শিরোনাম
◈ যুবশক্তিকে কাজে লাগাতে পারলেই দেশের সাফল্য সম্ভব: রাষ্ট্রপতি ◈ ৭১ হাজার ৮৫০ কোটি টাকার সম্প্রসারণ প্রকল্প বাদ, ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়ক নিয়ে নতুন পরিকল্পনা ◈ ৪০০ ছক্কার বিশ্বরেকর্ড, ভারত ধরাছোঁয়ার বাইরে ◈ গার্মেন্টস শ্রমিকদের বর্তমান বেতন কত, ৩০ হাজার টাকা মজুরির দাবির যৌক্তিকতা কতটা, কতটা সক্ষম মালিকপক্ষ? ◈ শ্রমিক অসন্তোষে জরুরি তৎপরতা, মন্ত্রীদের বৈঠক ডাকলেন প্রধানমন্ত্রী; আমিরাত সফর বাতিল শ্রমমন্ত্রীর ◈ সুইজারল্যান্ডে রাইন নদীতে মিলল খণ্ডিত মরদেহ, বাংলাদেশি রুমমেট গ্রেপ্তার ◈ শ্রমিক আন্দোলনে নাশকতার অভিযোগে ছাত্রলীগ-যুবলীগের ১১ নেতাকর্মী আটক ◈ গাজীপুরে শ্রমিক বিক্ষোভের মাঝেই গাজীপুরে কারখানার ঝুট গুদামে আগুন, যানজটে বিপাকে ফায়ার সার্ভিস ◈ তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় বান্ধবী দিশা গ্রেফতার, দীপের সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ ◈ আগামী গ্রীষ্মে সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে লোডশেডিং কমানোর আশা বিদ্যুৎমন্ত্রীর

প্রকাশিত : ০১ নভেম্বর, ২০২৬, ০৭:০০ বিকাল
আপডেট : ০১ নভেম্বর, ২০২৬, ০৭:৩২ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

বিষধর সাপ অবমুক্ত নিয়ে বিতর্ক, সন্দ্বীপে উদ্ধার কার্যক্রম বন্ধের ঘোষণা

হুমকি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিরূপ প্রচারণার অভিযোগ তুলে চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে বন্যপ্রাণী উদ্ধার কার্যক্রম বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন স্নেক রেসকিউ টিম বাংলাদেশের (এসআরটিবিডি) উদ্ধারকর্মী মোহাম্মদ সাইমুন।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।

ফেসবুক স্ট্যাটাসে সাইমুন বলেন, অত্যন্ত দুঃখভারাক্রান্ত মন নিয়ে জানাচ্ছি যে, আজ থেকে আমি সন্দ্বীপে আমার বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও এ-সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি।

গত কয়েক দিনে সাপ ও সাপের ডিম উদ্ধারের পর বন বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী ফোটা বাচ্চাগুলোকে উপযুক্ত পরিবেশে অবমুক্ত করার বিষয়টি নিয়ে আমাকে নানাভাবে হুমকি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমার বিরুদ্ধে নানা বিরূপ মন্তব্য ও প্রচারণা চালানো হয়েছে।

Advertisement

তিনি বলেন, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ, মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং সাপ ও মানুষের সহাবস্থান নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে আমি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছি। একজন বন্যপ্রাণী উদ্ধারকর্মী হিসেবে মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বন্যপ্রাণী রক্ষায় ভূমিকা রাখাই ছিল আমার উদ্দেশ্য। কখনোই মানুষের ক্ষতি করা নয়।

নিজের কাজকে ঘিরে এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় মানসিকভাবে মর্মাহত উল্লেখ করে সাইমুন বলেন, আজ থেকে তিনি সন্দ্বীপে সব ধরনের বন্যপ্রাণী উদ্ধার কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এ পরিস্থিতিকে নিজের, পরিবারের এবং বন্যপ্রাণী নিয়ে কাজ করা সবার জন্য লজ্জাজনক বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সাইমুন জানান, এখন থেকে সন্দ্বীপের কোনো বসতবাড়িতে সাপ বা অন্য কোনো বন্যপ্রাণী নিয়ে সমস্যা দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বন বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।

স্ট্যাটাসে তিনি আরও বলেন, সন্দ্বীপের মানুষ নিরাপদে থাকুক এবং বন্যপ্রাণীরাও যেন তাদের প্রাকৃতিক পরিবেশে বেঁচে থাকার সুযোগ পায়, সেটিই তার প্রত্যাশা।

বন্যপ্রাণী উদ্ধারকাজের এই পথচলায় যারা পাশে ছিলেন, সহযোগিতা করেছেন ও ভালোবেসেছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান সাইমুন। একই সঙ্গে তার সিদ্ধান্তে যারা কষ্ট পাবেন, তাদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।

