ডেস্ক রিপোর্ট: আগুন সন্ত্রাস আর বোমাবাজিতেই ভর করে ফিরে আসার চেষ্টা করছে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো। জুলাই বিপ্লবে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে দলটির সভাপতি ও স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার পলায়নের পর থেকেই বিভিন্ন ধরনের বিশৃঙ্খলা, নাশকতা আর ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে প্রকাশ্যে আসার চেষ্টা করছেন পলাতক নেতাকর্মীদের কেউ কেউ। দিল্লির আশ্রয়-প্রশ্রয়ে থাকা হাসিনার অডিও বার্তায় আগুন সন্ত্রাস ও বোমাবাজির পাশাপাশি সরাসরি হত্যাকাণ্ডের নির্দেশনা দিতেও শোনা গেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও রাজনীতিবিদদের মতে, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলেও সন্ত্রাস করে; আবার ক্ষমতাচ্যুত হলেও সন্ত্রাস করে। তবে এসব সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে জাতীয় ঐকমত্য আছে বলেও জানান রাজনীতিকরা। --- সূত্র, আমারদেশ
বর্তমান ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলের নেতারা জানান, ভোটারবিহীন নির্বাচন এবং জনগণকে দমিয়ে রাখতে শেখ হাসিনার সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলেও আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতারা যানবাহন পুড়িয়ে বিরোধী নেতাকর্মীদের মামলায় ফাঁসিয়েছেন।
আর রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ব্যাকরণে রিকনসিলিয়েশন বা আত্মসমালোচনা করে পরিশুদ্ধ হওয়ার অধ্যায় নেই। জবরদস্তিমূলক রাজনীতি দিয়েই সব সময় এ দলটি জনগণের ঘাড়ে সাওয়ার হওয়ার চেষ্টা করেছে। ১৯৭১ সালে স্বাধীন বাংলাদেশে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ সিরাজ শিকদারকে হত্যার মাধ্যমে এই দলটি জিঘাংমূলক রাজনীতির জানান দেয়।
১৯৯২ সাল থেকে ১৯৯৬ পর্যন্ত ১৭৩ দিন হরতালসহ অবরোধ, ভাঙচুর ও আগুন সন্ত্রাস করে। বিরোধী দলে থেকেও ২০০৪ সাল থেকে টানা ধ্বংসাত্মক রাজনীতি এবং ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর লগি-বৈঠার তাণ্ডব চালিয়ে অসংখ্য মানুষকে হত্যা করেছে।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ গত কদিনে রাজধানীসহ দেশের কয়েকটি স্থানে চোরাগোপ্তা ককটেল নিক্ষেপ ও বাসে আগুন দিয়েছে। গত ১৫ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টের প্রধান ফটকের সামনে একটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় সন্ত্রাসীরা। ওই রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পরপর তিনটি বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। ডিজিটালম্যাপ দেখুন
গত ১১ সেপ্টেম্বর গুলশান-১ এলাকায় অস্থিতিশীলতা তৈরি ও ঝটিকা মিছিলের চেষ্টাকালে বাধা দিলে পুলিশকে লক্ষ্য করে ককটেল ও বোমা নিক্ষেপ করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাবার বুলেট ছোড়ে পুলিশ এবং অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধার করা হয়।
১৯ সেপ্টেম্বর যাত্রাবাড়ী মোড় এলাকায় আবারও একাধিক ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। একইদিন রাত সাড়ে ১০টার দিকে কমলাপুর রেলস্টেশনের দুই নম্বর প্ল্যাটফর্মের নির্জন এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। রাতে কাফরুল থানার সামনে মিরপুর সুপার লিংক পরিবহনের একটি ফাঁকা বাসে আগুন দেওয়া হয়।
গতকাল রোববার সকালে রাজধানীর পল্লবীর ১২ নম্বর সিরামিক রোডে পরিস্থান পরিবহনের একটি বাসে আগুন দেয়। একইদিন দুপুরে হাইকোর্টের সামনের সড়কে একটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশ সিসিক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করছে। ই-পেপারসাবস্ক্রাইব করুন
এছাড়াও প্রায় একই সময় শিল্পকলা একাডেমির সামনের সড়কে একটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে ওই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। তবে সেখানে কাউকে আটকের খবর পাওয়া যায়নি।
এর আগে গত শুক্রবার জুমার নামাজের পর মালিবাগের সোহাগ বাস কাউন্টারের সামনে দুটি, সন্ধ্যায় আগারগাঁওয়ে বেতার ভবনের সামনে, সাড়ে ৬টার দিকে মহাখালী এলাকায়, রাত ৮টার দিকে বাবুবাজার ব্রিজের নিচে এবং রাত ৯টার দিকে মগবাজার মোড়ে একটি করে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে যাত্রাবাড়ী থানার প্রধান ফটকের সামনে একটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটে। এর কিছুক্ষণের মধ্যে যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তায় ট্রাফিক পুলিশ বক্সের সামনে আরো তিনটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এতে ইবাদুর রহমান নামে এক অটোচালক আহত হন।
