শিরোনাম
◈ আজ দুপুর ২টায় পদত্যাগের চূড়ান্ত ঘোষণা দেবেন ইশরাক হোসেন ◈ তিন বছর পর ভারতে ফিরছে আইপিএল নিলাম, ১৬ ডিসেম্বর গোয়ায় বসছে ক্রিকেটার কেনাবেচার আসর? ◈ মোহাম্মদ রিজওয়ান এবার অ‌ধিনায়ক হ‌য়েই ফির‌ছেন পা‌কিস্তান দ‌লে ◈ বাংলাদেশের বিরু‌দ্ধে সিরিজ শুরুর আগে স্কোয়াডে পরিবর্তন আনলো ওয়েস্ট ইন্ডিজ ◈ প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ঢাকার ২০ জোনে বিশেষ নজরদারি কমিটি ◈ মৃত্যুর পরও রেহাই নেই : মর্গের হিমঘরে নারীর মরদেহের সঙ্গে বিকৃত যৌনাচারের অভিযোগ ◈ মন্ত্রিসভা থেকে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের নির্দেশ নিয়ে ধোঁয়া ◈ নারী টি-টোয়েন্টিতে বাংলা‌দেশ দলের নতুন অধিনায়ক নাহিদা আক্তার ◈ পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সীমান্তে পরিস্থিতি হঠাৎ করেই খুব উত্তপ্ত, দফায় দফায় সংঘর্ষ ◈ ঢাকা থেকে ১১৮ ফ্লাইট বাতিল, আটকা ১৮৩৬২ যাত্রী

প্রকাশিত : ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ০৯:৪০ সকাল
আপডেট : ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:১৫ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

বাংলাদেশে ‘কুশ’ মাদকের শক্তিশালী নেটওয়ার্ক, আড়ালে মূল হোতারা

বাংলাদেশের মাদকবাজারে নতুন করে জায়গা করে নেওয়া ‘কুশ’ নামের অপ্রচলিত মাদক চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত আন্তর্জাতিক চক্রের হোতাদের কেউ এখন পর্যন্ত ধরা পড়েনি। তারা আড়ালে থেকেই থাইল্যান্ড থেকে আকাশপথে বাংলাদেশে চোরাচালান করে আনছে এই উচ্চমাত্রার মাদক। ধরা পড়ছে শুধু এই মাদকের বাহকরা। ফলে কুশ মাদকের সরবরাহ চক্রকে ভাঙা যাচ্ছে না। গত চার মাসে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর প্রায় ৩৫ কেজি কুশ মাদক উদ্ধার করে। গ্রেপ্তার করে ৭ জন বহনকারীকে। যাদের সবাই ভারতীয় নাগরিক। কিন্তু এখন পর্যন্ত হোতারা ধরা পড়েনি। বাংলাদেশে চক্রের সদস্যরাও রয়ে গেছে আড়ালেই।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঢাকা মেট্রোর (উত্তর) সহকারী পরিচালক ড. মো. আবু সাঈদ মিয়া গতকাল শনিবার আমাদের সময়কে বলেন, কুশ মাদক চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত হোতাদের গ্রেপ্তারে জোর চেষ্টা চলছে। বিশেষ করে বাংলাদেশে যারা এই মাদক চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত, তাদের খোঁজা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশি কয়েকজনের বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের নজরদারিতে রাখা হয়েছে।

সর্বশেষ গত ১৪ অক্টোবর দুপুরে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শাড়ির আড়ালে আনা ৪ কেজি ২৮০ গ্রাম কুশসহ ভারতীয় নাগরিক অভিজিৎ দাসকে গ্রেপ্তার করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। অভিজিৎ দাস ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বাসিন্দা এবং বনগাঁ রেলওয়ে স্টেশনের একজন কুলি। থাইল্যান্ড থেকেই অভিজিৎ এই মাদক চালান নিয়ে আসে। বাংলাদেশে দুই থেকে তিন দিন অবস্থান করে মাদকের চালানটি চক্রের সদস্যদের কাছে হস্তান্তরের পর বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারতে ফেরার পরিকল্পনা ছিল অভিজিৎ দাসের। একটি আন্তর্জাতিক মাদক চোরাচালান চক্র তাকে এই কাজে ব্যবহার করছিল বলে ডিএনসি কর্মকর্তারা জানান। এর আগে আরও ৬ জন ভারতীয় নাগরিককে ডিএনসি কর্মকর্তারা গ্রেপ্তার করেন। যাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে কুশ মাদক জব্দ করা হয়। ৬ জনই ছিলেন বাহক।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক মাদক চোরাচালানী চক্র বাংলাদেশে এখন কুশ মাদকের বড় বাজার তৈরির চেষ্টা করছে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশে অপ্রচলিত এই মাদকের বাজার ধাপে ধাপে বিস্তৃত হচ্ছে। ফলে ঢাকার অভিজাত এলাকায় কুশের চাহিদা দিনের পর দিন বাড়ছে। অভিজাতশ্রেণির পরিবারের ছেলেমেয়েরা এই মাদক গ্রহণ করছে। শুধু ঢাকা নয়, ঢাকার বাইরেও শক্তিশালী নেটওয়ার্কের মাধ্যমে কুশ মাদক ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের কাছে তথ্য আসছে। বাংলাদেশে কুশের বড় বাজার তৈরি করতে বাংলাদেশ, ভারত ও থাইল্যান্ডের আন্তর্জাতিক মাদক চোরাচালানীরা শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে থাইল্যান্ড থেকে আকাশপথে কুশের চালান নিয়ে আসছে। ঢাকায় আনার পর তা ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে সেবনকারীদের কাছে। বেশি দাম হওয়ায় এই মাদকটি এখন পর্যন্ত উচ্চবিত্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে।

