মনিরুল ইসলাম : জাতীয় সংসদে সারের কৃত্রিম সংকট, অনিয়ম ও ডিলার নিয়োগে অর্থ বাণিজ্যের অভিযোগ তুলে তীব্র সমালোচনা করেছেন পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, কাগজে-কলমে সারের পর্যাপ্ত মজুত থাকলেও সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে মাঠপর্যায়ে কৃষকরা তীব্র সংকটে পড়েছেন।
আজ বুধবার ৯ সেপ্টেম্বর সংসদে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে ৬৮ বিধির আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
শফিকুল ইসলাম অভিযোগ করেন, সার নিয়ে প্রকৃত সংকটের চেয়ে ব্যবস্থাপনার ঘাটতিই বড় সমস্যা। “সার আছে, কিন্তু সুষ্ঠু ম্যানেজমেন্ট নেই”—এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, যথাযথ তদারকি না থাকায় কৃষকরা ন্যায্যমূল্যে সার পাচ্ছেন না। অনেক স্থানে নির্ধারিত দামের চেয়ে বস্তাপ্রতি ৩০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত বেশি নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ডিলার নিয়োগকে কেন্দ্র করে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। স্থানীয় প্রশাসনের সুপারিশ উপেক্ষা করে ১০ থেকে ১২ লাখ টাকার বিনিময়ে ডিলারশিপ বাণিজ্য চলছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। “সরষের মধ্যেই ভূত থাকলে সংকট দূর করা সম্ভব নয়,”—মন্তব্য করেন এই সংসদ সদস্য।
সংসদে দেওয়া বক্তব্যে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন তুলে ধরে তিনি জানান, কোথাও কোথাও সারের দাবিতে কৃষকদের সড়ক অবরোধ, আবার কোথাও অবৈধ মজুদ ও পাচারের ঘটনাও ঘটছে। কুড়িগ্রামে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ সার জব্দ এবং কিছু এলাকায় গুদাম ভেঙে সার নেওয়ার ঘটনাও পরিস্থিতির অস্বাভাবিকতা প্রমাণ করে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সীমান্তবর্তী এলাকায় ভর্তুকির সার পাচারের বিষয়টি তুলে ধরে শফিকুল ইসলাম বলেন, “সার পাচার হয়ে যাচ্ছে মিয়ানমারে, আর এর বিনিময়ে দেশে ঢুকছে ইয়াবা ও আইসের মতো মাদক।” এতে কৃষি খাত যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনি সামাজিক নিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
কৃষকদের মর্যাদা দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, উন্নত বিশ্বে কৃষকদের ‘জাতির মেরুদণ্ড’ হিসেবে সম্মান দেওয়া হয়। বাংলাদেশের কৃষকদেরও ‘খাদ্য যোদ্ধা’ হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
আসন্ন বোরো মৌসুম সামনে রেখে তিনি সতর্ক করে বলেন, ২০০১-২০০৬ সালের মতো পরিস্থিতি তৈরি হলে কৃষকরা আবারও চরম ভোগান্তিতে পড়বেন। তাই ইউরিয়া, ডিএপি ও টিএসপি সারের সরবরাহ ও বিতরণ ব্যবস্থায় ডিলার পর্যায়ে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন তিনি।
বক্তব্যের শেষে তিনি স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, সারের বাজারে আস্থাহীনতা ও গুজব কৃষকদের মধ্যে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে। এই পরিস্থিতি কাটাতে দেশীয় উৎপাদন বাড়ানো এবং স্বচ্ছ বিতরণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিকল্প নেই।