সাইমুনের এই পোস্টে পাঠকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেক পাঠক এটিকে দুঃখজনক সিদ্ধান্ত বলেছেন। অনেক পাঠক আবার সাইমুনের বিষধর সাপ উদ্ধার করে ডিম ফুটিয়ে তার বাচ্চা আবার সন্দ্বীপে অবমুক্ত করার নিন্দা জানিয়েছেন।

সাইমুনের পোস্টে মন্তব্য করতে গিয়ে চারটি পয়েন্ট তুলে ধরেন মো. সাদিক খান নামের একজন। তিনি মন্তব্যের ঘরে লেখেন, ‘১. গত ২৪ অক্টোবর ২০২৬ সর্ব প্রথম যখন বিষধর গোখরা সাপ অবমুক্তের বিষয়টি আমার ফেসবুক নিউজ ফিডে সামনে আসে আমি অবমুক্তকারীর ছবি ব্লার করে আমার উদ্বেগ এবং আপত্তি জানিয়ে পোস্ট করি। স্পেসিফিক কারো নাম নেই নাই। কারণ আমি চাইনি আমার মাধ্যমে অবমুক্তির পরিচয় প্রকাশ হোক। এর কারণ আমি বিস্তারিত আমার ভিডিওতে বলেছি।’

সাদিক খান আরও লেখেন, ‘২. কেউ সাপ উদ্ধারের বিপক্ষে না, উদ্ধারকারীদেরও বিপক্ষে না। বরং আমি এটাকে সাধুবাদ জানিয়েছি। সবাই অবমুক্তের বিপক্ষে। ডিম ফুটিয়ে বাচ্চা এনে তা অবমুক্তটা অতিরঞ্জিত। কারণ সন্দ্বীপে গহিণ অরণ্য নেই। সাপ সব লোকালয়ে আসবে।

৩. উদ্ধার করে আবার সেটা অবমুক্তের ভিডিও ধারণ করে সেটা সামাজিক মাধ্যমে তথা ফেসবুকে প্রচার ৯৯.৯% মানুষের মাঝে বিরুপ প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে।

০৪. সন্দ্বীপে চিকিৎসা নাই, যাতায়াতের আগামাথা নাই। সেখানে সাপ অবমুক্ত করে প্রকৃতি বাঁচাতে গিয়ে মানুষ আক্রান্ত হবে এটাও চিন্তা করা উচিত। যায় হোক ভালো কাজে সব সময় সাথে আছি।’

সাইমুনের ফেসবুক পোস্টে মন্তব্যের ঘরে জুয়েল আফসার রায়হান লেখেন, আপনি সাপ উদ্ধার করছেন এই বিষয়টি খুবই উপকারী হচ্ছে মানুষের!

কিন্তু বিষধর সাপ উদ্ধার করা পরে এরপরে সেই সাপের বাচ্চাগুলো সন্দ্বীপ অবমুক্ত করা কোনোভাবে কাম্য নয়! এটা আমরা সবাই বিরোধিতা করছি! সন্দ্বীপে প্রকৃত পরিবেশ এতো বেশি নাই! এই বিষয়টি বুঝতে হবে!

সাপগুলো যেখানে অবমুক্ত করেন সেখান থেকে লোকালয় গিয়ে মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত করছে! গত ১ সপ্তাহে ৪/৫ মান মানুষ সাপে কাটছে!

দিন শেষে আপনার ভালো কাজগুলোর জন্য ধন্যবাদ। সাথে আপনি এই বিষধর সাপ আবার সন্দ্বীপে না ছেড়ে চট্টগ্রামের গহিন অরণ্যে ছাড়ার অনুরোধ করছি।

Md Sadik Khan ভাই একজন তরুণ সচেতন মানুষ। তিনি এই বিষয়টি বুঝাতে বিষয়টি তুলে আনেন! সাপ উদ্ধার করা খুব ভালো উদ্যোগ! কিন্তু সেই উদ্ধার করা বিষধর সাপগুলো যেন সন্দ্বীপে না ছেড়ে চট্টগ্রামের গহিন অরণ্যে ছাড়ার জন্য।

নজরুল ইসলাম নাবিল নামের একজন লিখেছেন, ‘খুবই দুঃখজনক ব্যাপার। সন্দ্বীপে আপনার অবদান ভুলার নয়। হয়তো সন্দ্বীপবাসী আপনার গুরুত্ব একসময় বুঝবে। আশা করি, তখন সন্দ্বীপবাসী সম্মানের সাথেই আপনাকে বণ্যপ্রাণী নিয়ে কাজ করতে ফিরিয়ে আনবে।’

হুরেজিহান রাইসা লিখেন, ‘আপনার অবদান বন্যপ্রাণী এবং মানুষের সচেতনতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আশা করি আবারও ফিরবেন সম্মান এর সাথে। শুভকামনা রইল।’

