শিরোনাম
◈ ভারতে ভোটার তালিকা থেকে ১৩ কোটি নাম বাদ, ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে বাংলাদেশে পুশ-ইন শাহিদাদের ◈ ফাইনালে শ্রীলঙ্কার কা‌ছে ৪ রানে হার, রানার্সআপ বাংলাদেশ ◈ একের পর এক ফ্লাইট বাতিল, আর্থিক ক্ষতির মুখে এভিয়েশন খাত ◈ ভারত থেকে কেনা ২০০ রেলকোচের প্রথম চালানে এলো ১৮টি ◈ ক্ষমা চেয়েও রক্ষা নেই ইনফান্তিনোর, ফিফা কাউন্সিলের কাঠগড়ায় সভাপতি ◈ বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে ৫ বছরের উন্নয়ন চুক্তি করছে বাংলাদেশ, ২-৩ সপ্তাহের মধ্যে চূড়ান্ত বৈঠক ◈ কুমিল্লায় যুবদল নেতাকে কাউসারকে কুপিয়ে হত্যা ◈ ব্যাংককে আইএমএফ- বিশ্বব্যাংকের সম্মেলন ঘিরে বিক্ষোভ, ঋণ বাতিল ও ধনীদের ওপর কর আরোপের দাবি ◈ ১৫ ঘণ্টা পর মুক্তি পেলেন কুমিল্লা সীমান্তে বিএসএফের হাতে আটক দুই পুলিশ সদস্য ◈ হিলারি ক্লিনটনের হাত থেকে মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার পেলেন ড. ইউনূস, দাঁড়িয়ে সম্মান জানালেন ৪০০ অতিথি

প্রকাশিত : ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ০৬:১১ বিকাল
আপডেট : ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ০৬:১১ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

একের পর এক ফ্লাইট বাতিল, আর্থিক ক্ষতির মুখে এভিয়েশন খাত

নোয়াখালীর সেনবাগের বাসিন্দা নূরুল ইসলাম। প্রায় ২০ বছর ধরে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে বসবাস করছেন। দুই বছর পরপর এক মাসের ছুটিতে দেশে আসেন। এবারও যথারীতি প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটাতে দেশে আসেন গত ১২ সেপ্টেম্বর। গতকাল বৃহস্পতিবার ছিল তার ফিরতি ফ্লাইট। নির্ধারিত ফ্লাইট বাতিল হয়েছে জেনেও তিনি ঢাকায় এসেছেন বিকল্প পথের সন্ধানে। দাম্মাম বা জেদ্দার ফ্লাইটেরও নিশ্চয়তা নেই। বাধ্য হয়ে দুদিন পরে মদিনার একটি ফ্লাইটে টিকিট ট্রান্সফার করেছেন। এতে বাড়তি খরচ পড়ছে প্রায় ১৬ হাজার টাকা। স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে অতিরিক্ত দুদিন ঢাকায় হোটেলে থাকা-খাওয়া বাবদ খরচ আরো ১০ থেকে ১২ হাজার।

বাড়তি এ খরচ বহন করার সক্ষমতা নূরুল ইসলামের থাকলেও রিয়াদগামী অধিকাংশ প্রবাসীরই নেই। এদের অনেকেই বাড়তি খরচ দিয়ে বিকল্প পথে যাত্রা নিশ্চিত করতে গিয়ে ধারদেনায় পড়েছেন। অনেকে যেতে না পারলে চাকরি হারানোর আতঙ্কে ভুগছেন। আবার কারো কারো ভিসার মেয়াদই শেষ হওয়ার পথে। এমনই একজন চাঁদপুরের আবু তালেব। তিনি জানান, ২০ অক্টোবর তার ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে। এ সময়ের মধ্যে সৌদি আরবে ঢুকতে না পারলে আর যাওয়াই হবে না। বাধ্য হয়ে বাড়তি টাকা খরচ করে বিকল্প পথে সৌদি আরবে ঢোকার চেষ্টা করছেন বলে জানান তিনি।

