শিরোনাম
◈ ‘হেলিকপ্টারে পালাবেন, নাকি সম্মানের সঙ্গে পদত্যাগ করবেন’ : তারেক রহমানের উদ্দেশ্যে নাহিদ ইসলাম ◈ ‌কোচ জিদানের প্রথম ফ্রান্স দলে ৫ নতুন মুখ ◈ ইউনিয়ন বার্লিনের জা‌লে বায়ার্ন মিউনি‌খের ৭ গোল, হ‌্যা‌রি কেইনের রেকর্ড ◈ ইং‌লিশ লি‌গে চেলসিকে উড়ি‌য়ে দি‌লো ব্রেন্টফোর্ড ◈ বাংলাদেশসহ ২১১ সদস্যকে ১২৩ কোটি টাকা করে দেওয়ার দাবিতে ইনফান্তিনোকে উয়েফা-কনকাকাফের চিঠি ◈ রূপপুরের প্রথম ইউনিটের কাজ শেষ, বিশ্ব পারমাণবিক শক্তির জগতে বাংলাদেশ ◈ জামায়াতের নেতৃত্বে ১১ দলের ঢাকা-রংপুর লংমার্চ শুরু ◈ বিদেশে জনশক্তি রপ্তানিতে ঘুরে দাঁড়ানোর আভাস, ১৭ দিনে পাড়ি ৪০ হাজার ৫৯৩ জনের ◈ টানা ৬ ঘণ্টা শনিবার বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায় ◈ রাজধানীর একাধিক স্থানে ককটেল বিস্ফোরণের পর এবার বাসে আগুন (ভিডিও)

প্রকাশিত : ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৩৯ দুপুর
আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৪৮ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

চীনে রোবটই বানাচ্ছে রোবট, ১০ মিনিটে তৈরি হচ্ছে একটি

রোবট এখন শুধু মানুষের হয়ে কাজই করছে না, অন্য রোবট তৈরির কাজেও যুক্ত হচ্ছে। এটি কোনও বিজ্ঞান কল্পকাহিনির কোনও দৃশ্য নয়—চীনে বাস্তবেই এমন একটি কারখানা চালু হয়েছে, যেখানে রোবট ও স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রপাতির সহায়তায় তৈরি হচ্ছে হিউম্যানয়েড রোবট। নতুন এই কারখানায় প্রতি ১০ মিনিটে একটি করে শিল্পকারখানায় ব্যবহারের উপযোগী হিউম্যানয়েড রোবট উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে।

চীনের রোবট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘ইউবিটেক রোবোটিকস’ নতুন এই কারখানাটি চালু করেছে। দেশটির গুয়াংশি ঝুয়াং স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের লিউঝৌ শহরে অবস্থিত কারখানাটি বড় পরিসরে হিউম্যানয়েড রোবট উৎপাদনের জন্য তৈরি করা হয়েছে।

advertisement

কোম্পানির তথ্যানুযায়ী, ১৪ হাজার বর্গমিটার আয়তনের এই কারখানার উচ্চতা ১৩ দশমিক ৮ মিটার। এখানে মূলত ইউবিটেকের ‘ওয়াকার এস’ এবং ‘ক্রুজর’ সিরিজের শিল্পক্ষেত্রে ব্যবহারের জন্য তৈরি হিউম্যানয়েড রোবট উৎপাদন করা হয়।

কারখানাটির বার্ষিক উৎপাদন সক্ষমতা ১০ হাজার রোবট।

advertisement

রোবটই বানাচ্ছে রোবট

নতুন কারখানাটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো—রোবট তৈরির বিভিন্ন ধাপেই অন্য রোবট ও স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হচ্ছে। কারখানাটি তৈরি করেছে ইউবিটেক ও সিমেন্স ডিজিটাল ইন্ডাস্ট্রিজ সফটওয়্যার।

advertisement

পুরো উৎপাদনব্যবস্থা পরিচালিত হচ্ছে একটি ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে, যাকে ইউবিটেক বলছে ‘স্মার্ট ব্রেইন’। কোম্পানির দাবি, এই ডিজিটাল ব্যবস্থা কারখানার উৎপাদন কার্যক্রমের বিভিন্ন ধাপ সমন্বয় করে। কোন রোবট কখন তৈরি হবে, প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ কোথায় সরানো হবে এবং তৈরি হওয়া রোবটের মান যাচাই—এসব কাজেও এটি সহায়তা করে।

উৎপাদনপ্রক্রিয়ার প্রতিটি রোবটকে আলাদা সিরিয়াল নম্বর দেওয়া হয়। ফলে কারখানায় প্রবেশের পর থেকে উৎপাদনের প্রতিটি ধাপে রোবটটির গতিবিধি ও উৎপাদন-সংক্রান্ত তথ্য অনুসরণ করা সম্ভব হয়।

রোবটের কাজ রোবটই করছে

কারখানায় রোবটগুলো শুধু চূড়ান্ত পণ্য হিসেবে তৈরি হচ্ছে না; উৎপাদনপ্রক্রিয়ার বিভিন্ন কাজেও হিউম্যানয়েড রোবট ব্যবহার করা হচ্ছে।

