সরকারি কর্মচারীদের জন্য জাতীয় বেতন স্কেল, ২০২৬-এর গেজেট প্রকাশ করেছে সরকার। নতুন এই বেতন স্কেল ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হয়েছে বলে গণ্য হবে।
তবে প্রজাতন্ত্রের চাকরিতে নিয়োজিত সব কর্মচারী নতুন বেতন স্কেলের সুবিধা পাবেন না। গেজেটে কয়েকটি শ্রেণির সরকারি চাকরিজীবীকে এর আওতার বাইরে রাখা হয়েছে।
সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ১৫ ধারায় দেওয়া ক্ষমতাবলে অর্থ মন্ত্রণালয় ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’ জারি করেছে। এর মাধ্যমে ১ জুলাই ২০২৬ থেকে জাতীয় বেতন স্কেল, ২০১৫-এর পরিবর্তে ২০২৬ সালের নতুন বেতন স্কেল কার্যকর করা হয়েছে।
যাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না
গেজেটে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসে কর্মরত ব্যক্তিরা জাতীয় বেতন স্কেল, ২০২৬-এর আওতায় থাকবেন না।
এ ছাড়া প্রতিরক্ষা প্রাক্কলন থেকে বেতন পাওয়া বেসামরিক কর্মচারীদের বাদ দিয়ে প্রতিরক্ষা সার্ভিসে নিয়োজিত কর্মচারীরাও এই আদেশের বাইরে থাকবেন। একইভাবে পুলিশ বাহিনী এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কর্মচারীদের ক্ষেত্রেও নতুন পে স্কেল প্রযোজ্য হবে না।
রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট শ্রেণির শ্রমিক, শিক্ষানবিশ ও প্রশিক্ষণার্থীদেরও নতুন বেতন স্কেলের আওতামুক্ত রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তি, দৈনিক ভিত্তিতে নিয়োজিত সাময়িক শ্রমিক এবং চুক্তিভিত্তিক বা খণ্ডকালীন কর্মীরাও জাতীয় বেতন স্কেল, ২০২৬-এর সুবিধা পাবেন না।
অর্থাৎ, নতুন বেতন স্কেল সাধারণভাবে প্রজাতন্ত্রের চাকরিতে নিয়োজিত কর্মচারীদের জন্য প্রযোজ্য হলেও গেজেটে উল্লেখ করা নির্দিষ্ট শ্রেণির কর্মচারীরা এর বাইরে থাকবেন।
ধাপে ধাপে কার্যকর হবে নতুন পে স্কেল
নতুন বেতন স্কেল একসঙ্গে পুরোপুরি কার্যকর না করে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ৯ম গ্রেড ও তদূর্ধ্ব এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য বেতন বৃদ্ধির হার আলাদাভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে।
গেজেট অনুযায়ী, নতুন বেতন স্কেলে নির্ধারিত বেতন এবং ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে প্রাপ্ত বা প্রাপ্য বর্তমান বেতনের পার্থক্যের ৪০ শতাংশ ৯ম গ্রেড ও তদূর্ধ্ব কর্মচারীদের এবং ৫০ শতাংশ ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত দেওয়া হবে।
এরপর ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত দ্বিতীয় ধাপে এই হার যথাক্রমে ৭০ শতাংশ ও ৭৫ শতাংশ হবে। সবশেষে ১ জুলাই ২০২৭ থেকে বার্ষিক বেতনবৃদ্ধি বা ইনক্রিমেন্টসহ জাতীয় বেতন স্কেল, ২০২৬ অনুযায়ী মূল বেতন শতভাগ কার্যকর হবে।
যদিও নতুন পে স্কেল ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হিসেবে ধরা হয়েছে, এর গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে ১৯ সেপ্টেম্বর। ফলে ১ জুলাই থেকে গেজেট প্রকাশের আগ পর্যন্ত সময়ের বেতন বকেয়া হিসেবে পাওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।
তবে গেজেট অনুযায়ী, এই সময়ের জন্য নতুন বেতন স্কেলের সঙ্গে সমন্বয় করে যে অর্থ দেওয়া হবে, তার সঙ্গে কর্মচারীরা আগে পাওয়া বিশেষ সুবিধার অর্থ সমন্বয় করা হবে।
পেনশনভোগীদের জন্যও বাড়ছে সুবিধা
নতুন পে স্কেলের আওতায় পেনশনভোগীদের জন্যও ধাপে ধাপে বর্ধিত সুবিধা দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
২০ হাজার ১ টাকা বা তার বেশি বিদ্যমান নিট পেনশনের ক্ষেত্রে নতুন বেতনস্কেল অনুযায়ী নিট পেনশন বৃদ্ধির ৪০ শতাংশ ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত দেওয়া হবে। আর ১ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিদ্যমান নিট পেনশনের ক্ষেত্রে বৃদ্ধির ৫০ শতাংশ দেওয়া হবে।
পরবর্তী ছয় মাসে অর্থাৎ ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত এই হার যথাক্রমে ৭০ শতাংশ ও ৭৫ শতাংশ হবে। এরপর ১ জুলাই ২০২৭ থেকে জাতীয় বেতনস্কেল, ২০২৬ অনুযায়ী পূর্ণ হারে নিট পেনশন দেওয়া হবে।
অবসরপ্রাপ্ত এবং আজীবন পারিবারিক পেনশনভোগীরাও ১ জুলাই ২০২৬ থেকে গেজেট প্রকাশের তারিখ পর্যন্ত সময়ের নিট পেনশনের বকেয়া অর্থ পাবেন। উৎস: কালের কণ্ঠ।