এদিকে গতকাল সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) জানায়, সৌদি আরবের বিমানবন্দরে হামলার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের সঙ্গে সরাসরি ও ট্রানজিট রুটে চলাচলকারী ১০৩টি ফ্লাইট বাতিল ও স্থগিত হয়েছে। এর মধ্যে ৪২টি সরাসরি ও ৬১টি ট্রানজিট। এসব ফ্লাইটের ১৫ হাজার ৭৭৯ জন যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েছেন। সরাসরি ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ১৭টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ১০টি, সৌদিয়া এয়ারলাইনসের আটটি এবং রিয়াদ এয়ারের সাতটি ফ্লাইট রয়েছে। ট্রানজিট ফ্লাইটের মধ্যে রয়েছে ইন্ডিগোর ২২টি, এমিরেটসের ১৪টি, সালাম এয়ারের সাতটি, কাতার এয়ারওয়েজের আটটি, ফ্লাইদুবাইয়ের ছয়টি, এয়ার ইন্ডিয়ার তিনটি ও ইজিপ্ট এয়ারের একটি ফ্লাইট। যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা মাথায় নিয়ে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকা থেকে রিয়াদ ও দাম্মামগামী সব ফ্লাইট স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। অন্যদিকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত রিয়াদগামী সব ফ্লাইট বাতিল করেছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস।

এদিকে একের পর এক ফ্লাইট বাতিলে আর্থিক চাপে পড়ছে দেশের অ্যাভিয়েশন খাত। খাতসংশ্লিষ্টরা জানান, এমনিতেই ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে শুরু হওয়া ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যুদ্ধে এভিয়েশন ব্যবসায় চরম মন্দাবস্থা বিরাজ করছে। যুদ্ধের কারণে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস এবং আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনাকারী অপর বেসরকারি বাংলাদেশি সংস্থা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের আয় অনেক কমে গেছে। বিশেষ করে বাংলাদেশি এয়ারলাইনসগুলো মধ্যপ্রাচ্যের প্রতি অতিমাত্রায় নির্ভরশীল হওয়ায় তারা বাড়তি চাপের মুখে পড়েছে। গত এক সপ্তাহে রিয়াদগামী শতাধিক ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় তাদের রেভিনিউ সংগ্রহে আরো ভাটা পড়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

Advertisement

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে আমার দেশকে বলেন, একের পর এক ফ্লাইট বাতিলে চরম আর্থিক চাপে পড়েছে বিমান। কিছু কিছু ক্ষেত্রে বিকল্প পথে যাত্রী পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, তাতেও আর্থিক ক্ষতি থেকে যাচ্ছে। যুদ্ধের কারণে যাত্রীদের পাশাপাশি পরিবহন সংস্থাগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। নানামুখী চাপে এয়ারলাইনসের কর্মকর্তারাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে জানান তিনি।

হুথি যোদ্ধাদের পক্ষ থেকে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে সাম্প্রতিক হামলা ও নিরাপত্তা উদ্বেগের জের ধরে সৌদিগামী বিভিন্ন বিমান সংস্থার ফ্লাইট একের পর এক বাতিল করা হচ্ছে। এতে চরম অনিশ্চয়তা ও মানসিক দুশ্চিন্তায় পড়েছেন হাজার হাজার প্রবাসী বাংলাদেশি। বিমানের বাতিল ফ্লাইটের যাত্রীরা গতকালও নিজেদের যাত্রার টিকিটের তারিখ ও যাত্রার স্থান পরিবর্তন করতে বলাকা ভববে ভিড় করতে দেখা যায়। কারো ভিসার মেয়াদ শেষ পর্যায়ে, কারো আবার ছুটির শেষ দিন ঘনিয়ে আসছে। এমতাবস্থায় বিমানবন্দরে জড়ো হয়ে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করছেন ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসীরা। তাদের আশঙ্কা, নির্দিষ্ট সময় সৌদিতে প্রবেশ করতে না পারলে হারাতে হতে পারে স্বপ্নের চাকরি।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য চলমান পরিস্থিতি এক বিশাল আর্থিক ও মানসিক ধাক্কা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইকামা ও ভিসার মেয়াদ উত্তীর্ণের ভয়, অতিরিক্ত আর্থিক ক্ষতি ও কফিল বা নিয়োগকর্তার চাপে তারা এখন অতিষ্ঠ। সেইসঙ্গে ঢাকা এসে হোটেল ভাড়া, নতুন টিকিট কেনা কিংবা বর্তমান টিকিটের তারিখ পরিবর্তনের বাড়তি খরচ বহন করতে গিয়ে প্রবাসীদের জমানো টাকা শেষ হয়ে যাচ্ছে। অনেকে ধার-দেনা করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছেন বলে জানান।

