বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় তার বান্ধবী দিশাকে গ্রেফতার করেছে নৌ পুলিশ। নৌ পুলিশ ঢাকা অঞ্চলের পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন, শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাতে দিশাকে গ্রেফতার করা হয়।
একই দিন মধ্যরাত থেকে রিমান্ডে থাকা দীপকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এদিকে সাউরির মৃত্যুর পেছনে ‘বন্ধু’ আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেপ্তারের পর দিশাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেছেন নৌ পুলিশ। রোববার (১ নভেম্বর) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ফিরোজ উদ্দিন এই আবেদন করেন। বেলা ৩টার দিকে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রিপন হোসেনের আদালতে এ বিষয়ে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়েছে, মামলার ভুক্তভোগী কে এম তাহসিফ সাউরির সঙ্গে ঘটনার আগে ২৭ অক্টোবর রাতে উত্তরার একটি বারে আসামির যাতায়াত ও মোটরসাইকেল গ্যারেজসহ বিভিন্ন স্থানে একসঙ্গে ঘোরার তথ্য সিসিটিভি ফুটেজে পাওয়া গেছে। এছাড়া তাদের মধ্যে মোবাইল ফোনেও যোগাযোগের প্রমাণ রয়েছে।
মামলার মূল রহস্য উদঘাটন, অজ্ঞাতনামা অপর আসামিদের গ্রেপ্তার, আলামত উদ্ধার, হত্যাকাণ্ডের সঠিক স্থান নির্ধারণ এবং আগে রিমান্ডে থাকা অপর আসামি আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের দেওয়া বক্তব্যের সঙ্গে আসামির তথ্য ক্রস-চেক বা মিলিয়ে দেখার জন্য দিশাকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা একান্ত প্রয়োজন।
এর আগে শনিবার তাহসিফের 'বন্ধুস্থানীয় ছোট ভাই' আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৪ দিনের রিমান্ড দেন ঢাকার একটি আদালত।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তার বন্ধু দীপকে প্রথমে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ ব্যুরো অভ ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ সময় তাহসিফের সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে যাওয়া এবং সেসব স্থানে যাওয়ার কারণ সম্পর্কে তথ্য দেন দীপ।
তবে তার বক্তব্যে অসংগতি পাওয়া যায় বলে দাবি সূত্রের। পরে দীপের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করে পিবিআই। এরপর দীপকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে চার দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়।
নৌ পুলিশের সূত্র জানায়, রিমান্ডে দীপের আগের বক্তব্য, পরিবারের করা মামলার অভিযোগ, সিসিটিভি ফুটেজ ও তদন্তে পাওয়া আলামত মিলিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাহসিফের মৃত্যুর আগে কী ঘটেছিল এবং এতে অন্য কেউ জড়িত কি না, তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্ত কর্মকর্তারা।
গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় দীপের ডাকে বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন তাহসিফ। পরদিন বিকেলে তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ।
তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে রাজধানীর উত্তরখান থানায় মামলা করেন তার বাবা কে এম এনায়েতুল করিম। পরে এ মামলায় দীপ ও দিশা সন্দেহুভাজন আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ।