বলিউডের পরিচিত কণ্ঠশিল্পী আদনান সামি দীর্ঘদিন ধরেই ভারতের নাগরিক। তবে তার জন্ম ভারতে কিংবা পাকিস্তানে নয়, যুক্তরাজ্যে। পরে বাবার কারণে তার পরিবার পাকিস্তানে চলে যায় এবং সেখানকার নাগরিকত্ব পান তিনি।
বহু বছর আগে পাকিস্তানের নাগরিকত্ব ত্যাগ করে ভারতীয় নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন এই গায়ক। এবার সেই সিদ্ধান্তের কারণ নিয়ে মুখ খুলেছেন তিনি।
‘হিন্দুস্তান টাইমস’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক ব্যক্তি আদনান সামিকে প্রশ্ন করেন, তিনি এখনো ভারতীয় নাগরিক কি না। জবাবে কিছুটা বিস্ময় প্রকাশ করে গায়ক জানতে চান, এত বছর পরও কেন তাকে এমন প্রশ্ন করা হচ্ছে এবং প্রশ্নকারী নিজে কী মনে করেন।
শুধু তাই নয়, অর্থের কারণে তিনি ভারতীয় নাগরিকত্ব নিয়েছেন কি না—এমন প্রশ্নও করা হয় তাকে। তবে আদনান সামি বিষয়টি স্পষ্ট করে জানান, আর্থিক লাভের জন্য নাগরিকত্ব পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেননি তিনি। বরং পাকিস্তানে থাকাকালে পেশাগত জীবনে নানা ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হওয়ার কথাও উল্লেখ করেছেন এই শিল্পী।
আদনান সামির সংগীতজীবনের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক অবশ্য অনেক পুরোনো। ২০০০ সালে কিংবদন্তি শিল্পী আশা ভোঁসলের সঙ্গে তার যৌথ অ্যালবাম ‘কভি তো নজর মিলাও’ প্রকাশিত হয়। তবে সেই কাজটি যুক্তরাজ্য থেকেই করা হয়েছিল। কারণ তার শৈশব ও শিক্ষাজীবনের বড় একটি সময় কেটেছে সেখানেই।
পরের বছর, ২০০১ সালে ভ্রমণ ভিসায় প্রথমবার ভারতে আসেন আদনান সামি। এরপর একের পর এক কাজের সুযোগ পেতে থাকেন। বলিউডের জনপ্রিয় শিল্পীদের সঙ্গে গান গাওয়ার পাশাপাশি ভারতীয় সংগীতাঙ্গনে নিজের অবস্থান তৈরি করেন তিনি। এরপর আর পাকিস্তানে ফিরে যাননি।
আদনান সামির পাকিস্তানি পাসপোর্টের মেয়াদ ২০১৫ সালে শেষ হয়। এরপর তিনি সেটি আর নবায়ন করেননি। পরবর্তীতে ২০১৬ সালের ১ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতীয় নাগরিকত্ব লাভ করেন এই গায়ক।