শিরোনাম
◈ রাতের আঁধারে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ, জড়িতদের খুঁজছে পুলিশ ◈ ছয় মাসেও বদলায়নি ঢাবির শেখ পরিবারের নামে থাকা পাঁচ স্থাপনার নাম ◈ বিদেশে কর্মী পাঠানো কমেছে ৩৬ শতাংশ, বাড়ছে কর্মসংস্থানের সংকট ◈ আফগা‌নিস্তা‌নের বিরু‌দ্ধে ৩১৭ রানে দিন শেষ বাংলাদেশের ◈ বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনী শহর সিঙ্গাপুর যে কারণে এখন সবচেয়ে দূষিত! ◈ আশুলিয়ায় ঝুটের গোডাউনে ভয়াবহ আগুন, সাড়ে ৩ ঘণ্টার চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে ◈ দত্তকের নামে ঢাকায় শিশু কেনাবেচার রমরমা বাণিজ্য, ছেলে ৩–৫ লাখ টাকায় বিক্রি ◈ স্কুলছাত্রী তাজমিন হত্যা: বিপদ জেনেও কেন ঘটনাস্থলে সিএনজি অটোরিকশা ফেলে যেতে হলো জানা গেল কারণ ◈ ট্রাম্পের পরা স্যুট বাংলাদেশে তৈরি, বিশ্ববাজারে পোশাকশিল্পের সাফল্য আলোচনায়! ◈ ভারতের বাজারে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানিতে বাধা দূর ও অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক প্রত্যাহারের দাবি বাংলাদেশের

প্রকাশিত : ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ০৮:৪৪ সকাল
আপডেট : ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ০৮:৪৪ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ছয় মাসেও বদলায়নি ঢাবির শেখ পরিবারের নামে থাকা পাঁচ স্থাপনার নাম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) শেখ পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা পাঁচটি স্থাপনার নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত ছয় মাসেও আলোর মুখ দেখেনি। শিক্ষার্থীদের দাবি ও ডাকসুর প্রস্তাবে প্রক্রিয়া শুরু হলেও প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতায় তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

ডাকসুর প্রস্তাব সিন্ডিকেটে অনুমোদনের পর বিষয়টি সিনেটে পাঠানো হয়। তবে গত ২৯ জুনের সিনেট অধিবেশনে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নিয়ে আবার সিন্ডিকেটে ফেরত পাঠানো হয়। ফলে বিষয়টি এক দপ্তর থেকে আরেক দপ্তরে ঘুরপাক খাচ্ছে।

এই সিদ্ধান্তহীনতার প্রতিবাদে গত সিনেট অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেন ডাকসুর পাঁচ সিনেট সদস্য। এরপর অনুষ্ঠিত সর্বশেষ সিন্ডিকেট সভাতেও বিষয়টি আলোচ্যসূচিতে স্থান পায়নি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মধ্যেও এ বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান নেই। পরবর্তী সিন্ডিকেট সভায় নাম পরিবর্তনের বিষয়টি আদৌ উত্থাপিত হবে কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দাবি, সিন্ডিকেট শুধু নাম পরিবর্তনের সুপারিশ করবে, আর চূড়ান্ত অনুমোদন দেবে সিনেট। তবে পরবর্তী সিন্ডিকেট সভায় বিষয়টি উঠবে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেননি উপাচার্য অধ্যাপক ওবায়দুল ইসলাম। ফলে শিক্ষার্থীদের দাবির পর প্রক্রিয়া শুরু হলেও কবে নাগাদ সিদ্ধান্ত হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

Advertisement

নাম পরিবর্তনের জন্য প্রস্তাবিত শেখ পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচ স্থাপনার মধ্যে রয়েছে, শেখ মুজিবুর রহমান হল, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল, শেখ রাসেল টাওয়ার, বঙ্গবন্ধু টাওয়ার এবং ইনস্টিটিউট অব লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজির শহীদ অ্যাথলেট সুলতানা কামাল হোস্টেল।

