শিরোনাম
◈ সেপ্টেম্বরের প্রথম ১৯ দিনে রেমিট্যান্স এলো ১৮১ কোটি ডলার ◈ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে বাংলাদেশ-ভারত বিটুবি টাস্কফোর্সের তাগিদ ◈ মুহম্মদ জাফর ইকবাল ও সা‌বেক ভি‌সি  মাকসুদ কামালসহ ৫ জ‌নের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি ◈ এশিয়ান গেমস ম‌হিলা ক্রিকে‌টে স্বর্ণ-রৌপ্যের সুযোগ শেষ, এবার ব্রোঞ্জের লড়াইয়ে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ পা‌কিস্তান ◈ রাজধানীতে বাসে আগুন দেওয়ার চেষ্টার সময় যুবক আটক ◈ আরও ৪ শিশুর মৃত্যু হামের উপসর্গে, মোট ১০৫৭ ◈ আরও ৬ জনের মৃত্যু ডেঙ্গুতে, হাসপাতালে ১৫৯৩ ◈ জাল টাকার বস্তা ময়লার ভাগাড়ে, আসল ভেবে হুলস্থুল কাণ্ড ◈ বাংলাদেশ-পাকিস্তানকে একই চোখে দেখলে ভারতের কৌশলগত ক্ষতি: শেখর গুপ্ত ◈ উপকূলে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনে ইতালিকে আমন্ত্রণ স্পিকারের

প্রকাশিত : ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৬:৫৮ বিকাল
আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৭:৪৬ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

এআইয়ের ধাক্কায় ৮০ শতাংশ পর্যন্ত আয় কমেছে বাংলাদেশি ফ্রিল্যান্সারদের

বাংলাদেশের প্রায় সাড়ে তিন লাখ তরুণ ফ্রিল্যান্সার বছরে এক বিলিয়ন ডলারের বেশি আয় করছেন। গত কয়েক বছরের অনানুষ্ঠানিক হিসাব এটি। কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের উত্থানের ফলে ছোটখাটো ডিজিটাল কাজের ভবিষ্যৎ এখন বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

দেশের ফ্রিল্যান্সারদের বড় একটি অংশ বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিদেশি ক্লায়েন্টদের জন্য ডেটা এন্ট্রি, অনুবাদ, ট্রান্সক্রিপশন এবং ছবি এডিটিংয়ের মতো সহজ ও ছোটখাটো কাজ করে থাকে।

advertisement

কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এখন মুহূর্তের মধ্যে ডিজাইন তৈরি, কোডিং, ছবি এডিটিং এবং অন্যান্য ডিজিটাল কাজগুলো করে ফেলতে পারছে। আর এতে ফ্রিল্যান্সারদের আয় ৮০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে।

ফ্রিল্যান্সাররা জানিয়েছেন, বিদেশি ক্লায়েন্টদের কাছ থেকে আগের মতো নিয়মিত কাজের প্রস্তাব আসছে না। আর যেসব কাজ পাওয়া যাচ্ছে, এআইয়ের কল্যাণে সেগুলো শেষ করতে আগের চেয়ে অনেক কম সময় লাগছে।

advertisement

ডিজিটাল সেবাবিষয়ক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা পুরো ফ্রিল্যান্সিং বাজারের চিত্রই বদলে দিচ্ছে।

এখন আমেরিকার মতো দেশের কোনো কোম্পানি থেকে ১০ ডলারের একটি লোগো ডিজাইনের কাজ পাওয়ার সম্ভাবনা এখন ক্ষীণ। কারণ এআই টুল ব্যবহার করে ক্লায়েন্টরা নিজেরাই এখন লোগোর প্রথম সংস্করণটি তৈরি করে ফেলছেন।

advertisement

তার বদলে, তারা এখন এআই দিয়ে তৈরি পুরো মাল্টিমিডিয়া ক্যাম্পেইনটিকে নিখুঁত ও কাস্টমাইজ করার জন্য কোনো দক্ষ ফ্রিল্যান্সারকে ১০০ ডলার দিতেও দ্বিধা করছেন না।

ডিজিটাল বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণ কাজ থেকে জটিল কাজের দিকে সরে আসার এই প্রক্রিয়াটি হয়তো অনেক স্বল্প বেতনের চাকরি বিলুপ্ত করে দেবে, কিন্তু যারা এই পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারবেন, তাদের জন্য অনেক বেশি লাভজনক সুযোগের দুয়ার খুলে যাবে।

আয়ের ৮০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে

দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে আলাপকালে বাংলাদেশের কয়েকজন ফ্রিল্যান্সার জানিয়েছেন, তাদের কাজের পরিমাণ নাটকীয়ভাবে কমে গেছে। বিশেষ করে গ্রাফিক ডিজাইন, ছবি এডিটিং, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, কনটেন্ট প্রোডাকশন ও ফটোগ্রাফির মতো প্রচলিত কাজগুলোর চাহিদা অনেক কমে গেছে।

