সিএনএন: বিশ্বের অন্যতম ধনী শহর সিঙ্গাপুর সিটি এখন পৃথিবীর সবচেয়ে দূষিত শহরে পরিণত হয়েছে; প্রতিবেশী দেশ ইন্দোনেশিয়ায় সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ডের ফলে সৃষ্ট ঘন ও বিষাক্ত ধোঁয়াশার চাদরে শহরটি আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে।
আন্তর্জাতিক সম্মেলন থেকে শুরু করে জমকালো ‘ফর্মুলা ওয়ান গ্র্যান্ড প্রিক্স’ নাইট রেসের মতো গুরুত্বপূর্ণ সব আয়োজনে ঠাসা সপ্তাহান্তের প্রস্তুতির মধ্যেই এ দূষণ সিঙ্গাপুর সিটির ওপর এক কালো ছায়া ফেলেছে।
সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ‘আইকিউএয়ার’ এর তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার দিনের মাঝামাঝি সময়ে শহরটির বায়ুমান সূচক (একিউআই) ছিল ২১৬, যা ‘অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর’ মাত্রার অন্তর্ভুক্ত।
চলতি সপ্তাহে আইকিউএয়ারের তালিকায় বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত বাতাশের শহরের শীর্ষে উঠে এসেছে এশিয়ার এই আর্থিক কেন্দ্র এবং শুক্রবার সকালেও তা শীর্ষস্থানেই ছিল। ইন্দোনেশিয়ার অগ্নিকাণ্ডে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত কুয়ালালামপুর ছিল তালিকার দ্বিতীয় স্থানে।
দূষণের কারণে সিঙ্গাপুরের আকাশরেখায় মেরিনা বে স্যান্ডস এবং অন্যান্য আকাশচুম্বী অট্টালিকাও অস্পষ্ট ছায়ামূর্তির মতো দেখা যাচ্ছে বলে জানা গেছে।
৬২ লাখ ১০ হাজার জনসংখ্যা এবং ৬৫০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি বার্ষিক জিডিপি-র অধিকারী এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক কেন্দ্র এবং প্রতিবেশী মালয়েশিয়াকে প্রায় প্রতি বছরই এই ধোঁয়াশার ধকল সইতে হয়।
ইন্দোনেশিয়ায় অগ্নিকাণ্ড একটি নিয়মিত বার্ষিক ঘটনা, যা মূলত শুষ্ক মৌসুমে ঘটে। এ সময় পাম গাছের বাণিজ্যিক বাগানের জন্য বিশাল এলাকার চাষযোগ্য জমি (পিটল্যান্ড) পরিষ্কার ও পানি নিষ্কাশন করা হয়; উল্লেখ্য, পাম অয়েল নুডলস থেকে শুরু করে টুথপেস্টের মতো অসংখ্য পণ্যের একটি আবশ্যক উপাদান।
তবে চলতি বছর জলবায়ু চক্রের অত্যন্ত শক্তিশালী রূপ 'সুপার' এল নিনো এবং এর প্রভাবে ইন্দোনেশিয়ার পাম চাষ অঞ্চলগুলোতে চরম শুষ্ক আবহাওয়ার দেখা দিয়েছে। এর ফলে একদিকে যে কোনো আবহাওয়াগত সম্ভাব্য বিপর্যয়ের পূর্বাভাস পরিস্থিতি যেমন আরও জটিল হয়েছে, তেমনি অপরদিকে অস্বাভাবিক তীব্র অগ্নিকাণ্ডের আশঙ্কা তৈরি করেছে।
বৃহস্পতিবার নিজেদের ওয়েবসাইটে দেওয়া এক হালনাগাদ তথ্যে সিঙ্গাপুরের জাতীয় পরিবেশ কর্তৃপক্ষ (ন্যাশনাল এনভায়রনমেন্ট এজেন্সি) জানিয়েছে যে, ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপের দক্ষিণাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চল এবং পশ্চিম কালিমন্তান থেকে মাঝারি থেকে ঘন ধোঁয়ার কুণ্ডলী সিঙ্গাপুরের দিকে ভেসে আসার কারণেই এই দূষণ পরিস্থিতি দেখা গিয়েছে।
শিগগিরই এ পরিস্থিতির উন্নতির সম্ভাবনা তেমন নেই উল্লেখ করে জাতীয় পরিবেশ সংস্থার ওয়েবসাইটে আরও বলা হয়েছে, “দক্ষিণ-পূর্ব বা দক্ষিণ দিক থেকে বয়ে আসা বাতাসের প্রভাবে সিঙ্গাপুরের দিকে ধোঁয়াশা ভেসে আসা অব্যাহত থাকতে পারে।”