জুলাই বিপ্লবের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের এসব স্থাপনার নাম পরিবর্তনের দাবি নতুন করে জোরালো হয়। শিক্ষার্থীদের একাংশ এসব নামকে আওয়ামী লীগ সরকারের রাজনৈতিক আধিপত্য ও তৎকালীন রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করে নাম পরিবর্তনের দাবি জানান। ডাকসুর পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে প্রশাসনের কাছে একাধিকবার প্রস্তাবনা দেওয়া হয়।

প্রস্তাবনা অনুযায়ী, শেখ মুজিবুর রহমান হলের নাম ‘শহীদ ওসমান হাদি হল’ বা ‘কাজী নজরুল ইসলাম হল’ এবং বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের নাম ‘ক্যাপ্টেন সিতারা বেগম হল’ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। তবে কোন নাম চূড়ান্ত হবে, তা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যেও মতভেদ রয়েছে।

চলতি বছরের ৮ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় শেখ পরিবারের নামে থাকা পাঁচটি স্থাপনার নাম পরিবর্তনের বিষয়টি সিনেটে উপস্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়। সিন্ডিকেট থেকে কিছু নাম সুপারিশও করা হয়। এরপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য বিষয়টি সিনেটে পাঠানো হয়।

সিনেটে মতভেদ

গত ২৯ জুন সিনেট অধিবেশনে বিষয়টি উত্থাপিত হয়। রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপাচার্য বিষয়টি উত্থাপন করেন। দীর্ঘ আলোচনায় সিনেট সদস্যদের মধ্যে নাম পরিবর্তনের প্রক্রিয়া ও প্রয়োজনীয়তা নিয়ে ভিন্নমত দেখা দেয়। সিনেট সদস্য অধ্যাপক লুৎফর রহমান বিষয়টি যথাযথ বিধি অনুসরণ করে পুনরায় সিন্ডিকেটে উপস্থাপনের দাবি জানান।

অন্যদিকে সিনেট সদস্য অধ্যাপক সামিনা লুৎফা শেখ মুজিবুর রহমান হলের নাম পরিবর্তনের বিষয়ে আপত্তি জানান। এ সময় সিনেট সদস্য ফজলুল হক মিলন শেখ মুজিবুর রহমান হলের নাম পরিবর্তন করে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের নামে নামকরণের প্রস্তাব দেন।

এদিকে ডাকসুর সিনেট প্রতিনিধিরা নাম পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার পক্ষে যুক্তি দেন। তাদের দাবি, শেখ মুজিবুর রহমান হলের নামসম্বলিত ব্যানার নিয়ে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে শিক্ষার্থীরা হেনস্তার শিকার হয়েছেন। পাশাপাশি পুরোনো নাম থাকার কারণে হলের বিভিন্ন ক্লাব ও সংগঠন স্পন্সর পেতেও সমস্যার মুখে পড়ছে।

চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়ে উপাচার্য বিষয়টি পুনরায় সিন্ডিকেটে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এর পরপরই প্রতিবাদ জানিয়ে অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেন ডাকসুর পাঁচ সিনেট সদস্য।

জটিলতা সৃষ্টির অভিযোগ

ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েমের অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশার ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট হলের শিক্ষার্থীদের স্বাক্ষরযুক্ত নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব হল প্রশাসনের অনুমোদন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়া হয়েছিল।

তিনি বলেন, প্রস্তাবটি পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র ম্যানেজমেন্ট টিমে অনুমোদন পেয়ে সিন্ডিকেটে ওঠে। সিন্ডিকেটের অনুমোদনের পর সেটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য সিনেটে পাঠানো হয়।

সাদিক কায়েমের অভিযোগ, সব আনুষ্ঠানিক ধাপ সম্পন্ন হওয়ার পরও নানা জটিলতা সৃষ্টি করে নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।

সাদিক কায়েম বলেন, সিনেট অধিবেশনে বিএনপিপন্থি প্রশাসন এই প্রস্তাবটি পাস করার পরিবর্তে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা সৃষ্টি করে পুনরায় রিভিউ করার জন্য সিন্ডিকেটে পাঠিয়েছে।

