আশরাফুল নয়ন, নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁর পত্নীতলায় বাণিজ্য মেলায় প্রবেশ টিকিটের নামে কোটি টাকার লটারি বিক্রি করে রাজশাহী সিল্ক এন্ড বেনারসি জামদানি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট ফার্ম। মঙ্গলবার রাত ১১টায় সমাপনী অনুষ্ঠানে লটারি ড্র অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও টিকিট বিক্রির টাকা নিয়ে সটকে পড়েন আয়োজকরা। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বিক্ষুব্ধ জনতা মূল মঞ্চে ভাঙচুর চালায়। পরে মেলার কয়েকটি দোকান ও স্টলে ভাঙচুর চালিয়ে লুটপাট করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে লটারির নামে জুয়ার আসর এবং পুরো আয়োজনের অনুমতি ও তদারকি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
উপজেলার খেলার মাঠে মাসব্যাপী বাণিজ্য মেলার আয়োজন করা হয়েছিল। মেলার প্রবেশ টিকিটের মূল্য ২০ টাকা দিয়ে প্রতি দিন ৪০ থেকে ৫০ টি গাড়ি বিভিন্ন উপজেলায় গিয়ে লটারির নামে বিপুল অঙ্কের টিকিট বিক্রি করা হয়েছিল। মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর থেকেই হাজারো মানুষ লটারির ড্র দেখতে মাঠে জড়ো হন। ঘোষিত পুরস্কারের দুটি মোটরসাইকেল মঞ্চে না থাকায় শুরু থেকেই
সন্দেহ দেখা দেয়। রাত বাড়লেও আয়োজকদের দায়িত্বশীল কাউকে মঞ্চে পাওয়া যায়নি।
একপর্যায়ে আয়োজকরা টাকা নিয়ে সরে পড়েছেন এমন অভিযোগ ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজনা তৈরি হয়। রাত ১টার দিকে বিক্ষুব্ধ লোকজন মেলার মূল মঞ্চে ভাঙচুর চালান। পরে কয়েকটি দোকান এবং স্টলে হামলা ও লুটপাট হয়।
ব্যবসায়ীদের দাবি, এতে প্রায় অর্ধ কোটি টাকার মালামাল লুট হয়েছে। ঘটনার পর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে খেলার মাঠে বাণিজ্য মেলার অনুমতি দেওয়া এবং সেখানে লটারির নামে এমন আয়োজন চলার বিষয়টি নিয়ে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, যে মাঠে শিশু-কিশোরদের খেলাধুলা করার কথা, সেই মাঠই দীর্ঘদিন ধরে মেলার দখলে ছিল। তার ওপর লটারির নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছে। বরিশাল থেকে মেলায় অংশ নেওয়া ভাই ভাই টেক্সটাইলের ম্যানেজার শামীম বলেন, তাদের স্টলে প্রায় ১৫ লাখ টাকার দেশি-বিদেশি থ্রি-পিস ছিল। হামলা ও লুটপাটে সব মালামাল নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তার ভাষ্য, কোটি টাকার লটারি বিক্রি করেও শেষ পর্যন্ত ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক উদ্যোক্তা অভিযোগ করেন, হামলার সময় ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেও তারা তাৎক্ষণিক পুলিশি সহায়তা পাননি। মাঠে থাকা পুলিশ সদস্যদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। মেলার নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনায় যথাযথ নজরদারি থাকলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতো না বলেও দাবি করেন তিনি।
রাজশাহী সিল্ক অ্যান্ড বেনারসি জামদানি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট ফার্মের পরিচালক রহিদুল ইসলাম রহিদের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ রহিদুর নামে ওই ব্যক্তি দীর্ঘদিন যাবত মেলার নামে এই প্রতারণা করে আসছে। গত ২ বছর আগেও নওগাঁ পুলিশ লাইনের পাশে মেলা বসিয়ে এরকম প্রতারণা করেছে। গত বছর শহরের হাট-নওগাঁ স্কুল মাঠেও শুরু করলেও স্থানীয় সাংবাদিকরা নিউজ করা সম্ভব হয়নি। পরে আবারও এটিএম মাঠে চেস্টা করেও ব্যর্থ হন।
পত্নীতলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিয়ামুল হক বলেন, মেলার মাঠে হাজারো দর্শনার্থী থাকায় উত্তেজিত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে অভিযোগ ছাড়া কোন আইগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ নেই।
এদিকে জেলা প্রশাসনের অনুমতির চিঠিতে রাত ৯টার পর মেলার কার্যক্রম পরিচালনায় বিধিনিষেধ থাকলেও রাত ১১টা পর্যন্ত অনুষ্ঠান চলা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
পত্নীতলার ইউএনও রিফাত আরা বলেন, আয়োজকদের অনুরোধে সমাপনী অনুষ্ঠানে কিছুটা অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়েছিল। পরে আয়োজকরা চলে যাওয়ার পর বিক্ষুব্ধ জনতা দুটি দোকানে লুটপাট চালায়। অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার দায় প্রশাসন অস্বীকার করছে না বলেও জানান তিনি।
নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত উদ্যোক্তাদের আইনগত সহায়তা দিতে সংশ্লিষ্ট থানার ওসিকে বলা হয়েছে। রাতে সেখানে একজন ম্যাজিস্ট্রেট উপস্থিত ছিলেন বলে তাকে জানানো হয়েছিল।