২০১১ সাল থেকে ফ্রিল্যান্সিং করছেন এমরাজিনা ইসলাম। তিনি জানান, একটি বড় ক্লায়েন্ট হারানোর পর তার আয় ৮০ শতাংশেরও বেশি কমে গেছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা ২০১২ সাল থেকে একটি কোম্পানির কাজ করতাম। একপর্যায়ে আমাদের টিমে ১৫ জন কর্মী ছিল।’

ওই কোম্পানি তাদের অফিস এবং ল্যাপটপের সুবিধাও দিত। এমনকি কোভিড মহামারির সময়ে ওই কোম্পানির ব্যবসার প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে তাদের টিমের সদস্য সংখ্যাও বেড়েছিল।

কিন্তু এই ফ্রিল্যান্সার আক্ষেপ করে বলেন, ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) আসার পর আমাদের পুরো ব্যবসাটাই বন্ধ হয়ে গেছে।’

এমরাজিনার টিম আগে যে ধরনের কাজ করতো—যেমন গ্রাফিক ডিজাইন, ইমেজ এডিটিং এবং প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট—এখন তার সবই এআই দিয়ে করা হচ্ছে।

তিনি জানান, এই প্রভাব কেবল ডিজাইনের ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়। ওয়েব ডেভেলপমেন্টের কাজও বদলে গেছে। আগে যেসব কাজে বিশাল বড় টিমের প্রয়োজন হতো, এখন এআই টুল ব্যবহার করে খুব অল্প মানুষই সেই কাজগুলো সেরে ফেলছে।

তিনি আরও বলেন, যারা সাধারণ কনটেন্ট রাইটিং, ফটো এডিটিং এবং ডেটা এন্ট্রির মতো মৌলিক দক্ষতার ওপর নির্ভরশীল, তারা এখন সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে পড়েছেন।

প্রায় ২০ বছর ধরে ফটোগ্রাফির সঙ্গে যুক্ত ইউসুফ তুষার জানান, এআই দিয়ে তৈরি ছবি বাণিজ্যিক ফটোগ্রাফির চাহিদাকে অনেকটা কমিয়ে দিয়েছে। আগে পণ্য বা মডেলের ছবি কিংবা স্টক ফটোগ্রাফির জন্য ক্লায়েন্টরা ফটোগ্রাফারদের ওপর নির্ভর করতেন।

কিন্তু এখন অনেক কোম্পানি কোনো প্রকার শুটিং বা ঝক্কি ছাড়াই এআই ব্যবহার করে প্রয়োজনমতো ছবি তৈরি করে নিচ্ছে।

ইউসুফ তুষার বলেন, ‘আমার আয়ের বড় একটা অংশ এখন নেই। কারণ ক্লায়েন্টরা মনে করেন, বিজ্ঞাপনের জন্য ছবি প্রয়োজন হলে তারা সেটা এআই দিয়েই বানিয়ে নিতে পারবেন।’

ইউসুফ তুষার জানান, এআইয়ের প্রভাবে তার আয় প্রায় ৫০ শতাংশ কমে গেছে।

তুষারের মতে, স্টক ফটোগ্রাফির ক্ষেত্রে এই ধস সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ার মতো। ক্যালেন্ডার বা অন্যান্য বাণিজ্যিক কাজের জন্য ক্লায়েন্টরা এখন আর ছবি কেনার প্রয়োজন বোধ করছেন না।

তিনি বলেন, এই পরিবর্তনটি অনেকটা আগেরকার প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের মতো।

‘আমরা যখন ফিল্ম ক্যামেরা থেকে ডিজিটাল ক্যামেরায় অভ্যস্ত হচ্ছিলাম, তখনও একটা ধাক্কা এসেছিল। তবে এআইয়ের প্রভাব তার চেয়ে অনেক বেশি বড়।’

প্রায় ১৪ বছর ধরে ফ্রিল্যান্সিং করছেন ঢাকার ফ্রিল্যান্সার কাজী মামুন। তিনি জানান, বাজারে কাজের সুযোগ কমে গেছে, অথচ অল্প যেটুকু কাজ বাকি আছে, তা পাওয়ার প্রতিযোগিতা আগের চেয়ে অনেক বেড়ে গেছে।

মামুন জানান, তার নিজের কাজের পরিমাণ প্রায় ২৫ শতাংশ কমেছে। তবে দীর্ঘদিনের সরাসরি ক্লায়েন্ট থাকার কারণে তিনি পরিস্থিতি কিছুটা সামাল দিতে পারছেন। তার পাঁচ সদস্যের টিম এখন আপওয়ার্ক বা ফাইভারের মতো বৈশ্বিক ফ্রিল্যান্সিং প্ল্যাটফর্মগুলোর ওপর পুরোপুরি নির্ভর না করে সরাসরি নতুন ক্লায়েন্ট খোঁজার ওপর বেশি জোর দিচ্ছে।

মামুন বলেন, ‘অনেকের কাজের পরিমাণ অর্ধেকে নেমে এসেছে, কারও আবার ৭০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে। এমনকি অনেকে ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘ক্লায়েন্টরা এখন অনেক কাজ নিজেরাই করার চেষ্টা করছেন। ছোটখাটো