ইউবিটেক জানিয়েছে, তাদের ‘ক্রুজর ওয়াই১’ ও ‘ক্রুজর এস২’ মডেলের রোবট বিভিন্ন উপকরণ খালাস, স্তূপ করে রাখা, উৎপাদন লাইনে পৌঁছে দেওয়া এবং কারখানার এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় সরিয়ে নেওয়ার মতো কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে।

অর্থাৎ, কিছু রোবট এমন যন্ত্রাংশ ও উপকরণ প্রস্তুত করছে, যেগুলো পরবর্তী ধাপে আরও রোবট তৈরিতে ব্যবহার করা হচ্ছে।

তবে কারখানায় শুধু হিউম্যানয়েড রোবটই কাজ করছে না। চূড়ান্ত সংযোজন বা অ্যাসেম্বলির সময় ব্যবহার করা হচ্ছে সহযোগী রোবোটিক বাহু, চালকবিহীন লজিস্টিক যান, শক্তি-সহায়ক ম্যানিপুলেটর এবং ঘূর্ণনশীল ওয়ার্কটেবল।

এই ব্যবস্থার ফলে একই উৎপাদন লাইনে একাধিক ধরনের রোবট তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে। প্রতিটি মডেলের জন্য আলাদা অ্যাসেম্বলি লাইন বা সম্পূর্ণ পৃথক উৎপাদনব্যবস্থা তৈরির প্রয়োজন হচ্ছে না।

কোম্পানির দাবি, পুরো প্রক্রিয়ায় মানুষের সরাসরি তদারকি খুবই কম। স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রপাতি ও ডিজিটাল ব্যবস্থার সমন্বয়ে কারখানাটি প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে পরিচালিত হতে পারে।

কারখানা ছাড়ার আগে ‘স্বাস্থ্য পরীক্ষা’

হিউম্যানয়েড রোবট তৈরির পরই সেগুলো বাজারে পাঠানো হয় না। প্রতিটি রোবটকে বেশ কঠোর পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হয়।

ইউবিটেক জানিয়েছে, কারখানায় তৈরি প্রতিটি হিউম্যানয়েড রোবটের পুরো যন্ত্রের ওপর চার ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে পরীক্ষা চালানো হয়। রোবটটির বিভিন্ন যান্ত্রিক ও কার্যকরী সক্ষমতা যাচাইয়ের পর এর বাহ্যিক অবস্থা পরীক্ষা করা হয়।

এ জন্য রোবটটির ৩৬০ ডিগ্রি ভিজ্যুয়াল পরিদর্শন করা হয়, যাতে সব দিক থেকে এর গঠন ও বাহ্যিক মান পরীক্ষা করা যায়।

৬৫ বর্গমিটারে ১১২ রোবটের গুদাম

উৎপাদনের পর রোবট সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও ব্যবহার করা হয়েছে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি। ইউবিটেকের দাবি, তাদের স্বয়ংক্রিয় গুদামে মাত্র ৬৫ বর্গমিটার জায়গার মধ্যে ১১২টি হিউম্যানয়েড রোবট রাখা যায়।

স্বয়ংক্রিয় গাইডেড ভেহিকল (এজিভি), চালকবিহীন ফর্কলিফট এবং অন্যান্য লজিস্টিক যন্ত্র রোবট ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশকে উৎপাদন, পরীক্ষণ এবং সংরক্ষণ এলাকার মধ্যে স্থানান্তর করে।

ফলে রোবট তৈরির পর সেগুলো গুদামে নেওয়া, প্রয়োজন অনুযায়ী সরানো এবং উৎপাদন লাইনে যন্ত্রাংশ পৌঁছে দেওয়ার কাজও স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থায় সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে।

দ্রুত বাড়ছে চীনের রোবট উৎপাদন

ইউবিটেকের নতুন কারখানাটি এমন এক সময়ে চালু হলো, যখন চীন শিল্পক্ষেত্রে রোবটের ব্যবহার ও উৎপাদন দ্রুত বাড়াচ্ছে। দেশটি গবেষণাগার ও পরীক্ষামূলক প্রকল্প থেকে রোবট প্রযুক্তিকে বাস্তব শিল্প উৎপাদনের কাজে নিয়ে যাওয়ার ওপর জোর দিচ্ছে।

চীনের জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর (এনবিএস) তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের জুলাইয়ে দেশটিতে ৯৮ হাজার ৬৭৭টি শিল্প রোবট উৎপাদিত হয়েছে। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এ সংখ্যা ৩০ দশমিক ২ শতাংশ বেশি।

চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে চীনে শিল্প রোবট উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৩৫ হাজার ৫৬টি, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৮ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি।

এই পরিসংখ্যানের পাশাপাশি নতুন নতুন বৃহৎ উৎপাদন কারখানা চালু হওয়ায় স্পষ্ট হচ্ছে, চীন রোবটকে শুধু ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি হিসেবে নয়, বর্তমান শিল্প উৎপাদনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবেও দ্রুত প্রতিষ্ঠিত করার দিকে এগোচ্ছে।

লিউঝৌয়ের নতুন কারখানায় রোবটের হাতে রোবট তৈরির এই ব্যবস্থা সেই পরিবর্তনেরই একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। এখানে উৎপাদনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত রোবট, স্বয়ংক্রিয় যান, রোবোটিক বাহু ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ডিজিটাল ব্যবস্থাকে একসঙ্গে কাজে লাগানো হচ্ছে।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে