শিরোনাম
◈ দেশের ডেটা দেশে রাখার পথে বাংলাদেশ, বাড়ছে সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণ ◈ নারী এশিয়া কা‌পে আজ রা‌তে শ্রীলঙ্কার মু‌খোমু‌খি বাংলা‌দেশ ◈ রিসোর্ট ভাড়া করে কক্সবাজারে ১ হাজার ৯৩৮টি আইফোন নিয়ে কী করছিলেন চীনা ও তাইওয়ানের নাগরিকেরা? ◈ ম্যানচেস্টার সিটির ক‌ষ্টের জয় ◈ সব ধর‌নের সাম‌রিক সরঞ্জাম ও  প্রযুক্তিতে সজ্জিত শত্রুদের রুখে দিয়েছে ইরান: সেনাবাহিনীর চিফ অব স্টাফ ◈ ২ গোল হজম ক‌রে ৩ গোল দি‌য়ে ‌জিত‌লো ইন্টার মিলান ◈ চল‌তি বছ‌র রূপপুর থেকে বিদ্যুৎ পাওয়ার সম্ভাবনা কম ◈ আ‌র্থিক আয় বাড়া‌তে আমিরাতভিত্তিক স্পনসরশিপ চুক্তির পথে বার্সেলোনা ◈ ইংল‌্যা‌ন্ডে টেস্ট সি‌রি‌জের মাঝে ৭ ক্রিকেটার‌কে দেশে ফেরানোর ব্যাখ্যা দিলেন পাকিস্তান বোর্ডের কর্তা ◈ বিদ্যুৎ বিল নিয়ে সিফাতের অভিযোগ, তদন্তে উঠে এলো নতুন তথ্য

প্রকাশিত : ০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৪৫ দুপুর
আপডেট : ০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৪৬ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

দেশের ডেটা দেশে রাখার পথে বাংলাদেশ, বাড়ছে সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণ

সংবেদনশীল ডেটার ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়াচ্ছে বিশ্বের বড় অর্থনীতি ও প্রযুক্তি শক্তিগুলো। প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের হাতে নাগরিক ও সরকারি তথ্য যাওয়া ঠেকাতে নতুন বিধিনিষেধ এনেছে যুক্তরাষ্ট্র। গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেশের বাইরে নেয়ার ক্ষেত্রে কঠোর নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে চীন। অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দেশগুলোও তাদের তথ্যের সুরক্ষা বজায় রাখা এবং বিদেশী সরকারের অননুমোদিত প্রবেশ ঠেকানোর ওপর জোর দিচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে ‘ডেটা লোকালাইজেশন’ বা দেশের ডেটা দেশের ভেতরেই রাখার নীতি গুরুত্ব পাচ্ছে দক্ষিণ-পূর্ব ও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতেও। সূত্র: বণিক বার্তা প্রতিবেদন

কেউ ডেটা দেশের ভেতরে রাখার নিয়ম কঠোর করছে, আবার কেউ বিদেশী প্রযুক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার ঝুঁকি বিবেচনা করছে। বাংলাদেশও সরকারি ও সংবেদনশীল ডেটার ওপর রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর আইনি কাঠামো তৈরি করছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু ডেটা দেশের ভেতরে রাখলেই হবে না; এর জন্য পর্যাপ্ত অবকাঠামো, দক্ষ জনবল এবং প্রযুক্তিগত ও আইনগত নিয়ন্ত্রণও নিশ্চিত করতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্র ডেটার ওপর নিয়ন্ত্রণে বড় পরিবর্তন আনে ২০২৫ সালের এপ্রিলে। নতুন ডেটা নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় চীন, রাশিয়া, ইরান, উত্তর কোরিয়া, কিউবা ও ভেনিজুয়েলাকে ‘উদ্বেগের দেশ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। চীনের ক্ষেত্রে হংকং ও ম্যাকাওকেও এর অন্তর্ভুক্ত রাখা হয়েছে। এসব দেশ বা তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে সংবেদনশীল তথ্য পৌঁছাতে পারে—এমন ব্যবস্থা নিষিদ্ধ বা সীমিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মানুষের জিনগত তথ্য, সুনির্দিষ্ট অবস্থান, বায়োমেট্রিক পরিচয়, স্বাস্থ্য ও আর্থিক তথ্যসহ বিভিন্ন ধরনের সংবেদনশীল উপাত্ত। যুক্তরাষ্ট্রের আশঙ্কা, এসব তথ্য বিদেশী প্রতিপক্ষের হাতে গেলে তা গুপ্তচরবৃত্তি, অর্থনৈতিক গুপ্তচরবৃত্তি, নজরদারি ও পাল্টা গোয়েন্দা কার্যক্রমে ব্যবহার হতে পারে। এমনকি বিপুল পরিমাণ ব্যক্তিগত তথ্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সামরিক সক্ষমতা তৈরিতেও কাজে লাগতে পারে বলে মনে করছে দেশটি।

