শিরোনাম
◈ পোশাকের বাইরে রফতানিতে চমক দেখাচ্ছে বাংলাদেশের 'চুল' ◈ সোমবার থেকে ঢাকাসহ ১৩ সিটিতে ই-রিকশার নিবন্ধন শুরু ◈ শ্রমিক বিক্ষোভে বন্ধ ৩১৮ কারখানা, কাজে নেই ৭ লাখ শ্রমিক ◈ ছাত্রজীবনে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে, চাকরিতে নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ◈ যুবশক্তিকে কাজে লাগাতে পারলেই দেশের সাফল্য সম্ভব: রাষ্ট্রপতি ◈ ৭১ হাজার ৮৫০ কোটি টাকার সম্প্রসারণ প্রকল্প বাদ, ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়ক নিয়ে নতুন পরিকল্পনা ◈ ৪০০ ছক্কার বিশ্বরেকর্ড, ভারত ধরাছোঁয়ার বাইরে ◈ গার্মেন্টস শ্রমিকদের বর্তমান বেতন কত, ৩০ হাজার টাকা মজুরির দাবির যৌক্তিকতা কতটা, কতটা সক্ষম মালিকপক্ষ? ◈ শ্রমিক অসন্তোষে জরুরি তৎপরতা, মন্ত্রীদের বৈঠক ডাকলেন প্রধানমন্ত্রী; আমিরাত সফর বাতিল শ্রমমন্ত্রীর ◈ সুইজারল্যান্ডে রাইন নদীতে মিলল খণ্ডিত মরদেহ, বাংলাদেশি রুমমেট গ্রেপ্তার

প্রকাশিত : ০১ নভেম্বর, ২০২৬, ০৭:৫৫ বিকাল
আপডেট : ০১ নভেম্বর, ২০২৬, ০৮:০৬ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

শেরপুরে ড্রামে ভর্তি ঝিনুকের লাশ উদ্ধারে পিবিআই এর প্রেস ব্রিফিংয়ে বিস্ফোরক তথ্য

তপু সরকার হারুন, শেরপুরঃ অনৈতিক কাজের টাকা ভাগাভাগি নিয়ে হত্যাকান্ড এবং ঘটনা আড়াল করতে ২০০ কিঃ মিঃ দুরে লাশ ফেলেও রেহাই পেল না অপরাধীরা।

গত ২২ অক্টোবর মনিবার সকাল ০৯.৩০ সময় শ্রীবরদী থানা পুলিশ সংবাদ পায় যে, কুড়িকাহনিয়া ব্রীজের নিচে একটি প্লাস্টিকের নীল রংয়ের বড় ড্রাম ভেসে আছে। উক্ত সংবাদের প্রেক্ষিতে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় ড্রামটি খুলে ত একজন অজ্ঞাতনামা মহিলার লাশ উদ্ধার করে উক্ত মহিলার শরীরে একাধিক ধারালো অস্ত্রের আঘাত ছিলো বলে পরিলক্ষিত হয়। পিবিআই শেরপুর এর ক্রাইমসিন টিম ঘটনাস্থলে পৌছে ও পেশাদারিত্বের সাথে অজ্ঞাত নামা মহিলার পরিচয় সনাক্ত করতে সক্ষম হয়। মহিলার নাম ঝিনুক আক্তার (২৬), পিতা- মোঃ শাকিল মিয়া, সাং- এরশাসনগর, টংগী, গাজীপুর মর্মে জানা যায়।

ভিকটিমের ফুফু মোছাঃ শিরিনা আক্তার বাদী হয়ে ভিকটিমের স্বামী মোঃ সাইফুল ইসলাম মুন্না সহ অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জন আসামীকে বিবাদী করে একটি হত্যা মামলা (শ্রীবরদী থানার মামলা নং- ১০ তারিখঃ ২৩/১০/২০২৬খ্রিঃ ধারাঃ ৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোড) দায়ের করে।

এ ঘটনায় পিবিআই শেরপুর ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং পিবিআই শেরপুর জেলা মামলাটি স্ব-উদ্দ্যেগে গ্রহণ করে মোঃ মোস্তফা কামাল, বিপিএম-সেবা, অ্যাডিশনাল আইজিপি, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এঁর তত্ত্বাবধান ও দিক নির্দেশনায় পিবিআই, শেরপুর ইউনিট ইনচার্জ, পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত, পিপিএম এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে তদন্তকালে প্রাপ্ত তথ্য প্রমাণ ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে অত্র মামলার ঘটনায় তদন্তে প্রাপ্ত আসামী চার আসামী কে গ্রেফতার করে।