এসএইচ রাজিব লেখেন, ‘সন্দ্বীপের জন্য সত্যিই দুঃখজনক একটি সিদ্ধান্ত! যে মানুষটি নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষের ঘরবাড়ি থেকে বিষধর সাপ উদ্ধার করে মানুষ ও বন্যপ্রাণী উভয়ের জীবন রক্ষায় কাজ করেছেন, আজ তাকেই হুমকি ও অপপ্রচারের মুখে এমন সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে—এটা অত্যন্ত হতাশাজনক।

যারা আজ তার কাজের বিরোধিতা করছেন, বিপদের সময় তারাই হয়তো সবার আগে একজন উদ্ধারকর্মীর খোঁজ করবেন।

ভালো কাজের মূল্যায়ন না করে একজন স্বেচ্ছাসেবীর মনোবল ভেঙে দেওয়া কখনোই কাম্য নয়।

সাইমুন ভাই, আপনার মানবিক কাজের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা রইল। আমরা আপনার পাশে আছি।’

রবিন রাফসান নামের একজন লেখেন, ‘সাইমুন ভাই, আপনাকে বেশ অনেক দিন ধরেই চিনি। সন্দ্বীপের মানুষের মধ্যে সাপ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরিতে আপনার যে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার। সাপ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। সাপ সম্পর্কে মানুষের অজ্ঞতা, ভয় ও ভুল ধারণা দূর করতে আপনার প্রচেষ্টা সত্যিই প্রশংসনীয়।

তবে শুনেছি, কিছুদিন আগে আপনি বেশ কয়েকটি পদ্মগোখরার বাচ্চা ফুটিয়ে সন্দ্বীপেই অবমুক্ত করেছেন। বিষয়টি আমাকে কিছুটা উদ্বিগ্ন করেছে। কারণ, পদ্মগোখরা অত্যন্ত বিষধর সাপ এবং জনবসতিপূর্ণ এলাকায় এ ধরনের সাপ অবমুক্ত করা মানুষের জীবন ও নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। আমার ব্যক্তিগত মত হলো, এমন উদ্যোগ নেওয়ার আগে বিষয়টির সম্ভাব্য ঝুঁকি ও নিরাপত্তার দিকগুলো আরও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন ছিল। আমার মনে হয়, কাজটি আপনার না করাই ভালো হতো।

তবে এসব কারণে আপনার সামগ্রিক কাজের প্রতি আমার শ্রদ্ধা ও সমর্থন কমে যায়নি। বরং আন্তরিক অনুরোধ থাকবে, আপনি আপনার সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখুন। সন্দ্বীপে সাপ সংক্রান্ত সচেতনতা, উদ্ধার ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতার ক্ষেত্রে আপনার মতো মানুষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

শুধু একটি বিষয় বিশেষভাবে খেয়াল রাখবেন, সাপকে রক্ষা করতে গিয়ে যেন কোনোভাবেই মানুষের জীবন ও নিরাপত্তা হুমকির মুখে না পড়ে। মানুষ ও বন্যপ্রাণী উভয়ের নিরাপদ সহাবস্থান নিশ্চিত করাই হোক আমাদের লক্ষ্য। আপনার প্রতি শুভকামনা ও শ্রদ্ধা রইল।’

শাহনেওয়াজ খান নামের একজন লেখেন, ‘বিষয়টি ঠিক আছে। তবে সন্দ্বীপের এলাকায় বিষধর সাপ অবমুক্ত করার মতো পর্যাপ্ত নিরাপদ ও উপযুক্ত জায়গা আছে বলে মনে হয় না। এলাকাটি অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ হওয়ায় সেখানে সাপ অবমুক্ত করলে মানুষের সাপে কামড়ানোর ঝুঁকি অনেক বেড়ে যেতে পারে।

আমার মতে, এ ধরনের পরিস্থিতি কীভাবে মোকাবিলা করা উচিত, তা প্রাণিবিদ, বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ এবং পরিবেশবিজ্ঞানীদের সমন্বয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ অবশ্যই আমাদের দায়িত্ব, কিন্তু মানুষের নিরাপত্তা ও জীবন রক্ষা সর্বোচ্চ গুরুত্বের বিষয়। এই দুটি বিষয়ের মধ্যে একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ভারসাম্য রয়েছে, যা বিবেচনায় রেখেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

আরেকটি বিষয় হলো, নিজ উদ্যোগে সাপের ডিম সংগ্রহ করে কৃত্রিমভাবে ইনকিউবেশনের মাধ্যমে বাচ্চা ফোটানো কতটা আইনসম্মত এবং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত কি না, সেটিও পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অনুমতি, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি এবং পরবর্তী সময়ে বাচ্চা সাপগুলোর নিরাপদ ব্যবস্থাপনা ও অবমুক্তকরণের বিষয়গুলোও যথাযথভাবে বিবেচনা করা জরুরি।’

সূত্র : জাগো নিউস ২৪ 

  • সর্বশেষ