শিরোনাম
◈ যুবশক্তিকে কাজে লাগাতে পারলেই দেশের সাফল্য সম্ভব: রাষ্ট্রপতি ◈ ৭১ হাজার ৮৫০ কোটি টাকার সম্প্রসারণ প্রকল্প বাদ, ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়ক নিয়ে নতুন পরিকল্পনা ◈ ৪০০ ছক্কার বিশ্বরেকর্ড, ভারত ধরাছোঁয়ার বাইরে ◈ গার্মেন্টস শ্রমিকদের বর্তমান বেতন কত, ৩০ হাজার টাকা মজুরির দাবির যৌক্তিকতা কতটা, কতটা সক্ষম মালিকপক্ষ? ◈ শ্রমিক অসন্তোষে জরুরি তৎপরতা, মন্ত্রীদের বৈঠক ডাকলেন প্রধানমন্ত্রী; আমিরাত সফর বাতিল শ্রমমন্ত্রীর ◈ সুইজারল্যান্ডে রাইন নদীতে মিলল খণ্ডিত মরদেহ, বাংলাদেশি রুমমেট গ্রেপ্তার ◈ শ্রমিক আন্দোলনে নাশকতার অভিযোগে ছাত্রলীগ-যুবলীগের ১১ নেতাকর্মী আটক ◈ গাজীপুরে শ্রমিক বিক্ষোভের মাঝেই গাজীপুরে কারখানার ঝুট গুদামে আগুন, যানজটে বিপাকে ফায়ার সার্ভিস ◈ তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় বান্ধবী দিশা গ্রেফতার, দীপের সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ ◈ আগামী গ্রীষ্মে সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে লোডশেডিং কমানোর আশা বিদ্যুৎমন্ত্রীর

প্রকাশিত : ০১ নভেম্বর, ২০২৬, ০৭:২২ বিকাল
আপডেট : ০১ নভেম্বর, ২০২৬, ০৮:০৮ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

তিন বন্ধুর অভিনব উদ্যোগ, আমের খোসা থেকে তৈরি হচ্ছে চা

আমের খোসা সাধারণত ফেলেই দেওয়া হয়। মৌসুমে বিপুল পরিমাণ আম প্রক্রিয়াজাত ও খাওয়ার পর এসব খোসা জমে বর্জ্যে পরিণত হয়। তবে ফেলে দেওয়া সেই আমের খোসাকেই সম্ভাবনাময় পণ্যে রূপ দিয়েছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলার তিন বন্ধু মো. মইনুল ইলাম, মো. মিঠু ও মাসুম পান্না। আমের খোসা প্রক্রিয়াজাত করে তৈরি করছেন চা। যার নাম দিয়েছেন ‘ম্যাংগো পিল টি’। ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগ এরই মধ্যে নজর কেড়েছে ক্রেতা ও চায়ের দোকানিদের। তৈরি হয়েছে নতুন আগ্রহও।

উদ্যোক্তাদের লক্ষ্য, আমের খোসাকে বর্জ্য হিসেবে না দেখে মূল্য সংযোজনযোগ্য পণ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা। উদ্যোগটি বাণিজ্যিকভাবে সম্প্রসারণ করা গেলে আমের খোসার অপচয় কমানোর পাশাপাশি গড়ে উঠতে পারে নতুন শিল্প। সৃষ্টি হতে পারে কর্মসংস্থান, বিশেষ করে আম উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণনির্ভর এলাকায় তৈরি হতে পারে বাড়তি আয়ের সুযোগ। একই সঙ্গে আমের উপজাত ব্যবহার করে নতুন পণ্য তৈরির পথও উন্মোচিত হতে পারে।

তিন বন্ধুর এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে কৃষি বিভাগ। তাদের দাবি, সম্ভাবনাময় এই উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে। তবে নতুন এই চায়ের পুষ্টিগুণ, খাদ্যমান ও নিরাপদ ব্যবহার সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া জরুরি বলে মনে করছেন গবেষকরা। এজন্য চায়ের পুষ্টিমান ও গুণগত বৈশিষ্ট্য পরীক্ষার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা। সব মিলিয়ে ফেলে দেওয়া আমের খোসা থেকে চা তৈরির এই উদ্যোগ শুধু তিন বন্ধুর নতুন ব্যবসার স্বপ্নই নয়, বরং কৃষিপণ্যভিত্তিক বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তরেরও একটি সম্ভাবনাময় দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে।

তিন বন্ধুর একজন মো. মইনুল ইসলাম বলেন, লেখাপড়া শেষ করে চাকরির পেছনে না ছুটে ভোলাহাটের বজরাটেক এলাকায় গড়ে তুলেছেন ‘সবুজ খামার’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান। সেখানে ড্রাই ম্যাংগোসহ আম প্রক্রিয়াজাতকরণের বিভিন্ন পণ্য তৈরি করা হয়। এসব পণ্য তৈরির পর আমের খোসা ফেলে দেওয়া হতো। পরে এই উচ্ছিষ্ট খোসা কীভাবে কাজে লাগানো যায়, সেই চিন্তা থেকেই আমের খোসা দিয়ে চা তৈরির পরিকল্পনা করেন তারা। সেখান থেকেই শুরু হয় ‘ম্যাংগো পিলটি’ তৈরির যাত্রা।