এছাড়া কোনো মার্কিন প্রতিষ্ঠানে থাকা সংবেদনশীল তথ্য চীনা প্রতিষ্ঠান বা চীনের নিয়ন্ত্রণাধীন কারো হাতে কীভাবে পৌঁছাতে পারে, সেটিকেও এখন জাতীয় নিরাপত্তার বিষয় হিসেবে দেখছে ওয়াশিংটন।

যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, কোনো ক্লাউড বা যোগাযোগ সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান যুক্তরাষ্ট্রের আইনি এখতিয়ারের আওতায় পড়লে এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য ওই প্রতিষ্ঠানের দখল বা নিয়ন্ত্রণে থাকলে বৈধ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সেই তথ্য চাওয়া যেতে পারে। তথ্যটি যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরের সার্ভারে আছে, নাকি অন্য কোনো দেশে সংরক্ষিত—শুধু সেটি দিয়ে এ আইনের প্রয়োগ নির্ধারিত হয় না।

অন্যদিকে চীনের নীতিতে তথ্য কোথায় সংরক্ষিত হচ্ছে, সেটির ওপর সরাসরি নিয়ন্ত্রণ তুলনামূলক বেশি। দেশটির ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা আইনে সরকারি সংস্থার প্রক্রিয়াকৃত ব্যক্তিগত তথ্য চীনের ভেতরে সংরক্ষণের বিধান রয়েছে। বিদেশে পাঠানো প্রয়োজন হলে রাষ্ট্রীয় সাইবার কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা যাচাইয়ের মুখোমুখি হতে হয়। বিদেশী সরকার চীনের ভেতরে রাখা ব্যক্তিগত তথ্য চাইলে সেখানেও নিয়ন্ত্রণ রেখেছে বেইজিং। চীনের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা আইন অনুযায়ী, দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি চীনে সংরক্ষিত ব্যক্তিগত তথ্য বিদেশী বিচারিক বা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্তৃপক্ষের কাছে দিতে পারবে না। অর্থাৎ চীনা ভূখণ্ডে থাকা তথ্যের ওপর অন্য দেশের আইনি প্রক্রিয়ার সরাসরি প্রয়োগ ঠেকাতে নিজস্ব রাষ্ট্রীয় অনুমোদন ব্যবস্থাও রেখেছে দেশটি।

শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও চীন নয়, অন্য দেশগুলোও ডেটা ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ নিচ্ছে। বিশেষ করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো জাতীয় নিরাপত্তা, ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা এবং বিদেশী প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরতা কমাতে ডেটা দেশের ভেতরে রাখার নীতি জোরদার করছে। ভিয়েতনাম তুলনামূলকভাবে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। ইন্দোনেশিয়ায় সরকারি ও আর্থিক খাতের কিছু তথ্য স্থানীয়ভাবে রাখার নিয়ম রয়েছে।