Advertisement

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, আন্তর্জাতিক মাদকচক্র ভারতের নিম্নআয়ের মানুষদের ভিসামুক্ত ভ্রমণের সুবিধা কাজে লাগিয়ে কলকাতা থেকে ব্যাংককে নিয়ে যায়। এর পর বিভিন্ন পণ্যের আড়ালে তাদের মাধ্যমে বাংলাদেশে মাদক পাচার করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত ধরা পড়া সাত ভারতীয় নাগরিক বলেছে, তারা আকাশপথে ভারত থেকে থাইল্যান্ড যায়। এর পর সেখান থেকে কুশের চালান নিয়ে আকাশপথে ঢাকায় নামে। নির্ধারিত ব্যক্তির হাতে চালান হস্তান্তরের পর তাদের সড়কপথে বেনাপোল দিয়ে ভারতে প্রবেশ করার কথা ছিল। কয়েক হাজার রুপির বিনিময়ে তারা কুশ চোরাচালানে যুক্ত হয়েছে। তাদের ভ্রমণের পুরো খরচ বহন করে থাকে মাদক চালানের মালিকরা। গত আগস্ট মাসেই ৫টি চালান ধরা পড়ে শাহজালাল বিমানবন্দরে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, কুশ মাদক অত্যন্ত শক্তিশালী এবং মারাত্মক এক ধরনের সিন্থেটিক বা কৃত্রিম মাদক, যা সাধারণ গাঁজা বা মারিজুয়ানার চেয়ে অনেক বেশি ক্ষতিকর। কুশ এখনও বাংলাদেশে ইয়াবা বা গাঁজার মতো ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত মাদক নয়। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে উদ্বেগের কারণ হচ্ছে, এটি তরুণদের মধ্যে নতুন ধরনের ‘ডিজাইনার ড্রাগ’ হিসেবে বাজার তৈরি করতে পারে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশে এলএসডি, ডিএমটি, বিভিন্ন সিন্থেটিক ক্যানাবিনয়েডসহ নতুন ধরনের মাদকের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। থাইল্যান্ডে কুশ মাদক উৎপাদন করা হচ্ছে বলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সন্দেহ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কুশ চোরাচালানের সঙ্গে একের পর এক ভারতীয় গ্রেপ্তার হওয়ার ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এ বিষয়ে ভারত সরকারকে কূটনৈতিক চ্যানেলে অবহিত করতে যাচ্ছে। যাতে ভারতীয় চক্রকে সে দেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থা আইনের আওতায় আনতে পারে।

এদিকে গত জানুয়ারিতে ঢাকার ওয়ারীর একটি বাসায় কুশ চাষের জন্য তৈরি করা নিয়ন্ত্রিত পরিবেশের ল্যাবের সন্ধান পায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় কুশ চাষের কৌশল শিখে দেশে এসে ওই ল্যাব তৈরি করা হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে আসে। সেখান থেকে কুশের বীজ, গাছ ও সদ্য তোলা কুশ উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তার করা হয় তৌসিফ হাসান (২২) নামে এক যুবক এবং তার বান্ধবীকে।

কুশ মাদকের পুরো চক্রকে ধরতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা কুশ কোথা থেকে সংগ্রহ করা হচ্ছে, ব্যাংককে কারা সরবরাহ করছে, ভারতীয় নাগরিকদের সঙ্গে বাংলাদেশের কারা যোগাযোগ করছে এবং ঢাকায় কার কাছে মাদক পৌঁছানোর কথা- এসব প্রশ্নের উত্তর বের করার চেষ্টা করছে। গ্রেপ্তারকৃত ভারতীয়দের ভ্রমণ ইতিহাস, ফোনের তথ্য, অর্থ লেনদেনের বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।

সূত্র : দৈনিক আমাদের সময় 

  • সর্বশেষ