শিরোনাম
◈ কমার বদলে বাড়ছে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার হার ◈ মন্ত্রিসভায় আসছে নতুন মুখ ◈ বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ ও বাণিজ্যিক পণ্য উৎপাদনের মহাপরিকল্পনা ◈ দাপু‌টে জ‌য়ে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে বাংলাদেশ ◈ সৌদি-পাকিস্তান-তুরস্কের ঐতিহাসিক প্রতিরক্ষা চুক্তি, বদলে যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের সমীকরণ ◈ ‘শিল্পীরাও এই দেশের মানুষ’, কনসার্টের ঘটনা নিয়ে হাসান ◈ কর্মপরিকল্পনার ১৮০ দিন শেষ, মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের পারফরম্যান্স মূল্যায়ন; হতে পারে দপ্তর রদবদল ◈ হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে বলাকা লাউঞ্জে আগুন ◈ ইয়েমেনে ফের উত্তেজনা, হুতিদের হামলায় নিহত ৫৮ সেনা ◈ বোমা হামলার আশঙ্কায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারির খবর, পুলিশ বলছে গুজব

প্রকাশিত : ০৮ আগস্ট, ২০২৬, ০৮:৩৬ সকাল
আপডেট : ০৮ আগস্ট, ২০২৬, ০৯:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

শিশুদের ক্ষতি ও যৌন শোষণের অভিযোগে মেটাকে ৭ হাজার কোটি টাকা জরিমানা

সোশ্যাল মিডিয়া কোম্পানি মেটাকে ৫৬৭ মিলিয়ন ডলার বা ৫৬ কোটি ৭০ লাখ ডলার জরিমানা পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত। দেশটির নিউ মেক্সিকোর একজন মার্কিন বিচারক এই রায় দেন। বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকার মতো।

বৃহত্ এই সোশ্যাল মিডিয়া কোম্পানিকে ‘জনদুর্ভোগের’ বিষয় হিসেবে অভিহিত করে বায়ুদূষণের সঙ্গে তুলনা করেছেন বিচারক ব্রায়ান বিয়েডশেইড। এছাড়া, জরিমানার এই অর্থ, ভবিষ্যত্ ক্ষতি কমানোর উদ্দেশ্যে তৈরি একটি তহবিলে জমা দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি। এই মামলায় প্রতিষ্ঠানটিকে আগেও ৩৭৫ মিলিয়ন ডলার জরিমানার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, যার অতিরিক্ত হিসেবে এই রায় এসেছে। অর্থাত্ সব মিলিয়ে মোট জরিমানার পরিমাণ ৯৪২ মিলিয়ন ডলার। বিচারক বিয়েডশেইড মেটার তুলনা করেছেন একটি কারখানার সাথে, যার বিজ্ঞাপন এবং কনটেন্ট হলো পণ্য এবং শিশুদের মনস্তাত্ত্বিক ক্ষতি ও যৌন শোষণ হলো সেই দূষণ যা দূর করতেই হবে। ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ এবং থ্রেডসের মতো প্রতিষ্ঠানের মালিক ও পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান মেটা।

প্রতিষ্ঠানটির একজন মুখপাত্র বৃহস্পতিবার বলেছেন, ‘আমরা এই রায়ের সাথে দ্বিমত পোষণ করছি এবং আপিল করব। আমরা আমাদের প্ল্যাটফরমে ব্যবহারকারীদের নিরাপদ রাখতে কঠোর পরিশ্রম করি এবং ক্ষতিকর কনটেন্ট শনাক্ত ও অপসারণের চ্যালেঞ্জগুলো সম্পর্কে স্বচ্ছ ছিলাম। অনলাইনে কিশোর-কিশোরীদের সুরক্ষায় আমাদের কাজের ব্যাপারে আমরা আত্মবিশ্বাসী’। এই মামলায় আগের ৩৭৫ মিলিয়ন ডলারের রায়ের ক্ষেত্রেও মেটা একই রকম ব্যাখ্যা দিয়ে জানিয়েছিল যে তারা আপিল করবে। শিশু সুরক্ষা সংক্রান্ত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মেটার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম। তবে, বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এই ধরনের সমস্যা নিয়ে হাজার হাজার মামলার মুখোমুখি হচ্ছে মেটা।

নিউ মেক্সিকোর রায় ছাড়াও চলতি বছরের শুরুর দিকে লস অ্যাঞ্জেলেসে একই ধরনের একটি মামলায় হেরেছিল প্রতিষ্ঠানটি। নিউ মেক্সিকোয় ২০২৩ সালে হওয়া মামলাটি করেছিলেন ঐ রাজ্যের কয়েক জন আইনজীবী। যেখানে যুক্তি দেওয়া হয়েছিল, মেটার প্ল্যাটফর্মগুলো যেভাবে শিশুদের বিপদে ফেলেছে এবং তাদের যৌন উত্তেজক উপাদান ও যৌন শিকারিদের সংস্পর্শে এনেছে, তার জন্য মেটাকে দায়বদ্ধ করা উচিত। বিচারের প্রথম ধাপে দেখা গিয়েছিল, মেটা বারবার নিউ মেক্সিকোর অন্যায্য অনুশীলন আইন বা আনফেয়ার প্রাকটিসেস অ্যাক্ট লঙ্ঘন করেছে। যেখানে দেখানো হয় যে, মেটার সুপারিশমূলক অ্যালগরিদমগুলো মূলত কম বয়সি ব্যবহারকারীদের ক্ষতিকর কনটেন্ট এবং যোগাযোগের দিকে ‘ধাবিত’ করছে। সুপারিশমূলক অ্যালগরিদম হলো এমন সব টুল যা মেটা ব্যবহারকারীদের প্ল্যাটফরমে দেখা কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজাতে ব্যবহার করে।

মামলার দ্বিতীয় ধাপের রায় দিতে গিয়ে বিচারক বিয়েডশেইড দেখেছেন যে, মেটার ক্ষতি ‘জনদুর্ভোগ’ বা একটি স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা সমস্যায় পৌঁছেছে। যা এতটাই ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে যে এটি সাধারণ জনগণের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। শিশু সুরক্ষা সংক্রান্ত বিষয়ে মেটার ওপর যেসব জরিমানা করা হয়েছে, এটিই তার মধ্যে বৃহত্তম এবং প্রথম ঘটনা বলে মনে করা হচ্ছে যেখানে কোনো সোশ্যাল মিডিয়া কোম্পানিকে জনদুর্ভোগ সৃষ্টিকারী হিসেবে ঘোষণা করা হলো। বিচারক লিখেছেন, ‘একটি কারখানা থেকে উত্পাদিত বিষাক্ত দূষণ যেমন সাধারণ জনস্বার্থের ক্ষতি করতে পারে, তেমনি শিশুদের ওপর মেটার প্ল্যাটফরমগুলোর ক্ষতিকর প্রভাব কেবল এর প্ল্যাটফরমগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না।’ সূত্র: বিবিসি

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়