এছাড়া রাত ১১টার দিকে রামপুরা বিটিভি ভবনের সামনে দুটি এবং ১২টার দিকে নিউ মার্কেট এলাকার ঢাকা কলেজের সামনে একটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। ডিজিটালম্যাপ দেখুন
গত মঙ্গলবার জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালীন সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করে রায় দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। এর কয়েক ঘণ্টা পর সুপ্রিম কোর্টের প্রধান ফটকের সামনে একটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পরে ওইদিন রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পরপর তিনটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।
অন্যদিকে ঢাকার বাইরে ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে ফরিদপুর সদরের করিমপুর হাইওয়ে থানার সামনে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের পাশে রাখা পূর্বাশা পরিবহনের একটি বাসে আগুন দেওয়া হয়। দুর্ঘটনার পর বাসটি পুলিশের হেফাজতে ছিল। আগুনে বাসটির অধিকাংশই পুড়ে যায়। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। স্থানীয় বিএনপি নেতারা বলছেন, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ক্যাডাররা এ ঘটনা ঘটিয়েছে।
২০ সেপ্টেম্বর ভোরে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের গোপালচরণ এলাকায় তিনটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আবু সোলাইমান সরকারের বাড়ির সামনে, গোপালচরণ উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে এবং বিদ্যালয়ের দক্ষিণ পাশের সড়কে বিস্ফোরণগুলো ঘটে।স্থানীয়দের দাবি, বিস্ফোরণের সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান শোনা গেছে।
আ.লীগ নেতাদের নির্দেশেই আগুন
বিদেশে পালিয়ে থাকা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের নির্দেশনায় রাজধানীতে ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে ডিবির কর্মকর্তারা জানান, রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বংশাল এলাকার একটি ইউনিটের দপ্তর সম্পাদকসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার রায়হান উদ্দিন বংশাল এলাকার ৬ নম্বর ইউনিট আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক। গ্রেপ্তার অপর তিনজন হলেন আলাউদ্দিন, রাসেল খান ও আব্দুল্লাহ।
ডিবির ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনার মোল্লা মো. শাহীন বলেন, গত শুক্রবার যাত্রাবাড়ীতে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলের সিসিটিভির ফুটেজ সংগ্রহ করে রায়হান উদ্দিনকে শনাক্ত করা হয়। পরে শনিবার রাতে লালবাগ এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়। পরে আরো তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
রাজনৈতিক ঐকমত্যের তাগিদ
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের মূলোৎপাটনে জুলাইয়ের মতো দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ করার তাগিদ দিয়েছেন জাতীয় অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ। আমার দেশকে তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে স্বৈরশাসক শেখ হাসিনা ভারতের আশ্রয়ে রয়েছেন। তার দলের অধিকাংশ নেতাও সম্প্রসারণবাদি ওই দেশটিতে নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে বসবাস করছেন।
তিনি বলেন, কখনোই আওয়ামী লীগের নিজস্ব কোনো রাজনীতি ছিলো না, এখনো নেই। ভারতের রাজনীতিটাই তারা সবসময় করে আসছে। ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত হাসিনার অবৈধ সরকার ভারতের প্রতি আশীর্বাদপুষ্ট থেকে তাদের সব হুকুম মেনে কাজ করেছে।
ড. মাহবুব উল্লাহ আরো বলেন, বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল পরিবেশ থাকুক, এটা ভারত কখনোই চায়নি। আর এ কাজগুলো তারা আওয়ামী লীগের মাধ্যমেই করে চলেছে। জুলাই বিপ্লবে সব রাজনৈতিক দল ও মতের মানুষ যেভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে গর্জে উঠে হাসিনার পতন ও পলায়ন নিশ্চিত করেছে, ঠিক সেভাবেই আবার নতুন ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। এক্ষেত্রে সরকারের দায়িত্ব বেশি বলেও জানান তিনি। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের আগুন সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে সরকারকে আরো কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। দলটিকে দ্রুত বিচারের আওতায় আনা জরুরি।
আওয়ামী সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ঐক্য
সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন স্থানে যানবাহনে আগুন ও ককটেল নিক্ষেপের ঘটনাকে আওয়ামী লীগের পুরোনো রাজনৈতিক চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ বলে উল্লেখ করে রাজনৈতিক ঐক্যের কথা বলেছেন ক্ষমতাসীন দল বিএনপি ও বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, পতিত ফ্যাসিবাদী, মাফিয়া শক্তি ও নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে রাতের অন্ধকারে দুয়েকটি জায়গায় ককটেলবাজি করেছে। এছাড়া চালক ও হেলপারবিহীন অবস্থায় কযেকটি জায়গায় পার্ক করে রাখা পরিত্যক্ত কিছু বাসে আগুন দিয়েছে। এসব ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করা হচ্ছে। কিছু সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে।
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স আমার দেশকে বলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ তাদের পুরোনো চরিত্রে ফিরে আসছে। তারা যেভাবে ১৭ বছর গুম-খুনের রাজনীতি করেছে, এখন আগুন সন্ত্রাসের মাধ্যমে আবার মানুষকে জিম্মি করতে চায়।
এদিকে, আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী কার্যক্রমকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না বলে গতকাল রোববার উল্লেখ করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী। এ লক্ষ্যে ১০ বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও ঢাকা মহানগরীর নেতাদের নিয়ে একটি বৈঠক হয়েছে।
এতে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়। সেখানে আলোচনায় তাদের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেওয়ার জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সে লক্ষ্যে ২৪ ঘণ্টা রাজনৈতিক মাঠে বিএনপির সব নেতাকর্মীকে শক্ত অবস্থানে থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, আওয়ামী লীগ তাদের ১৬-১৭ বছরে পুরো দেশকে একটি কারাগার বানিয়েছিল। তারা সবসময় ফ্যাসিস্টের আচরণ প্রকাশ করেছে। একপর্যায়ে তাদের দেশ ছেড়ে পালাতে হয়েছে। কিন্তু এখনো তাদের মধ্যে কোনো পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের নেত্রীসহ তাদের নেতারা পাশের দেশসহ বিভিন্ন দেশে অবস্থান করে নানা ধরনের হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন এবং উসকানিমূলক বক্তব্য, জ্বালাও-পোড়াওসহ ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। এতে তাদের ফ্যাসিস্ট চরিত্র পরিবর্তনের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। এখন আবার জনগণের মধ্যে ত্রাস সৃষ্টির জন্য যানবাহনে অগ্নিসংযোগ, ককটেল বিস্ফোরণসহ নানা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করছেন। কিন্তু জনগণ তাদের আগে যেভাবে প্রতিরোধ করেছে, এখনো করবে।
তিনি বলেন, এ দেশে ফ্যাসিস্টের কোনো ঠাঁই হবে না। তারা চব্বিশের আন্দোলনে গণহত্যা চালানোর কারণে জনরোষের মুখে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। এখনো জনগণ সোচ্চার আছে, আমরা সবাইকে দিয়ে ফ্যাসিবাদ প্রতিরোধ করব।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া আমার দেশকে বলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সবসময় জ্বালাও-পোড়াও, নৃসংশতা ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমের মধ্য দিয়েই রাজনীতি করে আসছে। লগি-বৈঠা দিয়ে মানুষ হত্যা করে লাশের ওপর উল্লাস থেকে শুরু করে এরকম অনেক উদাহরণ রয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ফের দেশকে অস্থিতিশীল করতে জ্বালাও-পোড়াও করছে। সন্ত্রাসী কার্যক্রমের মাধ্যমে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা করে যাচ্ছে।
তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আওয়ামী লীগের এ ধরনের তৎপরতা যেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোরভাবে মোকাবিলা করে। রাজনৈতিকভাবে সহযোগিতা প্রয়োজন হলে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে প্রতিরোধ করতে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে, এনসিপির পক্ষ থেকে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত আছি।
এনসিপির পলিটিক্যাল কাউন্সিলের সদস্য এবং মিডিয়া উপকমিটির প্রধান সারোয়ার তুষার আমার দেশকে বলেন, আওয়ামী লীগের আর কোনো রাজনৈতিক চরিত্র অক্ষুণ্ণ নেই। এটি এখন আগাগোড়া একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী, যারা পাশের দেশের আশ্রয়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে যাচ্ছে। তবে জ্বালাও-পোড়াও, নাশকতা সৃষ্টি করে রাজনীতিতে ফেরার শেষ সম্ভাবনাও তারা শেষ করেছে। এখন রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার করার সময় হয়েছে।