Advertisement

আসামী মোঃ নুর ইসলাম বাবু (৪৪), পিতা-মৃত আঃ রশিদ, সাং-দিঘলগ্রাম, থানা-বোদা, জেলা-পঞ্চগড়,মোঃ সজল (৪৪), পিতা-মৃত আলাউদ্দিন, সাং-বাঘমারা শিশুয়া, থানা-সরিষাবাড়ী, জেলা-জামালপুর মোঃ নুর মোহাম্মদ গোসা (৪৪) পিতা- মোঃ আইবালী, সাং- গড়জরিপা, থানা- শ্রীবরদী, জেলা- শেরপুর মাহবুবা আক্তার ফাতেমা (৪৪), স্বামী- মোঃ গিয়াস উদ্দিন, পিতা- নায়েব আলী ভূইয়া, সাং- কুশিয়ারা, থানা-দাউদকান্দি, জেলা- কুমিল্লা মামলার এজাহার পর্যালোচনা, তদন্ত ও আসামীদের প্রদত্ত জবানবন্দি পর্যালোচনায় জানা যায় যে, অত্র মামলার ভিকটিম ঝিনুক আক্তার (২৬) গাজীপুরের টংগী এলাকায় একটি পার্লারে কাজ করত। গত ২১ অক্টোবর দুপুর ০২.৩০ ঘটিকার দিকে তিনি অত্র মামলার গ্রেফতারকৃত আসামী মোঃ সজল ও মোঃ নুর ইসলাম বাবুদ্বয়ের সাথে মোবাইল ফোনে যোগযোগ করে ঢাকার উত্তরখান এলাকাধীন কবিরশাহ মাজারে আসলে আসামী মাহবুবা আক্তার ফাতেমা ও মোঃ নুর মোহাম্মদ গোসা বুশা ভিকটিমকেসহ আসামী মোঃ সজল ও মোঃ নুর ইসলাম বাবু-দের নিয়ে দক্ষিণখান থানাধীন মৌশাইর, ৪৭নং ওয়ার্ডস্থ মাল্টি গার্মেন্টেসের পূর্ব পার্শ্বে আঃ সাত্তারের নির্মাণাধীন ৫ তলা বিল্ডিং এর ৩ তলার দক্ষিণ পার্শ্বের ভাড়াটিয়া জুয়েল এর রুমে নিয়ে যায়।

সেখানে অনুমান ১০/১২ জনের সাথে ভিকটিমের দৈহিক সম্পক করায়। রাত্র অনুমান রাত্র ২টার সময় ভিকটিম চলে যেতে চাইলে আসামী মাহবুবা আক্তার ফাতেমা ভিকটিমকে ১২০০- টাকা প্রদান করে। কিন্তু ভিকটিম মাত্র ১২০০/- টাকা না নিয়ে আরো অধিক টাকা দাবী করে চিল্লাপাল্লা শুরু করলে আসামী ফাতেমা ভিকটিমকে থাপ্পড় মারলে ভিকটিমও ফাতেমাকে আঘাত করে।

তখন ফাতেমা উত্তেজিত হয়ে ঘরে থাকা বটি দা দিয়ে ভিকটিমকে উপযুপরি কোপ মারতে থাকলে ভিকটিম ফ্লোরে পড়ে গেলে অন্যান্য আসামীরা ভিকটিমের হাত পা চেপে ধরে গলায় গামছা পেঁচিয়ে ভিকটিমের মৃত্যু নিশ্চিত করে।

পরবর্তীতে পরিকল্পনা মাফিক লাশ প্লাস্টিকের ড্রামে ভরে অজ্ঞাত গাড়ীতে করে শ্রীবরদী ধানাধীন কুড়িকাহনিয়া ব্রীজের নিচে ফেলে যায়। অত্র মামলার ঘটনায় ইতমধ্যে মোঃ নুর ইসলাম বাবু বিজ্ঞ আদালতে ফৌঃ কাঃ বিঃ ১৬৪ ধারায় দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করেছে।

এ বিষয়ে পিবিআই, শেরপুর জেলার পুলিশ সুপার জানান এটি একটি ক্লুলেস হত্যাকান্ড মামলা এবংঅনৈতিক কাজের টাকার ভাগাভাগি নিয়েই হত্যাকান্ডটি সংগঠিত হয়। মামলার ঘটনার পর হতেই পিবিআই শেরপুরের সকল সদস্য একটি টিম হিসেবে কাজ করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে মামলার রহস্য উদঘাটন করতে সক্ষম হয়। এই ঘটনা পুনরায় প্রমাণ করে যে, 'অপরাধীরা যতই চেষ্টা করুক, অপরাধ কখনো চাপা থাকে না।

  • সর্বশেষ