মানুষের সরাসরি সহায়তা ছাড়াই নিজস্ব সক্ষমতা বাড়ানোর পথে এগোচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চ্যাটবট ‘ক্লড’। এআই প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিক জানিয়েছে, তাদের নতুন এআই মডেল তৈরি ও উন্নয়নের গবেষণা এবং প্রকৌশলগত কাজের ২৬ শতাংশের বেশি এখন ক্লডের নেতৃত্বে হচ্ছে। কয়েক মাস আগেও এই হার ছিল শূন্য।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক ব্লগ পোস্টে অ্যানথ্রপিক জানায়, অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনায় দেখা গেছে, এসব কাজে ক্লড অনেক ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিচ্ছে, আর মানুষের ভূমিকা সীমিত থাকছে তদারকি ও উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনায়। তবে কোনো পর্যায়েই ক্লড এখনো মানুষের সম্পৃক্ততা ছাড়া সম্পূর্ণ স্বায়ত্তশাসিতভাবে কাজ করছে না।
প্রযুক্তি বিশ্বে এ ধরনের সক্ষমতাকে বলা হয় ‘রিকার্সিভ সেলফ-ইমপ্রুভমেন্ট’, অর্থাৎ এআই নিজেই নিজের উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করা। অ্যানথ্রপিক সতর্ক করেছে, মডেলগুলো নিজেদের বিকাশ দ্রুততর করতে থাকলে ভবিষ্যতে এগুলোকে মানুষের পক্ষে বোঝা ও নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
কোম্পানিটি জানিয়েছে, গবেষণা ও প্রকৌশলগত কাজ পরিচালনায় তাদের প্রায় ৩০ হাজার এআই ‘এজেন্ট’ রয়েছে। পাশাপাশি, গবেষণা ও উন্নয়নে ব্যবহৃত কম্পিউটিং ক্ষমতার প্রায় ৬ শতাংশ সম্প্রতি নিরাপত্তা কাজে বরাদ্দ করা হয়েছে।
এআইয়ের স্বায়ত্তশাসন ও সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে প্রযুক্তি খাত ও ওয়াশিংটনে বিতর্কের মধ্যেই এসব তথ্য প্রকাশ করল অ্যানথ্রপিক। প্রতিষ্ঠানটি অন্যান্য এআই কোম্পানিকেও স্ব-উন্নতিশীল এআইয়ের অগ্রগতি ও সম্পদ ব্যবহারের তথ্য প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, রয়টার্স