বাংলাদেশও ডেটার প্রযুক্তিগত ও আইনগত নিয়ন্ত্রণে গুরুত্ব দিচ্ছে। জাতীয় ক্লাউড নীতি ২০২৬-এর খসড়ায় বলা হয়েছে, প্রকৃত ডেটা সার্বভৌমত্বের জন্য তথ্য কোথায় রয়েছে, সেই তথ্যে প্রবেশাধিকার কার নিয়ন্ত্রণে, কে তথ্য ব্যবহারের অনুমতি দেবে এবং কোন দেশের আইনের অধীনে তা প্রক্রিয়াকরণ হচ্ছে—এসবের ওপরও নিয়ন্ত্রণ থাকতে হবে। খসড়ায় বিদেশী প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের প্রবেশ, বিদেশ থেকে দূরবর্তী নিয়ন্ত্রণ এবং তৃতীয় দেশের আইনি দাবির মাধ্যমে সরকারি তথ্যে প্রবেশকে ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

খসড়ায় সরকারি তথ্যকে সংবেদনশীলতার ভিত্তিতে কয়েকটি শ্রেণীতে ভাগ করা হয়েছে। স্বাস্থ্য, কর ও বায়োমেট্রিক তথ্যের মতো উচ্চ সংবেদনশীল তথ্য সার্বভৌম ক্লাউডে এবং জাতীয় নিবন্ধন ও গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় অবকাঠামোর তথ্য জাতীয় ডেটা সেন্টারে রাখার প্রস্তাব রয়েছে। উচ্চ সংবেদনশীল ব্যবস্থায় বিদেশ থেকে দূরবর্তী প্রশাসনিক প্রবেশ নিষিদ্ধ রাখার পাশাপাশি প্রশাসনিক প্রবেশাধিকার বাংলাদেশের এখতিয়ারের অধীন ব্যক্তিদের মধ্যে সীমিত রাখার কথা বলা হয়েছে। বিদেশী কোনো আদালত বা আইনি কর্তৃপক্ষের দাবির ভিত্তিতেও বাংলাদেশ সরকারের অনুমোদন ছাড়া সরকারি তথ্য প্রকাশ করা যাবে না—এমন প্রস্তাবও রয়েছে খসড়ায়।

এছাড়া জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা আইন, ২০২৬-এ বাংলাদেশের সরকারি ও ব্যক্তিগত উপাত্ত কীভাবে সংগ্রহ, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াকরণ, বিনিময় ও আন্তঃপরিচালন হবে তার একটি কেন্দ্রীয় কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। আইনে জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ গঠনের বিধান রয়েছে এবং এ কর্তৃপক্ষকে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উপাত্ত প্রবাহের নীতিমালা প্রণয়ন, সরকারি তথ্যভাণ্ডারের মান নির্ধারণ, সরকারি তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামোর নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত এবং প্রয়োজন হলে বাধ্যতামূলক নির্দেশ দেয়ার ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। আইনটির ৩১ ধারায় রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব, অখণ্ডতা, জননিরাপত্তা, সীমান্ত সুরক্ষা ও জনশৃঙ্খলার সঙ্গে সম্পর্কিত তথ্যকে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ বা সংবেদনশীল উপাত্ত হিসেবে বিবেচনার সুযোগ রাখা হয়েছে; সরকার চাইলে এসব তথ্যের বিনিময় বা আন্তঃপরিচালনে গেজেটের মাধ্যমে বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারবে।