তার দাবি, জুলাই বিপ্লবের পর শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা অনুযায়ী বিতর্কিত নামগুলো পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার নামে বিষয়টি দীর্ঘায়িত করা হচ্ছে।

ডাকসুর এজিএস মুহাম্মদ মহিউদ্দিন খান বলেন, বিষয়টি নিয়ে আগের প্রশাসনের সময় সিন্ডিকেটে সিদ্ধান্ত হয়েছিল। বর্তমান প্রশাসন সেই সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতা না রেখে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আবার সিন্ডিকেটে পাঠিয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

তিনি বলেন, নাম পরিবর্তনের বিষয়ে সবাই একমত। কোন নামে পরিবর্তন হবে, কীভাবে পরিবর্তন হবে, সেটি আলোচনার বিষয়। কিন্তু নাম পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন থাকার কথা নয়।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যা বলছে

এদিকে শেখ মুজিবুর রহমান হলের নামফলক ও নাম মুছে ফেলার ঘটনাকে ঘিরেও তৈরি হয়েছে প্রশ্ন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ইস্রাফিল রতন বলেন, বিষয়টি নিয়ে সম্প্রতি কিছু মতানৈক্য তৈরি করা হয়েছে। এটি মূলত গেটে রং করতে গিয়ে নামটি অনিচ্ছাকৃতভাবে মুছে ফেলা হয়েছে।

তবে ডাকসুর এজিএস মহিউদ্দিন খান দাবি করেন, সর্বশেষ সিন্ডিকেট সভার সময়ই হলের শিক্ষার্থীদের লেখা নাম মুছে ফেলার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাটি পরিকল্পিত।

মহিউদ্দিন বলেন, সিন্ডিকেট যখন চলছিল, তখনই হলের শিক্ষার্থীরা যে নামটি লিখেছিল সেটি মুছে দেওয়া হয়। আমরা যখন জিজ্ঞেস করেছি, কে মুছে দিচ্ছে। তখন তারা কেউ মুখ খোলেননি। প্রশাসন বলছিল তারা কিছু জানে না।

নাম পরিবর্তনের প্রক্রিয়া কেন বারবার বিলম্ব হচ্ছে জানতে চাইলে উপাচার্য ও সিন্ডিকেট-সিনেট অধিবেশনের সভাপতি অধ্যাপক ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ফাইলটি প্রথমে সিন্ডিকেটে ছিল। পরে সিন্ডিকেট থেকে সিনেটে যায়। সিনেটে যাওয়ার পর ফাইলটি সিনেট থেকে আবার সিন্ডিকেটে পাঠানো হয়েছে।

তিনি বলেন, ভবিষ্যতে সিন্ডিকেট থেকে কিছু নাম সুপারিশ করা হবে এবং আবার সেটি সিনেটে পাঠানো হবে। এরপর সিনেট চূড়ান্তভাবে অনুমোদন দেবে। সিন্ডিকেট চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে না। বরং সিন্ডিকেট কিছু মতামত দিয়ে সুপারিশ করবে। সেটি সিনেটে চূড়ান্ত হবে।

তবে নাম পরিবর্তনের বিষয়ে এতদিন ধরে সিদ্ধান্ত আটকে থাকার কারণ জানতে চাইলে উপাচার্য নির্দিষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেননি। তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে এবং ফাইল কিছুটা পেছনে পড়ে যাওয়ায় গত সিন্ডিকেট সভায় তা উত্থাপিত হয়নি।

পরবর্তী সিন্ডিকেট সভায় বিষয়টি উঠবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, পরবর্তী সিন্ডিকেটে নাম পরিবর্তনের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত আসতে পারে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।

তাহলে বিষয়টি ইচ্ছাকৃতভাবে ঝুলিয়ে রাখা হচ্ছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে উপাচার্য বলেন, অনেকে এ ধরনের মনগড়া কথা বলছে। বাস্তবতা না জেনে অনেকে অনেক কিছু বলে ফেলছে। ইচ্ছাকৃতভাবে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে, বিষয়টি এমন নয়।

সূত্র: আমার দেশ 

  • সর্বশেষ