কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বিগত কয়েক বছরে জনসাধারণের মধ্যে জায়গা পরিপক্ত করে নিলেও, কৃত্রিম সাধারণ বুদ্ধিমত্তা বা এজিআই সম্পর্কে অনেকেরই ধারণা সীমিত। মানুষের মতো বিস্তৃত পরিসরে চিন্তা, শেখা ও বিভিন্ন ধরনের সমস্যা সমাধানে সক্ষম এজিআইয়ের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে আলোচনা বাড়াতে এবার ‘ডিপমাইন্ড ইনস্টিটিউট’ চালু করেছে গুগল ও গুগল ডিপমাইন্ড। গত ১৬ সেপ্টেম্বর চালু হওয়া এ প্ল্যাটফর্মে প্রযুক্তি গবেষকদের পাশাপাশি অর্থনীতিবিদ, নীতিনির্ধারক, সমাজবিজ্ঞানী ও অন্যান্য ক্ষেত্রের চিন্তাবিদদের এজিআই নিয়ে গবেষণা ও মতামত প্রকাশের সুযোগ থাকবে।
এজিআই কী?
এজিআই (আর্টিফিশিয়াল জেনারেল ইন্টেলিজেন্স) বলতে এমন একটি সম্ভাব্য এআই ব্যবস্থাকে বোঝানো হয়, যা মানুষের মস্তিষ্কের মতো বিস্তৃত পরিসরের জ্ঞানগত সক্ষমতা অর্জন করতে পারবে। অর্থাৎ শুধু নির্দিষ্ট কোনো কাজ, যেমন ছবি তৈরি, ভাষা বোঝা বা কোড লেখার বাইরেও বিভিন্ন ধরনের সমস্যা বিশ্লেষণ, যুক্তি-খণ্ডন, নতুন পরিস্থিতি থেকে শেখা এবং একাধিক ক্ষেত্রে জ্ঞান প্রয়োগ করতে পারাই হবে এর মূল বৈশিষ্ট্য। গুগল ডিপমাইন্ডের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমান এআই ব্যবস্থাগুলোর সক্ষমতা দ্রুত বাড়লেও সেগুলো এখনো পূর্ণাঙ্গ এজিআইয়ের পর্যায়ে পৌঁছায়নি। তবে প্রতিষ্ঠানটি ধারণা করছে, প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান উন্নয়নে বিদ্যমান সীমাবদ্ধতাগুলো ধীরে ধীরে কমে আসতে পারে।
ডিপমাইন্ড ইনস্টিটিউট মূলত কী?
ডিপমাইন্ড ইনস্টিটিউট কোনও নতুন এআই মডেল, অ্যাপ বা সাধারণ ব্যবহারকারীর জন্য সফটওয়্যার সেবা নয়। এটি গবেষণা, বিশ্লেষণ ও মতবিনিময়ের একটি প্রকাশনা প্ল্যাটফর্ম। গুগল, গুগল ডিপমাইন্ড এবং বিশ্বের অন্যান্য গবেষণা প্রতিষ্ঠানের লেখকেরা এখানে এজিআই কীভাবে নিরাপদভাবে তৈরি ও পরিচালনা করা যায়, সমাজে এর প্রভাব কী হতে পারে এবং এআই যুগে কী ধরনের নীতি ও নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন, এসব বিষয়ে গবেষণা প্রকাশ করবেন। ইনস্টিটিউটটির পরিচালক হিসেবে রয়েছেন ডিপমাইন্ডের সহপ্রতিষ্ঠাতা শেন লেগ, গুগলের জেমস মানিয়াকা এবং গুগল ডিপমাইন্ডের চেয়ারম্যান ডেমিস হাসাবিস। লেগ ব্যবস্থাপনা সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
শুরুতেই চার গবেষণা প্রকাশ
প্ল্যাটফর্মটি চালু করার সময়ই চারটি গবেষণাধর্মী লেখা প্রকাশ করা হয়েছে। এর একটিতে এজিআইয়ের কারণে সম্ভাব্য অর্থনৈতিক পরিবর্তন মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় নীতি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। অন্য একটি লেখায় উন্নত এআই মডেলের ‘চেইন অব থট’ প্রক্রিয়া মানুষের কাছে কতটা পর্যবেক্ষণযোগ্য রাখা সম্ভব, তা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। বাকি লেখাগুলোতে এজিআই যুগে মানবকল্যাণের নীতি এবং উন্নত এআই মডেলের সক্ষমতা মূল্যায়নের জন্য প্রয়োজনীয় কাঠামো নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। প্রকাশিত লেখাগুলোর একটিতে উন্নত এআই মডেলের অভ্যন্তরীণ যুক্তিপ্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণের সুযোগ কমে গেলে তা নিরাপত্তা ও তদারকির ক্ষেত্রে কী ধরনের সমস্যা তৈরি করতে পারে, তা তুলে ধরা হয়েছে। এ ছাড়া গুগল ডিপমাইন্ডের প্রধান নির্বাহী ডেমিস হাসাবিস উন্নত এআই মডেল বাজারে ছাড়ার আগে সেগুলোর সক্ষমতা ও নিরাপত্তা মূল্যায়নের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে একটি স্বতন্ত্র মান নির্ধারণকারী সংস্থা গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন।
কারা ব্যবহার করতে পারবেন?
ডিপমাইন্ড ইনস্টিটিউট ইতিমধ্যেই অনলাইনে চালু হয়েছে এবং এর প্রকাশিত গবেষণাগুলো ইনস্টিটিউটটির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে পড়া যাচ্ছে বিনামূল্যেই। গবেষক, প্রযুক্তিবিদ, নীতিনির্ধারক, শিক্ষাবিদ, অর্থনীতিবিদসহ এজিআইয়ের ভবিষ্যৎ প্রভাব নিয়ে আগ্রহী সাধারণ পাঠকরাও এসব লেখা ব্যবহার করতে পারবেন।
ইনস্টিটিউটটি বিশেষভাবে জোর দিচ্ছে বহুমতের ওপর। প্রকাশিত কোনো লেখা গুগলের আনুষ্ঠানিক অবস্থান হিসেবে বিবেচিত হবে না এবং লেখকেরা পরবর্তী তথ্য ও গবেষণার ভিত্তিতে নিজেদের মত পরিবর্তনও করতে পারেন। প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য হলো এজিআইয়ের সম্ভাব্য সুবিধা ও ঝুঁকি নিয়ে প্রযুক্তি খাতের বাইরেও বিস্তৃত আলোচনা তৈরি করা।