বিশ্লেষকদের মতে, ডেটা দেশের মধ্যে রাখার নীতির সঙ্গে নতুন কিছু ঝুঁকিও তৈরি হয়। কোনো দেশে পর্যাপ্ত ও নিরাপদ তথ্য সংরক্ষণ অবকাঠামো না থাকলে স্থানীয়ভাবে তথ্য রাখার খরচ বেড়ে যেতে পারে। ছোট প্রতিষ্ঠানের পক্ষে উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থা তৈরি করা কঠিন হতে পারে। আন্তর্জাতিক ক্লাউড সেবাদাতাদের ব্যবহার সীমিত হলে বিদেশী বিনিয়োগ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, তথ্য বিশ্লেষণ ও ডিজিটাল সেবার ব্যয়ও বাড়তে পারে। এছাড়া ডেটা শুধু দেশের ভেতরের সীমিতসংখ্যক ডেটা সেন্টারে কেন্দ্রীভূত হলে অগ্নিকাণ্ড, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা বড় ধরনের কারিগরি ত্রুটিতে একসঙ্গে বহু সেবা বিঘ্নিত হওয়ার ঝুঁকিও থাকে। এজন্য স্থানীয়ভাবে ডেটা সংরক্ষণের পাশাপাশি ভিন্ন স্থানে ব্যাকআপ ও দুর্যোগকালীন পুনরুদ্ধার ব্যবস্থা রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।

এখনই খুব কঠোরভাবে ডেটা দেশের ভেতরে রাখার নীতি নেয়া ঠিক হবে না বলে মনে করেন বিজ্ঞানী ও প্রযুক্তিবিদ ড. মশিউর রহমান। সিঙ্গাপুরে ওমরন হেলথকেয়ারের ইঞ্জিনিয়ারিং ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত এ প্রযুক্তিবিদ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আগে দেখতে হবে আমাদের প্রয়োজনীয় অবকাঠামো আছে কিনা। পর্যাপ্ত ডেটা সেন্টার রয়েছে কিনা এবং সেগুলো পরিচালনা ও সার্বক্ষণিক নজরদারির জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবল আছে কিনা—এগুলো গুরুত্বপূর্ণ। সিঙ্গাপুরে অ্যামাজনের মতো প্রতিষ্ঠানের সার্ভার ও ডেটা সেন্টার পরিচালনায় বিশেষায়িত দক্ষ জনবল কাজ করে।

বাংলাদেশে একই ধরনের সক্ষমতা তৈরি হয়েছে কিনা, সেটিও বিবেচনায় নিতে হবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘ব্যবসা ও ডিজিটাল অর্থনীতি আরো বড় হলে ধীরে ধীরে ডেটা দেশের ভেতরে রাখার দিকে যাওয়া যেতে পারে। একসময় এটি করতেই হবে, তবে তার আগে অনেক প্রস্তুতি প্রয়োজন। ডেটা সুরক্ষা অবশ্যই দরকার, কিন্তু তার আগে পর্যাপ্ত অবকাঠামো ও দক্ষ জনবল নিশ্চিত করতে হবে।’

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেটা দেশের ভেতরে রাখার নীতি নিলেও বিদেশী প্রযুক্তিনির্ভরতা পুরোপুরি কমে না। স্থানীয় ডেটা সেন্টারের সার্ভার, সফটওয়্যার, কারিগরি সহায়তা ও রক্ষণাবেক্ষণ বিদেশী প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরশীল থাকলে প্রযুক্তিগত নিয়ন্ত্রণও তাদের হাতে থেকে যেতে পারে। ফলে ডেটা কোথায় রাখা হচ্ছে, তার পাশাপাশি অবকাঠামোর প্রযুক্তিগত নিয়ন্ত্রণ কার হাতে রয়েছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। শুধু তথ্যের অবস্থান বদলে প্রযুক্তিগত নির্ভরতা কমানো যায় না।

