শিরোনাম
◈ তুচ্ছ ঘটনায় বারবার সংঘর্ষে ঢাকা কলেজ, সিটি কলেজ ও আইডিয়াল কলেজ ◈ পাথর নিক্ষেপ ঠেকাতে কক্সবাজারগামী ট্রেনে বসছে সিসি ক্যামেরা ◈ গোয়েন্দা নথিতে চাঞ্চল্যকর তথ্য: পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সম্ভাবনা নাকচ করেনি সৌদি ◈ দফায় দফায় হামলা, ধ্বংসস্তূপ থেকে যেভাবে বেঁচে ফিরলেন মোজতবা খামেনি ◈ ডিমের বাজারে অস্বাভাবিক দাম ও কৃত্রিম সংকট নিয়ে কড়া বার্তা বাণিজ্যমন্ত্রীর, ব্যবসায়ীদের যা বললেন ◈ জার্মানিতে দক্ষ পেশাজীবীদের জন্য ৬ লাখ ৫০ হাজার চাকরি, আবেদন করতে পারবেন যারা ◈ আকাশসীমার জটিলতা কাটল, ১ অক্টোবর থেকে আসছে রূপপুরের ইউরেনিয়াম ◈ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যেকোনো হামলার জন্য প্রস্তুত: পাকিস্তানকে রাজনাথ সিংয়ের কড়া বার্তা ◈ এবার লাইভে এসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে কড়া বার্তা দিলেন সালমান মুক্তাদির! (ভিডিও) ◈ অর্থনৈতিক দৃশ্যপট বদলে যাবে: ৩৯৬ কোটিতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে নতুন গতি, দূরত্ব কমবে ৪০ কিলোমিটার

প্রকাশিত : ১১ মে, ২০২৬, ১০:৫১ দুপুর
আপডেট : ২১ আগস্ট, ২০২৬, ০৮:০০ সকাল

প্রতিবেদক : এল আর বাদল

আ’লীগের পুনর্বাসন নিয়ে কোনো চাপে নতি স্বীকার করবে না সরকার

ডেস্ক রি‌পোর্ট: আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির পাশাপাশি আঞ্চলিক কূটনীতিতেও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠছে- কোনো বিদেশী চাপ, বিশেষ করে ভারতের দিক থেকে, এই প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করছে কি না। তবে সরকারের পক্ষ থেকে বারবার স্পষ্ট করা হয়েছে যে, কোনো ধরনের বহিরাগত চাপের কাছে নতি স্বীকার করার প্রশ্নই আসে না; রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত কেবল দেশের সংবিধান, আইন এবং জনগণের স্বার্থের ভিত্তিতেই নেয়া হবে। --- নয়া‌দিগন্ত

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পুনর্বাসন বিতর্ক মূলত অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমীকরণের ফল। একটি বড়রাজনৈতিক দলের ভবিষ্যৎ ভূমিকা, নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রশ্ন- এসব বিষয় নিয়েই আলোচনা চলছে। আওয়ামী লীগ সমর্থকদের একটি অংশ মনে করে, বৃহৎ রাজনৈতিক শক্তিকে সম্পূর্ণভাবে প্রক্রিয়ার বাইরে রাখা দীর্ঘমেয়াদে গণতান্ত্রিক ভারসাম্যের জন্য উপযুক্ত নয়। অন্য দিকে ফ্যাসিবাদের সমালোচকদের যুক্তি, অতীত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং জনমতের প্রতিফলন বিবেচনায় নিয়েই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। যারা রাষ্ট্রের মৌলিক প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস ও ফ্যাসিবাদ কায়েমের জন্য অভিযুক্ত তাদের আইনের স্বাভাবিক গতিপ্রবাহের বাইরে গিয়ে পুনর্বাসনের সুযোগ নেই।

আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনে ভারতীয় চাপের প্রসঙ্গটি সাধারণত দুই দেশের ঘনিষ্ঠ কূটনৈতিক সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে আলোচিত হয়। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে অর্থনীতি, বাণিজ্য, জ্বালানি ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সহযোগিতা রয়েছে। ফলে যেকোনো রাজনৈতিক পরিবর্তন আঞ্চলিক সম্পর্কেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হয়। তবে সরকারিভাবে জানানো হয়েছে, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে কোনো বিদেশী রাষ্ট্রের প্রভাব নেই এবং থাকবে না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিতর্কের মূল বিষয় হলো স্বচ্ছতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়টি। যদি কোনো রাজনৈতিক দলকে ভবিষ্যতে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে হয়, তবে তা আইনি ও সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যেই হতে হবে। একই সাথে জাতীয় ঐক্য, আইনশৃঙ্খলা এবং দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হবে। অর্থনৈতিক দিক থেকেও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিদেশী বিনিয়োগ, রফতানি প্রবৃদ্ধি এবং জ্বালানি খাতে রূপান্তরের জন্য একটি পূর্বানুমেয় রাজনৈতিক পরিবেশ দরকার।

advertisement

তাই সরকারের ওপর চাপের ধারণা নয়; বরং নীতিনির্ধারণে স্বচ্ছতা ও স্বাধীনতার ওপরই জোর দিচ্ছেন বিশ্লেষকরা। সার্বিক বিবেচনায়, আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন বিতর্ক কেবল একটি দলীয় ইস্যু নয়; এটি বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সরকার যেহেতু বহিরাগত চাপের বিষয়টি অস্বীকার করছে, তাই আগামী দিনে সিদ্ধান্তগুলো কিভাবে সাংবিধানিক কাঠামো ও জনমতের ভিত্তিতে অগ্রসর হয়, সেটিই মূল পর্যবেক্ষণের বিষয় হবে।

এদিকে আওয়ামী লীগের ‘পুনর্বাসন’ বিতর্ক এখন আর কেবল দেশীয় আলোচনার বিষয় নয়; এটি এখন ওয়াশিংটন থেকে দিল্লি এবং বেইজিং থেকে রিয়াদ পর্যন্ত বিস্তৃত এক জটিল কূটনৈতিক দাবার চালে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে ভারতের সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলোতে বিজেপির রাজনৈতিক আধিপত্য এই সমীকরণকে আরো সংবেদনশীল করে তুলেছে।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট গত দুই বছরে এক আমূল পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থান কেবল অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার ভারসাম্যই পরিবর্তন করেনি; বরং দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন মেরুকরণ সৃষ্টি করেছে। বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের সবচেয়ে বড় ও বিশ্বস্ত মিত্র হিসেবে ভারত দীর্ঘকাল পরিচিত। দিল্লির কাছে আওয়ামী লীগ ছিল একটি ‘প্রেডিক্টেবল’ বা নির্ভরযোগ্য শক্তি, যারা ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং বিচ্ছিন্নতাবাদ দমনে নজিরবিহীন সহযোগিতা করেছে।

জুলাই-পরবর্তী পরিস্থিতিতে দিল্লি সরাসরি কোনো দলের পক্ষ না নিলেও তাদের ‘ইনক্লুসিভ পলিটিক্স’ বা অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির বার্তাটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিশ্লেষকদের মতে, এটি আসলে আওয়ামী লীগকে পুরোপুরি রাজনৈতিক দৃশ্যপট থেকে মুছে ফেলার বিপক্ষে ভারতের একটি পরোক্ষ অবস্থান।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও ত্রিপুরার মতো সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলোতে বিজেপির রাজনৈতিক শক্তিবৃদ্ধি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন মাত্রার চাপ সৃষ্টি করেছে।

পশ্চিমবঙ্গ ও হিন্দুত্ববাদী রাজনীতি : পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি এখন প্রধান শক্তি। অনুপ্রবেশ, এনআরসি এবং সিএএ-এর মতো ইস্যুগুলো নিয়ে তাদের সরব উপস্থিতি দিল্লির নীতিনির্ধারণে প্রভাব ফেলছে। বিজেপি নেতৃত্ব মনে করে, বাংলাদেশে একটি ‘ভারত-বান্ধব’ (আওয়ামী লীগ ঘরানার) শক্তি ক্ষমতায় না থাকলে সীমান্ত নিরাপত্তা ও হিন্দু সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা হুমকির মুখে পড়তে পারে।

  • সর্বশেষ