Advertisement

মো. মিঠু বলেন, ছোটবেলা থেকেই আমচাষি পরিবারের সন্তান হিসেবে আমের সঙ্গে তার পরিচয়। কয়েক বছর ধরে আমের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় চাষিদের দুর্ভোগ কাছ থেকে দেখেছেন তিনি। তাই আমকে কাজে লাগিয়ে কীভাবে নিজেরা স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি নতুন কিছু করা যায়, সেই চিন্তা থেকেই আমের খোসা দিয়ে ‘পিল টি’ তৈরির উদ্যোগ নেন। শুরুতে কিছুটা অনিশ্চয়তা থাকলেও ক্রেতাদের কাছ থেকে ভালো সাড়া পাচ্ছেন বলে জানান তিনি।

জেলার সবচেয়ে বেশি আম উৎপাদন হয় শিবগঞ্জ উপজেলায়। এই উপজেলার প্রায় ১০০ বিঘা জমিতে আম চাষ করেন রনি মিঞা। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, দিন দিন আমের দাম কমে যাচ্ছে। বিশেষ করে মৌসুমি আমের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় প্রায়ই লোকসান গুনতে হচ্ছে চাষিদের। এমন পরিস্থিতিতে ভোলাহাটে আমের খোসা থেকে চা তৈরির উদ্যোগের কথা শুনেছেন তিনি। বাণিজ্যিকভাবে এই উদ্যোগ সম্প্রসারিত হলে আমের খোসারও বাজার তৈরি হবে। এতে আমচাষিরা বাড়তি আয়ের সুযোগ পাবেন বলে আশা করছেন তিনি।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল আজিজ বলেন, দিন দিন চায়ের চাহিদা বাড়ছে। সেই বিবেচনায় আমের খোসা থেকে তৈরি এই চায়েরও ভালো বাজার তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ, তিনি নিজে এই চা পান করে দেখেছেন। এতে চায়ের স্বাভাবিক স্বাদের পাশাপাশি আমের ঘ্রাণও পাওয়া যায়। তাই বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন বাড়ানো গেলে ক্রেতাদের মধ্যে এই চায়ের চাহিদা তৈরি হবে বলে মনে করেন তিনি।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ এক্সিম ব্যাংক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পল্লী উন্নয়ন বিভাগের গবেষক শারজানা আক্তার সাবা জাগো নিউজকে বলেন, কয়েক বছর ধরেই আমের ন্যায্যমূল্য না পেয়ে লোকসানের মুখে পড়ছেন চাষিরা। উৎপাদন খরচ বাড়লেও অনেক সময় বাজারে আমের কাঙ্ক্ষিত দাম মিলছে না। ফলে মৌসুম শেষে হতাশ হতে হচ্ছে অনেক কৃষককে। এমন পরিস্থিতিতে আমের খোসার মতো ফেলে দেওয়া উপজাত কাজে লাগিয়ে চা তৈরির উদ্যোগ নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে। এর মাধ্যমে আমের অপচয় কমানোর পাশাপাশি আমচাষিদের জন্য বিকল্প আয়ের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। বিশেষ করে আম প্রক্রিয়াজাতকরণের সঙ্গে এ ধরনের উদ্যোগ যুক্ত করা গেলে কৃষিভিত্তিক নতুন শিল্প গড়ে ওঠার সম্ভাবনাও রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, শুধু উদ্যোগ গ্রহণ করলেই হবে না, এটিকে টেকসই ও বাণিজ্যিকভাবে সম্প্রসারণের জন্য উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে। উদ্যোক্তাদের আর্থিক সহায়তা, আধুনিক প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ ও বাজারজাতকরণে সহযোগিতা করা গেলে এ ধরনের চা বৃহৎ পরিসরে উৎপাদন সম্ভব।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (উদ্ভিদ সংরক্ষণ) আমির আবদুল্লাহ মো. ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, আম প্রক্রিয়াজাতকরণের পর উৎকৃষ্ট মানের অনেক খোসাই সাধারণত ফেলে দেওয়া হয়। অথচ সেই ফেলে দেওয়া খোসা ব্যবহার করেই তৈরি হচ্ছে চা, যার বাজারমূল্য কেজিপ্রতি প্রায় চার হাজার টাকা। এটি নিঃসন্দেহে কৃষিপণ্যের অপচয় রোধ ও মূল্য সংযোজনের একটি সম্ভাবনাময় উদ্যোগ। এ ধরনের উদ্যোগ বাণিজ্যিকভাবে সম্প্রসারণ করা গেলে আমের উপজাত থেকেও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা তৈরি হবে। উদ্যোক্তারা এগিয়ে এলে কৃষি বিভাগ তাদের পাশে থাকবে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. শরফ উদ্দিন বলেন, বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাওয়ার আগে চায়ের পুষ্টিমান, খাদ্যগুণ ও নিরাপত্তা পরীক্ষা করাও জরুরি। এসব বিষয় নিশ্চিত করা গেলে আমের খোসা থেকে তৈরি চা একদিকে যেমন নতুন পণ্যের বাজার তৈরি করবে, অন্যদিকে আমচাষি ও উদ্যোক্তা উভয়ের জন্যই আয়ের নতুন ক্ষেত্র তৈরি করতে পারে।

সূত্র : জাগো নিউস ২৪ 

  • সর্বশেষ