পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’তে যোগ দিতে ছয়টিরও বেশি দেশ আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) ইসলামাবাদে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই তথ্য জানান।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতা সম্প্রসারণের বিষয়ে ছয়টির বেশি দেশের আগ্রহ রয়েছে। তবে তিনি আগ্রহী দেশগুলোর নাম প্রকাশ করেননি।
তিনি আরও জানান, জোটটি পুরোপুরি কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত নতুন কোনো সদস্যের আবেদন বিবেচনা করা হবে না। চুক্তির কাঠামো ও কার্যক্রম পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত হতে প্রায় এক বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
গত ৭ আগস্ট সৌদি আরবের মক্কায় পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্ক মক্কা জয়েন্ট ডিফেন্স অ্যাগ্রিমেন্ট স্বাক্ষর করে। চুক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—তিন দেশের যেকোনো একটি সদস্যের ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের বিরুদ্ধেই হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে, যা পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর প্রতিরক্ষা নীতির সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার বলেন, জোটটির প্রথম বৈঠক ইতোমধ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং সৌদি আরবে এর সদর দফতর স্থাপনের প্রক্রিয়া চলছে। পাকিস্তানের লেফটেনেন্ট জেনারেল (অবঃ) নওমান মাহমুদকে জোটের প্রথম মহাসচিব হিসেবে মনোনীত করেছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে সৌদি আরবকে ঘিরে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়েছে। ইয়েমেনের হুথিদের সাম্প্রতিক হামলার পর মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের কার্যকারিতা নিয়ে প্রথম বড় ধরনের পরীক্ষা তৈরি হয়েছে।
ইসহাক দার জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহে রিয়াদে জোটের কৌশলগত রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটির জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং হুথি হামলা নিয়ে আলোচনা হবে।
এরআগে জোটের তিন দেশের সামরিক প্রধানরাও গত ২৫ সেপ্টেম্বর রিয়াদে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে সাম্প্রতিক হুথি হামলার নিন্দা জানিয়ে সৌদি আরবের নিরাপত্তার প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত এবং ইসলামের পবিত্র স্থানগুলোর সুরক্ষার বিষয়ে অঙ্গীকার করেছে তিন দেশ।
এদিকে জোটটির সম্ভাব্য সম্প্রসারণ নিয়ে আঞ্চলিক পর্যায়ে আগ্রহ আগে থেকেই দেখা যাচ্ছে।
তুরস্কের পার্লামেন্টের স্পিকার নুমান কুর্তুলমুশ সম্প্রতি বলেছিলেন, ভবিষ্যতে চুক্তিটি আরও বিস্তৃত হয়ে মুসলিম বিশ্বের বৃহত্তর নিরাপত্তা কাঠামোয় রূপ নিতে পারে। এমনকি ইরানও ভবিষ্যতে এতে যুক্ত হতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তুর্কি কর্মকর্তারা এর আগে মিসরকেও সম্ভাব্য সদস্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
এদিকে বাংলাদেশের নামও এর আগে সম্ভাব্য অংশগ্রহণকারী হিসেবে আলোচনায় এসেছে।
বার্তা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, সৌদি আরব বাংলাদেশকে জোটে যোগ দেওয়ার বিষয়ে আমন্ত্রণ জানিয়েছে।
সম্প্রতি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানান, ঢাকা এই জোটে যোগ দিতে নীতিগত আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
তিনি উল্লেখ করেন, একটি মুসলিম প্রধান দেশ হিসেবে বাংলাদেশের এমন একটি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বা প্রতিরক্ষা জোটে যোগ দেওয়া মোটেও অস্বাভাবিক কোনো বিষয় নয়।
এরপরই মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশের যোগদানের আগ্রহ নিয়ে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইসলামাবাদ। তবে বাংলাদেশের সদস্যপদ নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের তথ্য প্রকাশিত হয়নি। সূত্র: জিও নিউজ, রয়টার্স