এদিকে বেবিচকের পক্ষ থেকে বিমান পরিবহন সংস্থাগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হলেও তার সামান্যই বাস্তবায়ন হচ্ছে বলে জানান ভুক্তভোগীরা। গত সোমবার দেওয়া ওই চিঠিতে বলা হয়, কোনো ফ্লাইট বাতিল, বিলম্ব বা সময়সূচি পরিবর্তিত হলে তা সঙ্গে সঙ্গে এসএমএস, ফোন কল, ই-মেইল, ওয়েবসাইট ও সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে যাত্রীদের জানাতে হবে। টিকিটের নতুন সময়, তারিখ পরিবর্তন, টিকিট ফেরত ও ফ্লাইট-সংক্রান্ত তথ্যের বিষয়ে পরিষ্কার দিকনির্দেশনা নিশ্চিত করতে হবে। ফ্লাইট নিশ্চিত হওয়া ছাড়া কোনো অবস্থাতেই যেন যাত্রীদের বিমানবন্দরে আসার পরামর্শ না দেওয়া হয়। নির্দেশনা অনুযায়ী, যেসব প্রবাসীর ভিসা ও অন্যান্য ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত তথ্যের মেয়াদ বাড়ানো প্রয়োজন, এয়ারলাইনসগুলো তাদেরকে সৌদি কর্তৃপক্ষ, ঢাকায় অবস্থিত সৌদি এম্বাসি ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার কথা। কিন্তু এসব সেবা থেকে যাত্রীরা পুরোপুরি বঞ্চিত।

আট সদস্যের কমিটি

এদিকে, দেশের বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থা উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রণয়নের জন্য আট সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে সরকার। কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন— বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী, বিমানবাহিনী প্রধান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং পুলিশ মহাপরিদর্শক। সদস্য-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, কমিটি প্রয়োজন অনুযায়ী সভা করতে পারবে। প্রয়োজনে কমিটিতে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্ত করারও সুযোগ থাকবে। এছাড়া বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় কমিটিকে সাচিবিক সহায়তা দেবে। কমিটিকে আগামী দুই মাসের মধ্যে সরকারের কাছে সুপারিশ জমা দিতে বলা হয়েছে। কমিটি দেশের বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থার বিদ্যমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে তা আরো উন্নত করার জন্য প্রয়োজনীয় সুপারিশ তৈরি করবে।

তীব্র হচ্ছে হুথি-সরকারি বাহিনীর লড়াই

ইয়েমেনে হুথি বিদ্রোহী ও সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর মধ্যে লড়াই তীব্র হয়েছে। দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের তাইজ শহরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ চলছে। হুথিদের গোলাবর্ষণ ও গুরুত্বপূর্ণ সড়ক বন্ধ করে দেওয়ায় শহরটিতে খাদ্য, পানি, জ্বালানি ও ওষুধের সংকট বাড়ছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শহরটির প্রায় ছয় লাখ বাসিন্দার মধ্যে প্রায় ৮০ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

এছাড়া সরকারি বাহিনী হুথিদের দখলে থাকা এলাকা পুনরুদ্ধারে পাল্টা অভিযান চালাচ্ছে। বাব আল-মানদেব প্রণালির আশপাশেও সংঘর্ষ চলছে। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে লড়াই আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

গতকাল আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারি বাহিনী সৌদি আরবের মদিনার দিকে যাওয়া একটি ড্রোন প্রতিহত করার দাবি করেছে। অন্যদিকে, তাইজের দিকে হুথিদের অগ্রযাত্রায় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে। পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে। ফলে হতাহত ও দখল করা এলাকার বিষয়ে দুই পক্ষের বিষয়ে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সৌদি সমর্থিত সরকারি বাহিনীর দাবি—পহেলা অক্টোবর থেকে কিং খালেদ বিমানবন্দরে ২০টির বেশি হামলা চালানো হয়েছে।

সূত্র: আমার দেশ 

  • সর্বশেষ