বাংলাদেশের লক্ষ্য শুধু ডেটা দেশের ভেতরে রাখা হওয়া উচিত নয়; সংবেদনশীল ও কৌশলগত ডেটার ওপর রাষ্ট্রের কার্যকর নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত বলে মনে করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহা। তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘সার্ভার বাংলাদেশে থাকলেও যদি তথ্যে প্রবেশাধিকার, ক্লাউড অবকাঠামো বা প্রযুক্তিগত নিয়ন্ত্রণ বিদেশী প্রতিষ্ঠানের হাতে থাকে, তাহলে সেটিকে পূর্ণ ডেটা সার্বভৌমত্ব বলা যায় না। জাতীয় নিরাপত্তা, এনআইডি, বায়োমেট্রিক, আর্থিক তথ্য, আইন-শৃঙ্খলা এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অবকাঠামোর ডেটার ক্ষেত্রে তথ্য কোথায় থাকবে, কে তা দেখতে পারবে, কে প্রক্রিয়াকরণ করবে এবং কোন দেশের আইন সেই ডেটার ওপর কার্যকর হবে—এসব স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা প্রয়োজন।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের এখন ঝুঁকির মাত্রা অনুযায়ী ডেটা দেশে রাখার নীতি এবং সার্বভৌম ডেটা ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন। একই সঙ্গে নিজস্ব ক্লাউড ও ডেটা সেন্টার অবকাঠামো, দুর্যোগকালীন বিকল্প ব্যবস্থা, দক্ষ জনবল, সাইবার নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ সক্ষমতা, তথ্যের প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ এবং স্বাধীন নিরাপত্তা নিরীক্ষার সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে। বিদেশী প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতাও কমাতে হবে। সহজভাবে বললে, ডেটা দেশে রাখা প্রথম ধাপ; এর প্রযুক্তিগত, প্রশাসনিক ও আইনগত নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশের হাতে রাখাই চূড়ান্ত লক্ষ্য।’

বিশেষজ্ঞদের মতে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জন্য এ হিসাব আরো জটিল। কারণ এ অঞ্চলের বেশির ভাগ দেশই যুক্তরাষ্ট্র বা চীনের মতো নিজস্ব বৃহৎ ক্লাউড ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অবকাঠামো গড়ে তুলতে পারেনি। তাদের একদিকে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি প্রয়োজন, অন্যদিকে কোনো একটি দেশের প্রতিষ্ঠানের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা জাতীয় নিরাপত্তার ঝুঁকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের হাডসন ইনস্টিটিউটের ‘দ্য জিওপলিটিকস অ্যান্ড রিস্কস অব ডেটা লোকালাইজেশন ইন সাউথইস্ট এশিয়া’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর অধিকাংশেরই যুক্তরাষ্ট্র বা চীনের মতো বিশাল নিজস্ব প্রযুক্তি অবকাঠামো নেই। বড় ক্লাউড সেবা, উচ্চ ক্ষমতার কম্পিউটিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কিংবা তথ্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রে বিদেশী প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন হয়। ফলে কোনো একটি দেশের প্রযুক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা করতে গিয়ে যেন অন্য আরেকটি দেশের ওপর নির্ভরতা বেড়ে গেলে ডেটা সুরক্ষার উদ্দেশ্য অর্জিত নাও হতে পারে।

সম্প্রতি ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ডেটা সুরক্ষার বিষয়ে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ। তিনি বলেন, ‘সংবেদনশীল ও ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষায় পপুলেশন রেজিস্ট্রিকে অন্যান্য সিস্টেম ও এপিআই থেকে আলাদা করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ডেটা লোকালাইজেশন ও নিরাপত্তা জোরদারে ন্যাশনাল ডেটা গভর্ন্যান্স অথরিটি গঠন করা হয়েছে।’

তবে শুধু ডেটা দেশের ভেতরে রাখলেই শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষ্য, সাইবার নিরাপত্তায় কোনো ব্যবস্থাকেই শতভাগ সুরক্ষিত বলা যায় না। ডেটা সুরক্ষায় বহুস্তরের নিরাপত্তা অবকাঠামো ও নিয়মিত নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে। রেহান আসিফ আসাদ বলেন, ‘ডেটা সুরক্ষায় বাংলাদেশ আইনি ও প্রযুক্তিগত—দুই দিকেই এগোচ্ছে। আইনি কাঠামোর পাশাপাশি পপুলেশন রেজিস্ট্রিকে পৃথক করা, এপিআই ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা, অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য ফাঁস ঠেকানো এবং এআই কম্পিউটিং সক্ষমতা তৈরির কাজ চলছে।’

  • সর্বশেষ