভাবেই তাদের প্রতিহত করবে। তবে বিএনপি কেবল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর ভরসা করে বসে থাকতে চায় না। ক্ষমতাচ্যুত দলটি যাতে কোনো সভা-মিছিল বা বিশৃঙ্খলা করতে না পারে, সেজন্য নেতাকর্মীদের কড়া পাহারায় থাকতে বলা হয়েছে।

Advertisement

সম্প্রতি শেখ হাসিনা বিদেশি গণমাধ্যমে ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করার পর থেকেই বিএনপির এই উদ্বেগ বাড়ে। বিএনপি নেতারা বলছেন, এই ঘোষণার পর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা নতুন করে মাঠে নামার ও নানা অজুহাতে কর্মসূচি সাজানোর চেষ্টা করছেন।

বিষয়টি পরে সরকার ও ক্ষমতাসীন বিএনপি বেশ গুরুত্বের সঙ্গে নিতে শুরু করে। আওয়ামী লীগের বিশৃঙ্খলা ও অপচেষ্টার প্রতিবাদে সম্প্রতি বিএনপি ও তাদের সহযোগী সংগঠনগুলো মিছিল ও সমাবেশ করেছে। এই ধরণের কর্মসূচি সামনেও চালু থাকবে।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স  বলেন, ‘বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে অনলাইন বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে তিনি আওয়ামী লীগের তৎপরতা এবং তাদের সুপ্ত চক্রান্তের বিষয়ে কঠোর বার্তা দিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, ‘কেন্দ্র থেকে সব সময়ই নির্দেশ আসে, আর রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আমরাও সতর্ক আছি। তা ছাড়া সামনে পূজাকে কেন্দ্র করে নানা ষড়যন্ত্রের চেষ্টা হতে পারে। সেদিকেও আমরা কড়া নজর রাখছি। তৃণমূলের নেতারা জানিয়েছে, আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য তৎপরতা সামলাতে বিএনপির হাইকমান্ড শুধু পুলিশের মুখাপেক্ষী হতে চায় না। তারা জেলা ও শহর পর্যায়ে দলের নিজস্ব সাংগঠনিক শক্তি মজবুত রাখার ওপরই বেশি জোর দিচ্ছে।

বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, সম্প্রতি শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানো নিয়ে ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল হাসানের একটি ফাঁস হওয়া অডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি আরও গুরুত্ব পায়। ওই ঘটনার পর ওসির বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা ও তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঢাকা বিভাগের দুটি জেলা বিএনপির সভাপতি টাইমসকে জানান, ‘কেন্দ্র থেকে তাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। সে অনুযায়ী তারাও প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন।

বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, ‘গণহত্যা চালিয়ে পালিয়ে যাওয়া কোনো দলের প্রধান নিজ দেশে ফিরে এসেছেন–এমন ঘটনা নজিরবিহীন। তিনি আরও বলেন, ‘শেখ হাসিনাও আর ফিরতে পারবেন না। তবে আওয়ামী লীগ কোনো গণ্ডগোল করার চেষ্টা করলে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা নেবে। তারপরও রাজনৈতিক দল হিসেবে আমরা সতর্ক আছি।

বিএনপি নেতারা জানান, মূলত তিনটি কারণে দলটি এই সতর্ক অবস্থান নিয়েছে: আওয়ামী লীগের কোনো কর্মসূচি যেন প্রকাশ্যে আসতে না পারে, তাদের কর্মসূচির কারণে যেন কোনো সংঘাত বা নাশকতা না ঘটে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি বিএনপির দলীয় সংগঠনও যেন তৈরি থাকে।

দলের বেশ কয়েকজন নেতা জানান, বিএনপির কর্মীরা এলাকা এলাকায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ওপর নজর রাখছেন। এমনকি নিষিদ্ধ এই দলটির কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে পারে–এমন সন্দেহভাজনদের তালিকা তৈরি করে তারা থানায় জমা দেওয়ার প্রস্তুতিও নিচ্ছেন। বিএনপি চেয়ারম্যানের আরেক উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, ‘আওয়ামী লীগ বেশি বাড়াবাড়ি করলে পুলিশ তাদের ধরা শুরু করবে। তখন তাদের নেতাকর্মীরা আবার গর্তে গিয়ে ঢুকবে। তা ছাড়া আমরাও তো মাঠে আছি।’

এদিকে, ঢাকার আশপাশের এলাকাগুলোতে বিএনপির অঙ্গ সংগঠনগুলোকে নিবেদিতপ্রাণ নেতাদের দিয়ে নতুন করে কমিটি গুছিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, আগামী দিনগুলোতে আওয়ামী লীগ ও বিরোধী জোটের রাজনৈতিক কর্মসূচি রুখে দিতে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী ও প্রস্তুত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সভাপতি খন্দকার এনামুল হক এনাম বলেন, কেন্দ্রের নির্দেশে আমরা ত্যাগী ও বিশ্বস্ত নেতাদের নিয়ে কমিটিগুলো নতুন করে সাজানোর কাজ শুরু করেছি।

  • সর্বশেষ