শিরোনাম
◈ রাজধানীতে বাসে আগুন দেওয়ার চেষ্টার সময় যুবক আটক ◈ আরও ৪ শিশুর মৃত্যু হামের উপসর্গে, মোট ১০৫৭ ◈ আরও ৬ জনের মৃত্যু ডেঙ্গুতে, হাসপাতালে ১৫৯৩ ◈ জাল টাকার বস্তা ময়লার ভাগাড়ে, আসল ভেবে হুলস্থুল কাণ্ড ◈ বাংলাদেশ-পাকিস্তানকে একই চোখে দেখলে ভারতের কৌশলগত ক্ষতি: শেখর গুপ্ত ◈ উপকূলে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনে ইতালিকে আমন্ত্রণ স্পিকারের ◈ বন্ধ্যাত্বের আধুনিক চিকিৎসায় উদ্যোগী সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী ◈ কোথায়, কীভাবে ও কেন অপ্রতীমকে হত্যা করা হলো, জানাল পুলিশ ◈ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনে কতজন ও কারা যাচ্ছেন ◈ জাতিসংঘের অধিবেশনে বাংলায় ভাষণ দেবেন তারেক রহমান

প্রকাশিত : ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৬:২১ বিকাল
আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৬:৫৯ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

এআইয়ের ভুল গোয়েন্দা তথ্য, চীনা জাহাজ আটকের প্রস্তুতি নিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের ভুল তথ্য কতটা গুরুতর পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে, তার একটি ঘটনা সামনে এসেছে। সিএনএনের এক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, এআইয়ের সহায়তায় তৈরি একটি ভুল গোয়েন্দা প্রতিবেদনকে সত্য ধরে নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে একটি চীনা জাহাজ আটকানোর প্রস্তুতি নিয়েছিল মার্কিন সামরিক বাহিনী। পরে কর্মকর্তারা বুঝতে পারেন, প্রতিবেদনে জাহাজটির পণ্য সম্পর্কে এআই ভুল তথ্য দিয়েছে।

ঘটনাটি ঘটে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের সময় চলতি বছরের বসন্তে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর একটি বিশেষ অভিযান কমান্ডের এক গোয়েন্দা বিশ্লেষক চীনা জাহাজটির পণ্যবাহী তালিকা বা ম্যানিফেস্ট সম্পর্কে একটি এআই চ্যাটবটের সহায়তা নেন। সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেখানে উন্মুক্ত উৎসের তথ্যের পাশাপাশি গোপন সংকেতভিত্তিক গোয়েন্দা তথ্যও ব্যবহার করা হয়েছিল।

advertisement

এআই চ্যাটবটের বিশ্লেষণে দাবি করা হয়, জাহাজটিতে পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচির সঙ্গে সম্পর্কিত উপাদান রয়েছে। বিষয়টি মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করে। ওই গোয়েন্দা প্রতিবেদনটি সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়ার পর চীনা জাহাজটি আটকানোর প্রস্তুতি শুরু হয়।

পরিস্থিতি এতটাই এগিয়েছিল যে মার্কিন সামরিক বিমান আকাশে ছিল এবং সশস্ত্র সদস্যরা জাহাজটিতে ওঠার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

advertisement

তবে অভিযান শুরুর ঠিক আগে আরও অভিজ্ঞ বিষয়ভিত্তিক গোয়েন্দা বিশ্লেষকেরা মূল তথ্যগুলো আবার পরীক্ষা করেন। তখন তারা দেখতে পান, জাহাজটির পণ্য সম্পর্কে এআই চ্যাটবটের দেওয়া তথ্য সঠিক নয়। এআইয়ের তৈরি ওই তথ্য ছিল একটি ‘হ্যালুসিনেশন’, অর্থাৎ বাস্তব তথ্যের সঙ্গে মিল না থাকা এআই-উৎপাদিত ভুল তথ্য। এরপর অভিযানটি বাতিল করা হয়।

জাহাজটি আসলে কী বহন করছিল, তা সিএনএন নিশ্চিত করতে পারেনি। একইভাবে বিশ্লেষক কোন এআই টুল ব্যবহার করেছিলেন, সেটিও জানা যায়নি। সেটি বাণিজ্যিক কোনো চ্যাটবট ছিল, নাকি মার্কিন সরকারের জন্য ব্যবহৃত অভ্যন্তরীণ কোনো এআই ব্যবস্থা, সে বিষয়েও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

advertisement

ঘটনাটি সামরিক ও গোয়েন্দা কাজে এআই ব্যবহারের ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে। সাধারণ ব্যবসায়িক কাজে কোনো এআই ভুল তথ্য দিলে তার প্রভাব সীমিত থাকতে পারে। কিন্তু সামরিক বা গোয়েন্দা সিদ্ধান্তে একই ধরনের ভুল তথ্য ব্যবহার হলে তার পরিণতি অনেক বেশি গুরুতর হতে পারে। সিএনএনের প্রতিবেদনে উদ্ধৃত এক সূত্রের ভাষায়, ঘটনাটি প্রায় যুদ্ধ শুরুর পরিস্থিতি তৈরি করেছিল।

এর মধ্যেই মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ সামরিক কাজে এআই ব্যবহারের পরিধি বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ প্রতিরক্ষা বিভাগকে ‘এআই-ফার্স্ট’ হওয়ার এবং শীর্ষ মার্কিন এআই কোম্পানিগুলোর মডেল নিয়ে পরীক্ষা করার নির্দেশ দেন।

তবে এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা ও নিরাপত্তা নিয়ে মতভেদও দেখা দিয়েছে। অ্যানথ্রপিক সামরিক কাজে তাদের এআই মডেল ব্যবহার করে স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র তৈরির বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছিল। একই সময়ে স্পেসএক্সএআইয়ের গ্রক ব্যবহারের বিষয়ে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সঙ্গে চুক্তির খবরও এসেছে। এ ছাড়া এনভিডিয়া, মাইক্রোসফট ও অ্যামাজনও প্রতিরক্ষা বিভাগের জন্য এআই প্রযুক্তি দেওয়ার অংশীদারত্বে যুক্ত হয়েছে।

এআই দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করতে পারে, বিপুল পরিমাণ তথ্য বিশ্লেষণও করতে পারে। তবে এই ঘটনা দেখিয়ে দিল, এআইয়ের তৈরি তথ্য যাচাই না করে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের ভিত্তি বানানো কতটা ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে সামরিক ও গোয়েন্দা ক্ষেত্রে এআইয়ের পাশাপাশি অভিজ্ঞ মানুষের যাচাই ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের গুরুত্ব আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

  • সর্বশেষ