শিরোনাম
◈ ক্যাটারিং ট্রাক থেকে বাঙ্কার, ট্রাম্পকে নিরাপদে সরানোর যত গোপন কৌশল ◈ বিশ্ব তারকা লা‌মি‌নে ইয়ামাল বন্ধুর বোনের সঙ্গে লুকিয়ে প্রেম করছেন? এক্সে ভাইরাল ভিডিওতে ফাঁস করলেন প্রেমিকা! ◈ আচরণবিধি চূড়ান্ত, ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি ◈ ১৯৯১ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন যেভাবে হয়েছিল ◈ উদ্যোক্তা হতে তরুণদের জন্য সহজ ঋণ, জামানত ছাড়াই মিলবে ১০ লাখ টাকা ◈ কলম্বিয়ায় ভয়াবহ ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ২২৪, এখনও চলছে খোঁজ ◈ আমরা সবাই বাংলাদেশের অধিবাসী, কেউ আদিবাসী নই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ◈ সাভারে ভবন ঘিরে রেখেছে সিটিটিসি, যা জানাল পুলিশ (ভিডিও) ◈ দিল্লিতে মোদির সঙ্গে বৈঠকে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার ◈ রাষ্ট্রপতি ভোটের বৈঠক আহ্বান করলেন সিইসি

প্রকাশিত : ১২ আগস্ট, ২০২৬, ০৯:৪২ সকাল
আপডেট : ১২ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৩২ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

টেলিস্কোপে ধরা পড়ল সূর্যের চেয়ে ২০ গুণ বড় নক্ষত্রের বিস্ফোরণ

সূর্যের চেয়ে প্রায় ২০ গুণ বড় একটি নক্ষত্রের ধ্বংসযজ্ঞ—সুপারনোভা বিস্ফোরণ—এবার ধরা পড়েছে অভূতপূর্ব বিশদে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের টেলিস্কোপ একযোগে কাজ করে এই বিরল মহাজাগতিক ঘটনার প্রথম মুহূর্তগুলো ধারণ করেছে, যা জ্যোতির্বিজ্ঞানে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।

ঘটনাটির সূচনা হয় মার্চ মাসে, যখন চীনের আইনস্টাইন প্রোব মহাকাশ টেলিস্কোপ একটি অস্বাভাবিক এক্স-রে ঝলক শনাক্ত করে। মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যেই পৃথিবীর বিভিন্ন স্থাপিত টেলিস্কোপ সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং দ্রুত এটিকে একটি সুপারনোভা বিস্ফোরণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এরপর নবগঠিত ভেরা সি. রুবিন অবজারভেটরি সহ বিশ্বের শীর্ষ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রগুলো সমন্বিতভাবে ঘটনাটি পর্যবেক্ষণে যুক্ত হয়।

জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা জানান, প্রায় ৫০ কোটি আলোকবর্ষ দূরে সংঘটিত এই বিস্ফোরণের আলো সময়ের সঙ্গে কীভাবে পরিবর্তিত হয়েছে, তার একটি বিস্তারিত মানচিত্র তৈরি করা সম্ভব হয়েছে। গবেষণার ফলাফল দুটি পৃথক প্রবন্ধে প্রকাশিত হয়েছে, যা ১৪ জুলাই ‘দ্য অ্যাস্ট্রোফিজিক্যাল জার্নাল লেটার্স’-এ স্থান পায়।

বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে ‘শক ব্রেকআউট’ পর্যায়ে—যে মুহূর্তে বিস্ফোরণের প্রথম আলো একটি শক্তিশালী শকওয়েভ হিসেবে ছড়িয়ে পড়ে। এই পর্যায়টি অত্যন্ত ক্ষণস্থায়ী হওয়ায় সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা কঠিন। গত দুই দশকে এটি মাত্র দ্বিতীয়বারের মতো এত স্পষ্টভাবে ধরা পড়েছে।

গবেষকরা এই ঘটনাটিকে ‘টাইপ আইস ব্রড-লাইনড (আইসি-বিএল) সুপারনোভা’ হিসেবে শনাক্ত করেছেন। সাধারণত এ ধরনের বিস্ফোরণে আলোর গতির কাছাকাছি বেগে চলা জেট তৈরি হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে গামা-রে বার্স্ট দেখা যায়। তবে এই ক্ষেত্রে কোনো গামা-রে বিস্ফোরণের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বিজ্ঞানীদের ধারণা, জেটটি হয় নক্ষত্রের পৃষ্ঠ বা আশপাশের ঘন পদার্থ দ্বারা আটকে গেছে।

চিলির ভিক্টর এম. ব্লাঙ্কো ৪-মিটার টেলিস্কোপের ডার্ক এনার্জি ক্যামেরার দীর্ঘমেয়াদি তথ্য বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা বিস্ফোরণের স্থানে একটি ‘নীল উৎস’ শনাক্ত করেন। এটি বিস্ফোরণের আগের নক্ষত্র ও তার পরিবেশ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র দেয়।

অন্যদিকে, জেমিনি নর্থ ও জেমিনি সাউথ টেলিস্কোপ ব্যবহার করে আরেকটি গবেষক দল বিস্ফোরণের গঠন ও বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে নিশ্চিত করেছে যে এটি একটি জেটবিহীন Ic-BL সুপারনোভা। তারা নক্ষত্রটির ধ্বংসের আগে তার পরিবেশ ও গঠন সম্পর্কেও বিশদ তথ্য সংগ্রহ করেছে।

ধ্বংসপ্রাপ্ত নক্ষত্রটি ছিল ‘উলফ-রেয়েট’ শ্রেণির, যার ভর সূর্যের প্রায় ২০ গুণ। জীবনের শেষ পর্যায়ে এটি অধিকাংশ হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম হারিয়ে ফেলে এবং কার্বন ও অক্সিজেন অবশিষ্ট থাকে। বিস্ফোরণের আগে নির্গত পদার্থগুলো নক্ষত্রকে ঘিরে স্তর তৈরি করেছিল, যা পরবর্তীতে পৃথক সংকেত হিসেবে ধরা পড়ে।

বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এই পর্যবেক্ষণ ভবিষ্যতে নক্ষত্রের মৃত্যুপ্রক্রিয়া ও তাদের বিস্ফোরণ-পূর্ব আচরণ বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সূত্র: রুপালি বাংলাদেশ

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়